রাশিয়ার ন্যাটো ত্যাগ

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : ন্যাটো মিশন স্থগিত করেছে রাশিয়া। পাশাপাশি ক্রেমলিন মস্কোতে সামরিক জোট ন্যাটোর দপ্তর বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাশিয়া। সামরিক জোটটিতে থাকা রাশিয়ার আট সদস্যকে ন্যাটো বহিষ্কার করার পর এই ঘোষণা দিল ক্রেমলিন। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্গেই লাভরভ জানিয়েছেন যে ন্যাটোতে তার দেশের মিশন স্থগিত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘‘গত সপ্তাহে সামরিক জোটটির মিশন থেকে আট রুশ কর্মকর্তাকে বহিস্কার করার প্রতিক্রিয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’’ লাভরভ বলেন, মস্কোয় ন্যাটোর দপ্তরের কর্মীদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে, নভেম্বরের পর তাদের কাজ করার অনুমতিপত্র আর নবায়ন করা হবে না। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখন থেকে ন্যাটো জোট আর তার দপ্তরের মাধ্যমে রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে না। তবে রাশিয়ার সঙ্গে কোনো প্রয়োজন থাকলে ন্যাটো ব্রাসেলসের রুশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে। ন্যাটো দাবি করছে, বহিস্কৃতরা আসলে অঘোষিত রুশ গোয়েন্দা কর্মকর্তা। আর এই বহিস্কারের অর্থ হচ্ছে ন্যাটোর ব্রাসেলস কার্যালয়ে কর্মরত রুশ দলের অর্ধেক সদস্য আর সেখানে কাজ করতে পারবেন না। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই বিষয়ে বলেন, ‘‘ইচ্ছাকৃতভাবে ন্যাটো এই সিদ্ধান্ত নেয়ায় আমাদের কার্যত মৌলিত কূটনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতিও নেই। আর ন্যাটোর উদ্যোগের প্রতিক্রিয়াতে আমরা ন্যাটোতে আমাদের স্থায়ী মিশনের ও প্রধান সামরিক দূতের কর্মকাণ্ড স্থগিত করছি। রাশিয়ার এই ঘোষণার জবাবে ন্যাটোর এক মুখপাত্র বলেছেন, ‘‘আমরা গণমাধ্যমে রুশ মন্ত্রী লাভরভের বক্তব্য দেখেছি, তবে তিনি যেসব ইস্যু উত্থাপন করেছেন সেসম্পর্কে আমরা এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা পাইনি।’’ জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাইকো মাস রাশিয়ার এ পদক্ষেপকে ‘উদ্বেগজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন। জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাস জানিয়েছেন যে ন্যাটো মিশন স্থগিত করার রুশ সিদ্ধান্তের কারণে মস্কোর সঙ্গে সম্পর্ক আরো জটিল হয়ে পড়বে। তিনি বলেন, ‘‘ এ ঘটনা শুধু দুঃখজনকই নয় বরং এর ফলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মারাত্মক ক্ষতি হবে। আমাদের এখন ক্রমান্বয়ে স্বীকার করতে হবে যে রাশিয়া সম্ভবত আর সহযোগিতা করতে চাচ্ছে না।’’ উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে মস্কো ক্রাইমীয় উপদ্বীপ দখল করে নিলে রাশিয়া এবং ন্যাটোর মধ্যকার ব্যবহারিক সহযোগিতা স্থগিত হয়ে যায়। তা সত্ত্বেও দুই পক্ষ নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের পথ খোলা রেখেছিল যাতে উচ্চ পর্যায়ের সামরিক সহযোগিতা সহজ হয়। এছাড়া ইউক্রেনে দেশটির বিতর্কিত কর্মকাণ্ডসহ ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন, ন্যাটোর আকাশসীমা লঙ্ঘন, সমুদ্রপথে ন্যাটোর জাহাজগুলো হেনস্থার ঘটনাসহ নানা কারণে পশ্চিমাদের সঙ্গে মস্কোর সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে। এমন উত্তেজনার মাঝেই মাঝেই রাশিয়ার নৌবাহিনী জাপান সাগরে একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে ধাওয়া করেছে। মার্কিন ডেস্ট্রয়ারটি জাপান সাগরে রুশ পানিসীমা লঙ্ঘনের চেষ্টা করছিল। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউ এস এস চ্যাফি রাশিয়ার পানিসীমার খুব কাছাকাছি চলে এলে রুশ নৌ-সেনারা মার্কিন জাহাজকে ধাওয়া করে এবং ওই এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেয়। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চীনের সাথে যৌথ সামরিক মহড়া চালানোর সময় মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ওই এলাকায় যায় কিন্তু তাকে বারবার হুঁশিয়ারি দেয়া সত্ত্বেও সেখানে অবস্থান করে। পরে রুশ সেনারা বাধ্য হয়ে মার্কিন জাহাজকে ধাওয়া দেয়। রাশিয়ার পানিসীমায় মার্কিন জাহাজের অবৈধভাবে ঢুকে পড়ার প্রচেষ্টাকে রাশিয়া আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..