বাঁধ খুলে দিয়েছে ভারত পানি বিপদসীমার ওপরে

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে গজলডোব পয়েন্টের সবকটি বাধ খুলে দিয়েছে ভারত। ১৯ অক্টোবর রাত ১১টার দিকে বিপৎসীমার ৩৩.২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয় পানি। পরে ২০ অক্টোবর সন্ধ্যায় তা বিপৎসীমার ৮০ সেন্টিমিটার অতিক্রম করে। ভারতীয় অংশে গত কয়েকদিন প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ার কারণে পানি বিপদসীমার ওপরে উঠে যাওয়ায়, ফলে তিস্তা ব্যারেজের গজলডোবার ৪৪টি গেট খুলে দেয় গজলডোবা ব্যারেজ কর্তৃপক্ষ। পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গেই প্লাবিত হয় নীলফামারীর ছয়টি ইউনিয়নের ১৫টি গ্রাম। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়ে প্রায় ১০ হাজার পরিবার। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার কয়েক হেক্টর জমির ধান ও সবজি। ডিমলা উপজেলা কৃষি কর্মকতা সেকান্দার আলী বলেন, ডিমলা উপজেলায় প্রায় ১৫.৫ হেক্টর জমির রোপা আমন ও ১৭ হেক্টর জমির সবজি পানিতে তলিয়ে গেছে। যা তিস্তাপাড়ের মানুষের মূল্যবান সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। ২০ অক্টোবর দুপুর ১২টা থেকে ২১ অক্টোবর দুপুর ১২টা পর্যন্ত সুন্দরগঞ্জ পয়েন্টে ১৫০ সেন্টিামিটার পানি বেড়েছে। ফলে তিস্তা নদীর পানি সুন্দরগঞ্জ পয়েন্টে বিপদসীমার ২৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর, কাপাসিয়া ও তারাপুর ইউনিয়নের চরাঞ্চলের দ্রুত পানি উঠতে শুরু করেছে। গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হান বলেন, বৃষ্টি ও উজানের ঢলে পানি বেড়েছে। তিস্তাপাড়ের লোকজনের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তিস্তা নদীর ভয়ংকর রূপ আর গর্জনে পানিবন্দি লোকজনের চোখে ঘুম নেই। তারা এখন বিশুদ্ধ পানি ও খাবার-সংকটে ভুগছেন। রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় তিস্তা নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বাড়িঘরে উঠেছে পানি। ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরা। রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ১৯ অক্টোবর সকালের দিকে তিস্তার পানি দোয়ানি পয়েন্টে বিপৎসীমার ৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। দুপুর ১২টার দিকে আরো ১০ সেন্টিমিটার বেড়ে তা ৭০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। রাত ১০টার দিকে ১৪ সেন্টিমিটার কমলেও বিপৎসীমার ৫৬ সেন্টিমিটার ওপরে ছিল পানি। তিস্তায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চরের নিম্নাঞ্চলে আবাদ করা ধান, আলু ও রবি ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা। চরে কয়েক শত হেক্টর জমিতে আগাম আলু রোপন করা হয়েছিল। কিন্তু আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন চাষিরা।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..