লাগামহীন পেঁয়াজের দাম

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : আবারও পেঁয়াজের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। হুড়হুড় করে বাড়ছে দাম। বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় পেঁয়াজের আমদানি কমে যাওয়ায় হঠাৎ এ দাম বৃদ্ধি, বলছেন সংশ্লিষ্টরা। দেশের বাজারে মাত্র তিন-চার দিনের ব্যবধানে এ কাঁচা পণ্যটির দাম কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৬৫ টাকা ও ভারতীয় পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৫৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত (১৩ দিনে) দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে মাত্র ৬০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে ২২ সেপ্টেম্বর ৩০ টন ও ৩০ সেপ্টেম্বর ৩০ টন পেঁয়াজ আমদানি হয় এ পথে। ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি কমে যাওয়ায় দেশের পাইকারি ও খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়েছে। গত সপ্তাহে যে পেঁয়াজের কেজি ছিল ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, সপ্তাহের ব্যবধানে তা বেড়ে হয়েছে ৬৫ টাকা। সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, বাজারে কোনো মনিটরিং নেই, ফলে বিক্রেতারা সুযোগ বুঝে ইচ্ছেমতো দাম হাঁকাচ্ছেন। বাজার মনিটরিং থাকলে দাম এতটা লাগামহীন হতো না। বেশ কয়েকদিন এক দামে স্থির থাকার পর খুলনার বাজারে বাড়তে শুরু করেছে পেঁয়াজের দাম। মানভেদে প্রতি কেজিতে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ১০ টাকা করে। বর্তমানে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে এক কেজি পেঁয়াজ। নগরীর কয়েকটি কাঁচা বাজার ঘুরে দেখা যায়, তিনদিন আগে মানভেদে ব্যবসায়ীরা যে পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি করেছেন, তা খুচরা বিক্রেতারা ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন। অভ্যন্তরীণ বাজারে সংকট ও ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ায় দাম বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। অন্যদিকে অসাধু ব্যবসায়ীর কারসাজিতে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা। ফরিদপুরে হঠাৎ করেই অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। গত তিনদিনের ব্যবধানে প্রতিকেজি পেঁয়াজে দাম বেড়েছে ২০ টাকা। পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতাদের মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। গত তিনদিন আগেও ফরিদপুরের পাইকারি বাজারে প্রতিকেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২৫-২৮ টাকা। যা খুচরা বাজারে ছিল ৩৮-৪০ টাকা। ৪ অক্টোবর জেলার বিভিন্ন বাজারে কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৬০-৬২ টাকায়। তবে দাম বৃদ্ধির কোনো কারণ জানাতে পারেনি ব্যবসায়ীরা। শহরের চকবাজার সাপ্তাহিক হাট ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহের তুলনায় পেঁয়াজের আমদানি কম। গত সপ্তাহে যে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৩৮-৪০ টাকা, সে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০-৬২ টাকায়। জেলার বোয়ালমারী, মধুখালী, সদরপুর, সালথা, নগরকান্দাসহ অন্য উপজেলার হাট-বাজারেও পেঁয়াজের দাম একইভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কিশোরগঞ্জের ভৈরবে গত কয়েকদিনে পেঁয়াজের দাম প্রতি কেজি ১০-২০ টাকা বেড়েছে। তবে পাবনায় যে পরিমাণ দেশি পেঁয়াজ মজুত আছে তা দিয়েই আগামী তিন মাস দেশের চাহিদা মেটানো যাবে বলে জানিয়েছেন হিলি বাজারের আমদানি-রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হারুন-উর রশিদ। তিনি বলেন, দেশের বাজারে এখন দেশীয় পেঁয়াজের চাহিদা রয়েছে। সারা বছর এ পেঁয়াজ ভারতীয় পেঁয়াজের চেয়ে বেশি মূল্যে বিক্রি হয়। ফলে এখন দেশের পাবনা অঞ্চলে যে পেঁয়াজ মজুত রয়েছে তা দিয়ে আমরা আগামী তিন মাস চলতে পারবো। এ বিষয়ে হারুন-উর রশিদ বলেন, ভারতীয় পেঁয়াজ মজুত করার কোনো সুযোগ নেই। এর কারণ ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে পেঁয়াজ বাংলাদেশে আসে। সেগুলো সাতদিনের বেশি গুদামজাত করে রাখলে পচন ধরে যায়। অথচ বাংলাদেশি পেঁয়াজ দীর্ঘদিন ভালো থাকে। ফলে বেশি লাভের আশায় পাবনার বেশকিছু ব্যবসায়ী পেঁয়াজ মজুত করে রাখেন। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারতের মধ্যপ্রদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা হলেও আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় বর্তমানে ব্যাঙ্গালুর থেকে আমদানি করছেন ব্যবসায়ীরা। ব্যাঙ্গালুর থেকে ট্রাকে করে পেঁয়াজ হিলি বন্দরে আসতে সময় লাগে প্রায় সাতদিন। দীর্ঘপথ পেঁয়াজভর্তি প্রতিটি ট্রাক ত্রিপল দিয়ে ঢাকা থাকায় এবং ট্রাকে বাতাস প্রবেশ না করায় অনেক পেঁয়াজে পচন ধরে। ফলে সেই পেঁয়াজগুলো রপ্তানি করে লোকসান গুনতে হয়। এছাড়া ভারতের পশ্চিমবঙ্গে শুরু হয়েছে দুর্গাপূজার আমেজ। এ সময় পূজা কমিটির সদস্যরা গাড়িপ্রতি চাঁদা নেন। ফলে পেঁয়াজ সরবরাহ কমিয়ে দেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। এজন্য দেশের বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়ে যায়।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..