সাম্প্রদায়িক হামলা

প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

সাম্প্রদায়িক হামলা রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে সিপিবি সূত্রাপুর থানার মানববন্ধন [ ছবি: রতন দাস ]
একতা প্রতিবেদক : রংপুরের পীরগঞ্জে হিন্দু পল্লীতে সাম্প্রদায়িক হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও চাল, ডাল, তেল, চিনিসহ নিত্য প্রয়োজনীয় সকল পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে রংপুরে বাম গণতান্ত্রিক জোটের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ। পীরগঞ্জের রমানাথপুর হিন্দু পল্লীতে অগ্নিসংযোগ, গৃহপালিত পশু, ধান-চাল, হাড়ি-পাতিলসহ সর্বস্ব লুটপাটের প্রতিবাদে এবং সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ সৃষ্টির পরিকল্পনাকারীদের চিহ্নিত করে বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক প্রদান এবং নিত্য প্রয়োজনীয় সকল পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বাম গণতান্ত্রিক জোট রংপুর জেলা শাখার উদ্যোগে গত ১৮ অক্টোবর সকাল ১১:৩০টায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। প্রেসক্লাব হতে মিছিল শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পায়রা চত্তরে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বাম গণতান্ত্রিক জোট ও বাসদ (মার্কসবাদী), রংপুর জেলার সমন্বয়ক আনোয়ার হোসেন বাবলুর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বাসদ রংপুর জেলার আহ্বায়ক ক আব্দুল কুদ্দুস, সদস্যসচিব মমিনুল ইসলাম, সিপিবি রংপুর মহানগরের সাধারণ সম্পাদক রাতুজ্জামান রাতুল প্রমূখ। নেতৃবৃন্দ বলেন, সাম্প্রদায়িক অপরাধের বিচারহীনতা, ক্ষমতায় থাকার জন্য মৌলবাদীদের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টায় তাদেরকে সরকারের পরোক্ষ মদত দেয়ায় দেশজুড়ে সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছড়িয়ে পড়েছে। অবিলম্বে এই নোংরা খেলা বন্ধ করতে হবে। অহেতুক বিরোধী পক্ষের উপর দোষ না চাপিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক

শাস্তি দিতে হবে। অবিলম্বে সরকারি উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের নতুন ঘরবাড়ি নির্মাণ, খাবার ও নগদ অর্থ দিতে হবে। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের স্বার্থে সরকার নিত্য প্রয়োজনীয় সকল পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিয়ে দায়সারা বক্তব্য দিয়ে বেড়াচ্ছে। টিসিবির বিক্রয় কেন্দ্রগুলিতে ব্যাপক দুর্নীতি। এসব কেন্দ্র থেকে মানুষ তার প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে পারে না। একসাথে তিনটি পণ্যের প্যাকেজ ৫০০/৬০০ টাকা দিয়ে কিনতে হয়। ফলে নিম্ন আয়ের মানুষ তা কিনতে পারেনা। মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ ভীষণ সংকটে পড়েছে। সরকারের প্রতি মানুষের ক্ষোভ-বিক্ষোভ বাড়ছে। এই সময়ে মানুষের দৃষ্টিকে ভিন্ন দিকে সরানোর জন্য এসব ঘটনা ঘটানো হচ্ছে কিনা তাও ভেবে দেখার বিষয়। মানিকগঞ্জে প্রতিবাদী সমাবেশ : কুমিল্লাসহ সারাদেশে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর হামলা-ভাংচুরের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে হামলাকারী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে মানিকগঞ্জ প্রতিবাদী বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন সহ প্রগতিশীল গণসংগঠনের উদ্যোগে ২১ অক্টোবর বেলা ১১টায় মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাব চত্বর ও মানিকগঞ্জ আইনজীবী সমিতি প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি মানিকগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আবুল ইসলাম সিকদারের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, কৃষক সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আজহারুল

ইসলাম আরজু, সিপিবির জেলা কমিটি সহসভাপতি হরিপদ সূত্রধর, সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন মানিকগঞ্জ জেলা সংসদের সভাপতি এম আর লিটন, যুব ইউনিয়ন জেলা শাখার সভাপতি আসাদুজ্জামান সেন্টু, কৃষক সমিতির জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সেতোয়ার হোসেন খান, ক্ষেতমজুর সমিতির জেলা কমিটির সভাপতি আব্দুল মান্নান, সাধারণ সম্পাদক আশরাফ সিদ্দিকী, প্রগতি লেখক সংঘ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, খেলাঘর বায়রা শাখার সাধারণ সম্পাদক সম্পাদক প্রদীব হালদার প্রমুখ। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন কমিউনিস্ট পার্টি জেলা কমিটির সহসাধারণ সম্পাদক আরশের আলী। সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, কুমিল্লায় কথিত কোরানের অবমাননা করার অজুহাতে পূঁজা মণ্ডপে হামলা করা হয়েছে। এ ঘটনার জেরে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে তৌহিদী জনতার নামে মিছিল করে মন্ডপে হামলা, ভাংচুর ও সেখানে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, হাতিয়ায় এবং বাঁশখালীসহ সারা দেশেই এবং বান্দরবানসহ বিভিন্ন স্থানে হামলার ঘটনা ঘটেছে যা পূর্ব পরিকল্পিত ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত। নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ এখানে হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সব ধর্মের ও জাতির মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে। ধর্মভিত্তিক পাকিস্তান রাষ্ট্রের সাথে ছেদ ঘটিয়ে স্বাধীন সার্বভৌম ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছে। কিন্তু বর্তমান সরকারসহ স্বাধীনতা উত্তর গত ৫০ বছরে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসীন সকল সরকারই ধর্মান্ধ সাম্প্রদায়িক শক্তির সাথে আপোষ আঁতাত

করে ক্ষমতায় থাকা বা ক্ষমতায় যাওয়ার নির্লজ্জ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়ে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনাকে বিসর্জন দিয়েছে। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, কুমিল্লাসহ সারাদেশে সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার-বিচারের দাবি জানান। একই সাথে ধর্মান্ধ-সাম্প্রদায়িক অপশক্তি ও শাসকশ্রেণির সকল ষড়যন্ত্র-চক্রান্তের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা, দ্রব্যমূল্যবৃদ্ধি রোধ ও গণতন্ত্র-ভোটাধিতার প্রতিষ্ঠার জন্য সকল বাম প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল-ব্যক্তি-গোষ্ঠীকে ঐক্যবদ্ধ গণআন্দোলন গড়ে তোলার জন্য আহ্বান জানান। সমাবেশ শেষে এক বিক্ষোভ মিছিল শহীদ রফিক সড়ক প্রদক্ষিণ করে। শরীয়তপুরে বিক্ষোভ সমাবেশ: দেশব্যাপী সামপ্রদায়িক হামলা ও দ্রব্য মূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে শরীয়তপুরে বামগণতান্ত্রিক জোটের বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশ থেকে বক্তৃতারা সকল সাম্প্রদায়িক হামলার তীব্র নিন্দা জানান। দোষীদের দৃষ্টান্ত শাস্তির দাবি করেন বক্তারা। ব্যর্থ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অপসারণ দাবি করা হয়। বক্তারা বলেন, ৭২ এর ৪ মূলনীতি থেকে সরে দেশ পরিচালনার কারণে দেশে সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান ঘটছে, তাই ৭১ এর চেতনায় ৭২ সংবিধান পুনবহাল করে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র পরিচালনার দাবি করেন। সিপিবি শরীয়তপুর জেলা সভাপতি নুরুল হক ঢালীর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন, সিপিবি শরীয়পুর জেলার সহ সাধারণ সম্পাদক এড.আজিজুর রহমান রোন, ছাত্র ইউনিয়ন শরিয়তপুর জেলা সংসদ এর সভাপতি সাইফ

