ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন হটানোর ডাক

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিরুদ্ধে শাহবাগ থেকে মশাল মিছিল [ ছবি:  রতন দাস ]
একতা প্রতিবেদক : সারা দেশে অব্যাহত সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস প্রতিরোধ এবং হামলাকারী ও মদদদাতাদের গ্রেপ্তার-বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন হটিয়ে গণতন্ত্র ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে বাম গণতান্ত্রিক জোটের ২১ অক্টোবর দেশব্যাপী ‘সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস প্রতিরোধ দিবস’ পালিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সেদিন বিকেল ৪টায় পল্টন মোড়ে প্রতিরোধ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, ইউসিএলবি’র সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, বাসদ (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় নির্বাহী ফোরামের সদস্য মানস নন্দী, ওয়ার্কার্স পার্টি (মার্কসবাদী) সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবীর জাহিদ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, গণসংহতি আন্দোলনের নেতা বাচ্চু ভুইয়া ও সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতা রুবেল শিকদার। সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে প্রতিষ্ঠিত অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে গত ৫০ বছরে শাসক শ্রেণির দলসমূহ ক্ষমতায় থাকা ও ক্ষমতায় যাওয়ার নির্লজ্জ প্রতিযোগিতায় সাম্প্রদায়িকতাকে মদদ দিয়ে এসেছে। জনগণ যে সাম্প্রদায়িক অশুভ শক্তিকে পরাজিত করেছে, শাসক শ্রেণির প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ আশ্রয়ে প্রশ্রয়ে তা পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। নেতৃবৃন্দ বলেন, সংখ্যাগুরু-সংখ্যালঘু বিবেচ্য নয়, সকল নাগরিকের নিরাপত্তা ও নিজ নিজ ধর্ম আচার-অনুষ্ঠান পালনের নিশ্চয়তা বিধান করা রাষ্ট্রের ও সরকারের দায়িত্ব। কিন্তু অতীতের সকল সরকারের মতোই বর্তমান সরকারও ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। সরকার ক্ষমতার রাজনীতিতে ভোট ব্যাংক হিসেবে সংখ্যালঘুদের ব্যবহার করছে। একদিকে তাদের উপর আক্রমণকারীদের বিচার না করে হামলায় উৎসাহিত করছে অন্যদিকে ঘটনা ঘটার পর হাজির হয়ে ত্রাতা সাজার চেষ্টা করছে। নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমান ভোট ডাকাতির অবৈধ সরকার নাগরিকদের জান, মালের এবং শিক্ষা-স্বাস্থ্য-ভাত-কাপড় ও কাজের নিশ্চয়তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে জনজীবন দিশেহারা। অন্যদিকে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে গণতন্ত্র নির্বাসনে পাঠিয়ে দেশে এক চরম ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন কায়েম করেছে। ফ্যাসিবাদী শাসনই সাম্প্রদায়িকতার জন্ম দেয়। ফ্যাসিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা একে অপরের হাত ধরাধরি করে চলে। নেতৃবৃন্দ বলেন, গত ১৩ অক্টোবর ২০২১ থেকে কুমিল্লায় হিন্দু সম্প্রদায়ের দুর্গাপূজা মণ্ডপে কোরআন রাখাকে কেন্দ্র করে চাঁদপুর, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা, নাটোর, রংপুরসহ সারা দেশে অব্যাহত সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্তত ৪ জন এবং পুুলিশের গুলিতে হামলাকারী মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্তত ৪ জন নিহত হয়েছে। ৭০/৮০টি মন্দির, বেশ কিছু দোকানপাট, বাড়ীঘর ভাংচুর-অগ্নিসংযোগ, লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় সবক্ষেত্রেই প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর রহস্যজনক নিরবতা, নিষ্ক্রিয়তা ও দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার প্রমাণ রয়েছে। যা সরকারের প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত ছাড়া সম্ভব না। নেতৃবৃন্দ বলেন, কুমিল্লার ঘটনায় পূজামণ্ডপে কোরআন রাখার ব্যক্তিকে সিসিটি টিভি ফুটেজ থেকে সনাক্ত করেছে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে। কিন্তু সিসি টিভি ফুটেজ থেকে শনাক্ত করতে ৭ দিন সময় লাগলো কেন? যদি ওইদিন বা পরদিন শনাক্ত করে জানানো হতো তাহলে সারা দেশে পরবর্তী ঘটনা হয়তো নাও ঘটতে পারতো। বিলম্বে প্রকাশের মাধ্যমে কি সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস ছড়িয়ে দিয়ে সরকার রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চাইছে? নেতৃবৃন্দ বলেন, অতীতেও দেশবাসী জজ মিয়া নাটক দেখেছে এবং শুনেছে। এবারেও দেশবাসীর আশংকা শনাক্ত অভিযুুক্তকারী ইকবালকে গ্রেপ্তারের আগেই নেশাগ্রস্ত, পাগল ইত্যাদি অভিধায় ভূষিত করে ঘটনাকে লঘু করার চক্রান্ত চলছে বলে নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন। নেতৃবৃন্দ পূজাকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক হামলা-সন্ত্রাসের জন্য বর্তমান সরকারকে দায়ী করে ব্যর্থতার দায় নিয়ে অবিলম্বে পদত্যাগ করার দাবি জানান। নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের ঘটনাকে পূঁজি করে ভারতে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি, আরএসএস সে দেশের সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের উপর আক্রমণের পাঁয়তারা করছে। ভোটের রাজনীতিতে ফায়দা লুটতে চাইছে। ফলে বাংলাদেশ ও ভারতের সকল শুভবুদ্ধিসম্পন্ন বাম প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল, সংগঠন, ব্যক্তিকে উভয় দেশের সাম্প্রদায়িক অশুভ শক্তির অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদ-প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য নেতৃবৃন্দ আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের বামপন্থি শক্তি ও শান্তিপ্রিয় জনগণের ঐক্যবদ্ধ হওয়া এখন সময়ের দাবি। আর এ ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ-প্রতিরোধের শক্তিই সাম্প্রদায়িকতাকে উপমহাদেশ থেকে নির্মূল করতে পারে। নেতৃবৃন্দ সারা দেশে সাম্প্রদায়িক হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ-পুনর্বাসন, জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; হামলাকারী ও মদদদাতাদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তার-বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান এবং ধর্মভিত্তিক রাজনীতি ও রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার নিষিদ্ধ করার দাবি জানান। ‘এ সরকারের আমলে ঘরে ঘরে ফুলের বদলে আগুন, হাসির বদলে কান্না’: সাম্প্রদায়িক সহিংসতা এবং স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হবার আহ্বানে ২০ অক্টোবর বিকাল ৪টায় ‘সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ’ এর আয়োজনে শাহবাগে নাগরিক বিক্ষোভ ও মশাল মিছিল হয়েছে। কর্মসুচিতে বক্তব্য দেন বাম গণজান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক বজলুর রশীদ ফিরোজ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নু, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্ক্সবাদ) এর কেন্দ্রীয় নেতা মানস নন্দী, ব্যারিস্টার ইমতিয়াজ মাহমুদ, বিপ্লবী ওয়াকার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এম এম আকাশ, কাবেরী গায়েন, জোবাইদা নাসরিন এই কর্মসুচির সাথে সংহতি প্রকাশ করেন। সভায় সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল সেলিম বলেন, মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করেছি। কিন্তু আজ এ সরকারের আমলে ঘরে ঘরে ফুলের বদলে আগুন, হাসির বদলে কান্না। কর্মসুচিতে সাম্প্রতিক সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় জনগণের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অপসারণ এবং জড়িতদের শাস্তি চেয়ে ৮ দফা দাবি সম্বলিত ঘোষণাপত্র পাঠ করা হয়। ঘোষণাপত্রে বলা হয় যে, দেশের গণমাধ্যমের টুঁটি চেপে ধরে, তথ্যপ্রবাহের পথ বন্ধ করে সরকার মূলত একটি স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা কায়েম করেছে। আওয়ামী লীগ নামের ক্ষমতাসীন দলটির কাছে এখন দুটো ভয়ানক অস্ত্র রয়েছে। এক- তার দলের অভ্যন্তরে সাম্প্রদায়িক মনস্তত্ব এবং দুই-রাষ্ট্রক্ষমতা। এ দুই অস্ত্রকে ব্যবহার করে তারা প্রমাণ করেছে একাত্তরের পরাজিত সাম্প্রদায়িক পাকিস্তান থেকেও তারা ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক। আজকের এই বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এদেশের নাগরিকরা সরকারের কাছে স্পষ্ট বার্তা দিতে চায়, সাম্প্রদায়িকতাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারকারী কোনো দল ও গোষ্ঠীকেই এ দেশ মেনে নেয়নি, আজও নেবে না। সাম্প্রদায়িক আক্রমণ ঠেকাতে ব্যর্থ এ সরকারকে মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর, মানুষ হত্যা, নিপীড়ন, হিন্দু পল্লীতে অগ্নিসংযোগ এবং লুটপাটের দায় নিতে হবে। সমাবেশ শেষে একটি মশাল মিছিল শাহবাগ থেকে সায়েন্সল্যাব হয়ে রাজু ভাস্কর্যে গিয়ে শেষ হয়। বিশিষ্ট নাগরিকদের ক্ষোভ-উদ্বেগ: গণমাধ্যমে পাঠানো এক যুক্ত বিবৃতিতে মানবাধিকার নেত্রী সুলতানা কামাল, সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিষ্টার শফিক আহমদ, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডা. সারোয়ার আলি, খুশী কবীর, রামেন্দু মজুমদার, আবুল মোমেন, অধ্যাপিকা মাহ্ফুজা খানম, ড. সেলিম জাহান, রাশেদা কে চৌধুরী, ডাঃ রশিদ ই মাহবুব, ড: মইনুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন, ড. আবুল বারকাত, দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, মেঘনা গুহঠাকুরতা, ড. তাজুল ইসলাম, অধ্যাপক এ এন রাশেদা, অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান, অধ্যাপক ড: সুশান্ত কুমার দাশ, অধ্যাপক বদিউর রহমান, অধ্যাপক কাবেরী গায়েন, ইঞ্জিনিয়ার আবুল কাশেম, শামসুল হুদা, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, মাহ্মুদ সেলিম, ডা. লেনিন চৌধুরী, অ্যাডভোকেট হাসান তারিক চৌধুরী ও অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেছেন, ‘আমরা গভীর উদ্বেগ ও উৎকন্ঠার সাথে লক্ষ্য করলাম, দেশের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায় তাদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব সার্বজনীন দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে পারল না। বিভিন্ন পূজা-পে হামলা, প্রতিমা ভাংচুর, কোথাও কোথাও বাড়িঘরে হামলা করে এমন এক ভীতিকর ন্যাক্কারজনক পরিবেশ তৈরি করা হল, যা মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত বাংলাদেশে কারো জন্যই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আমরা এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। অবিলম্বে ঘটনার সাথে জড়িত ও এর পেছনের হোতাদের চিহ্নিত, গ্রেপ্তার ও দষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই। একই সাথে নিরাপত্তা দিতে প্রশাসনের ব্যর্থতার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই। সমাজের বিভিন্ন স্তরের সুপরিচিত এই বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, অতীতেও দেখা গেছে, নানা সময়ে ধর্মকে ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে গুজব ছড়িয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হামলা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করে আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছে। রাজনৈতিক , অর্থনৈতিক ফায়দা লোটা হয়েছে। ওইসব ঘটনার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হয়নি। এমনকি কোথাও কোথাও রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। এই বিচারহীনতা আবার অপরাধ সংগঠিত করতে মদদ জুগিয়েছে। এইসব অপশক্তি এখনও তৎপর। সাম্প্রদায়িক অপশক্তির সাথে বিভিন্ন সময়ে আইনগত ব্যবস্থার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক সংগ্রাম জোরদার করে মানবিকতার সংগ্রামকে সামনে আনা হয়নি। শুধু বাংলাদেশ নয় প্রতিবেশী দেশগুলিকেও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য নিরাপদ আবাসভূমি হিসাবে গড়ে তোলা যায় নি। ধর্মকে অপব্যবহারের যে কোন ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সজাগ থাকা, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়বিদ্বেষী সকল অপশক্তিকে প্রশ্রয় না দেয়া, জঙ্গী ধর্মভিত্তিক শক্তির রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক আধিপত্যের বিরুদ্ধে নীতিনিষ্ঠভাবে সংগ্রাম পরিচালনা করা জরুরি হয়ে পড়ছে। রাষ্ট্র ও জনসমাজকে সম্মিলিত ভাবে আজ এ কাজে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের ৫০ বছরে বাংলাদেশকে আমরা পেছনের দিকে নিয়ে যেতে দিতে পারি না। তাই এ ধরনের অপশক্তির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ, গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং দেশের সর্বত্র মুক্তিযুদ্ধের চার মূলনীতির পক্ষের সকল অসম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল শক্তি, ব্যক্তি ও প্রকৃত ধর্মপ্রাণ মানুষদের সমন্বিত উদ্যোগ গড়ে তোলার আহ্বান জানাই।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..