রুদাদ, শরীয়তপুর শহর সংসদের সভাপতি প্রিতম কুমার রায়। ও সংহতি প্রকাশ করেন উদীচী শরীয়তপুর জেলা সংসদের সভাপতি এম. এম. আলমগীর। সভা সঞ্চালনা করেন সিপিবি জেলা কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম রিপন। গাইবান্ধায় বাম জোটের বিক্ষোভ সমাবেশ : সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা ও দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির প্রতিবাদে এবং বাজার সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম বন্ধ, সর্বত্র ওএমএস বিক্রয় কেন্দ্র চালু ও সারাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পূজামণ্ডপে-বাড়ীঘরে হামলার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনার দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট, গাইবান্ধা জেলা। সোমবার বেলা ১২টায় গাইবান্ধা শহরের ডিবি রোডে ১নং রেল গেইট এলাকায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাম গণতান্ত্রিক জোটের জেলা সমন্বয়ক ও সিপিবি’র জেলা সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মুকুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য মিহির ঘোষ, বাসদ (মার্কসবাদী) জেলা আহবায়ক আহসানুল হাবীব সাঈদ, সিপিবি’র সাবেক জেলা সভাপতি ওয়াজিউর রহমান রাফেল, জেলা বাসদ সমন্বয়ক গোলাম রব্বানী, বাসদ (মার্কসবাদী) জেলা সদস্য কাজী আবু রাহেন শফিউল্যাহ, ওয়ার্কার্স পার্টি (মার্কসবাদী) জেলা নেতা মৃণাল কান্তি বর্মণ, বাসদ জেলা ফোরাম সদস্য সুকুমার মোদক, বাসদ মার্কসবাদী জেলা নেতা নিলুফার ইয়াছমিন শিল্পী প্রমুখ। সমাবেশে বক্তারা বলেন, বিগত কয়েক বছরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়ীঘর-মন্দিরে বারবার হামলার

ঘটনা ঘটছে, সরকার কোনটিরই সঠিক বিচার করতে পারে নাই। মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে দেশের নাগরিকরা এমন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবে তা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আর এর দায় বর্তমান সরকার কোনভাবেই এড়াতে পারে না। সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর সাথে বারবার আপোষ করার কারণে তারা আরও বেশি উৎসাহিত হয়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে যখন দেশের মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে, মানুষ যখন বিক্ষুব্দ হয়ে উঠছে সেই সময় দেশে সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা মানুষের দৃষ্টিকে অন্যদিকে ঘোরানোর চেষ্টা কিনা তাও প্রশ্ন করেন। তারা বলেন, এসব ঘটনায় একপক্ষ অপর পক্ষকে দোষ চাপিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা না করে সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের দাবি করেন। সেইসাথে গ্রামে শহরে সর্বত্র ওএমএস, টিসিবি’র সরবরাহ বাড়িয়ে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আনার দাবি করেন। গাইবান্ধায় বাম জোটের বিক্ষোভ মিছিল : কুমিল্লা, রংপুর, নোয়াখালীসহ সারাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মন্দির, বাড়ীঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অব্যাহত হামলা, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে গাইবান্ধায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় ১নং রেল গেইট থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ১নং ট্রাফিক মোড়ে শেষ হয়। বাম জোটের জেলা সমন্বয়ক ও জেলা সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মুকুলের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জেলা কমিউনিস্ট পার্টির

সভাপতি ও কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য মিহির ঘোষ, বাসদ (মার্কসবাদী) জেলা আহ্বায়ক আহসানুল হাবীব সাঈদ, ওয়ার্কার্স পার্টি (মার্কসবাদী) জেলা সভাপতি রেবতী বর্মন, জেলা বাসদ সমন্বয়ক গোলাম রব্বানী, বাসদ মার্কসবাদী নেতা কাজী আবু রাহেন শফিউল্যাহ প্রমুখ। বক্তারা বলেন, সারাদেশে সাম্প্রদায়িক হামলা, অগ্নিসংযোগের ঘটনার দায় সরকার এড়াতে পারে না। হামলায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, ক্ষতিগ্রস্ত মন্দির, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও আহত-নিহতদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানান। সেই সাথে ব্যর্থ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অপসারণ দাবি জানান। চট্টগ্রামে প্রগতিশীল রাজনৈতিক সংগঠনসমূহ সমাবেশ : “জেএমসেন হলের পূজামন্ডপে সাম্প্রদায়িক হামলা রোধ করতে প্রশাসন কেন ব্যর্থ হলো, তার তদন্ত করতে হবে। দেশে সাম্প্রদায়িক বিভেদ সৃষ্টির গভীর চক্রান্ত চলছে। এবং তার নির্মম বলি হচ্ছেন ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জনগণ। কুমিল্লার পূজামন্ডপে প্রতিমার পায়ের কাছে মুসলিমদের ধর্মগ্রন্থ রেখে দিয়ে সারাদেশে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি ও বিভিন্ন পূজামন্ডপে হামলা পরিকল্পিত। পরিকল্পিতভাবে কোরান অবমাননার ইস্যু সৃষ্টিকারী মহলকে নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত চিহ্নিত ও বিচারের আওতায় আনতে হবে। এ ঘটনার সূত্র ধরে একের পর এক পূজামন্ডপ, মন্দির, হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরবাড়িতে সাম্প্রদায়িক হামলা, হত্যা, অগ্নিসংযোগ, লুটতরাজ চরম ন্যাক্কারজনক। বাংলাদেশের রাষ্ট্র ও সমাজ দুটোকেই যে আজ চরম সাম্প্রদায়িকতা গ্রাস করেছে, তা

স্পষ্ট। এ হামলা প্রতিরোধ করা ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির, পূজামন্ডপ, ঘরবাড়ি, জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার চূড়ান্ত ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। অবিলম্বে সারাদেশে পূজামন্ডপে হামলাকারী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। “ চট্টগ্রাম, কুমিল্লাসহ সারাদেশে পূজামন্ডপে সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে নগরীতে “সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী প্রগতিশীল রাজনৈতিক সংগঠনসমূহ” এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা একথা বলেন। সিপিবি জেলা সাধারণ সম্পাদক অশোক সাহার সভাপতিত্বে বিকাল ৪ টায় নগরীর আন্দরকিল্লাহ মোড়ে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ মাহফুজুর রহমান, গণমুক্তি ইউনিয়ন জেলা সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, গণঅধিকার চর্চা কেন্দ্রের সভাপতি মশিউর রহমান খান, গণসংহতি আন্দোলন জেলা সমন্বয়কারী হাসান মারুফ রুমি, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল জেলা সাধারণ সম্পাদক আমির আব্বাস তাপু, বামজোটের জেলা সমন্বয়ক ও বাসদ নেতা মহিনউদ্দিন, বাসদ (মার্কসবাদী) জেলা সদস্যসচিব শফি উদ্দিন কবির আবিদ, বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলন জেলা নেতা সত্যজিৎ বিশ্বাস, সাবেক কাউন্সিলর জান্নাতুল ফেরদাউস পপি, গণতান্ত্রিক আইনজীবি সমিতির নেতা এড জহিরউদ্দিন মাহমুদ, কবি ও সাংবাদিক সৈকত দে, অগ্নিবীণা পাঠাগারের সংগঠক জাহেদ আহমেদ। সভা শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল আন্দরকিল্লাহ থেকে শুরু হয়ে লালদীঘি, শহীদমিনার হয়ে নিউমার্কেট চত্বরে এসে সমাপ্ত হয়।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..