‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গণতান্ত্রিক সংগ্রাম বেগবান করুন’

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

সিপিবি ধানমন্ডি থানা শাখার উদ্যোগে কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদের স্মরণসভা
একতা প্রতিবেদক : বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মেহনতি মানুষের মুক্তি আন্দোলনের মহান নেতা, সাবেক সাংসদ কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদের ৩৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৯৮৭ সালের ৯ অক্টোবর তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের রাজধানী মস্কোতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদ সড়কে (১১এ ধানমন্ডি) ৮ অক্টোবর বিকাল চারটায় স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি ধানমন্ডি থানা কমিটি আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন ধানমন্ডি থানা কমিটির সভাপতি কমরেড শংকর আচার্য ও সভা সঞ্চালনা করেন কমরেড মনীষা মজুমদার। বক্তব্য রাখেন- সাবেক ছাত্রনেতা ও কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদের সহধর্মিণী রীণা খানম; ডাকসু’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রগতিশীল যুব আন্দোলনের পথিকৃৎ মাহাবুব জামান; সিপিবির তরুণ নেতা ও ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মানবেন্দ্র দেব, প্রণব সরকার, আশরাফ হোসেন আশু; খোদাদাদ আহমেদ, সমাজ কর্মী আতাউর রহমান মিটন প্রমুখ। বাড্ডা: বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোহাম্মাদ ফরহাদের ৩৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সিপিবি বাড্ডা শাখার উদ্যোগে ‘আশির দশকে কমরেড ফরহাদের রাজনীতি : বর্তমান বাস্তবতা ও শিক্ষা’ এক আলোচনা সভা ৮ অক্টোবর বিকেলে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ড. গোলাম মহিউদ্দিন স্মৃতি পাঠাগারে বাড্ডা শাখা সিপিবির নেতা হাসান হাফিজুর রহমান সোহেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান, অধ্যাপক ড. এম এম আকাশ। বাড্ডা সিপিবির সম্পাদক শান্তনু কুমার দাসের সঞ্চালনায় সভায় অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হাফিজ আদনান রিয়াদ, বাড্ডা সিপিবির নেতা নসরু কামাল খান প্রমুখ। মুল আলোচনায় কমরেড আকাশ বলেন, কমরেড ফরহাদ ছিলেন, অতুলনীয় সাংগঠনিক দক্ষতা, চমৎকার বিশ্লেষণী ক্ষমতার অধিকারী। তিনি একই সাথে ছিলেন অসাধারণ ধৈর্য্যশীল, নিখুঁত পরিকল্পনাকারী এবং অসম্ভব পরিশ্রমী। কর্মীদের প্রতি নিদারুণ সহানুভূতি ও ভালোবাসা ছিলো তাঁর। প্রতিটি কাজের খুঁটিনাটি লক্ষ্য রাখতেন তিনি। তিনি গান-গল্প-সাহিত্য ভালেবাসতেন। কমরেড ফরহাদ ছাত্র ইউনিয়ন সংগঠিত করতে অসাধারণ ভূমিকা রেখেছেন। কমরেড ফরহাদ আকণ্ঠ বিপ্লব পিয়াসী মানুষ ছিলেন। ৮০-র দশকের রাজনৈতিক সংগ্রামের মূল সংগঠক এবং নেতা হিসেবে জাতীয় রাজনীতির অন্যতম ছিলেন কমরেড ফরহাদ। তাঁর গোটা জীবন ছিলো একজন বিপ্লবী হিসেবে নিজেকে প্রতি মুহূর্তে গড়ে তোলার অসাধারণ প্রচেষ্টার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী কমরেড ফরহাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সম্মিলিত সঙ্গীত পরিবেশন করে। স্মরণসভায় কমরেড ফরহাদ স্মারক পুস্তিকা ও প্রকাশিত হয়। মোহাম্মদপুর : বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, গণমানুষের মুক্তির আন্দোলনের অন্যতম নেতা ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদের ৩৪তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে সিপিবি মোহাম্মদপুর থানার সভাপতি মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ উজ্জলের সঞ্চালনায় এক আলোচনা সভা ৮ অক্টোবর বিকাল ৪টায় রিং রোডে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা ডা. দিবালোক সিংহ বলেন, কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদ কমিউনিস্ট পার্টিকে একটি ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে দাঁড় করাতে সমর্থ হয়েছিলেন। স্বৈরাচারের ভিতকে তিনি পার্টির নিজস্ব শক্তি দিয়ে নাড়িয়ে দিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন, ২০০০ সালের মধ্যে এদেশে একটি বিপ্লবের স্বপ্ন তিনি হাজার হাজার কমরেডদের মধ্যে সঞ্চারিত করতে সমর্থ হয়েছিলেন। তিনি বর্তমান প্রজন্মের মাঝে কমরেড ফরহাদকে আরও প্রাসঙ্গিকভাবে নিয়ে যাওয়ার জন্য পার্টির সর্বস্তরের নেতা কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান। বর্তমান অগণতান্ত্রিক ও লুটপাটের রাজনীতিকে চ্যালেঞ্জ করার মতো একটি গণসংগ্রাম গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন। আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, মোসলেহ উদ্দিন, মাহবুব আলম, জামাল হায়দার মুকুল, মোতালেব হোসেন, প্রকৌশলী রাশেদুল হাসান রিপন, আশিকুল ইসলাম জুয়েল প্রমুখ। কমরেড ফরহাদ ১৯৩৮ সালের ৫ জুলাই পঞ্চগড়ের বোদায় জন্মগ্রহণ করেন। মেধাবী ছাত্র মোহাম্মদ ফরহাদ মহান ভাষা আন্দোলন, ৬২’র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান, ৭১’র মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী লড়াইয়ে প্রথম সারির নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করেন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি বহুবার জেল, জুলুম, হুলিয়া, নির্যাতন ভোগ করেন। ৩৫ বছরের ঘটনাবহুল রাজনৈতিক জীবনে তিনি পাকিস্তান আমল এবং স্বাধীন বাংলাদেশে জিয়া-এরশাদের আমলে কারাবরণসহ দীর্ঘ প্রায় ১৪ বছর আত্মগোপন বা কারান্তরালে ছিলেন। ১৯৫৪ সালে তাকে গ্রেফতার করে পাকিস্তানের কুখ্যাত নিরাপত্তা আইনে বিনা বিচারে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক রাখা হয়। মোহাম্মদ ফরহাদ ১৯৫৫ সালে ১৭ বছর বয়সে কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য পদ লাভ করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকা অবস্থায় কমরেড ফরহাদ ’৫৯ সাল থেকে গোপনে ছাত্রদের সংগঠিত করতে থাকেন। ১৯৬২ সাল থেকে প্রায় এক বছর হুলিয়া মাথায় নিয়ে গোপনে ছাত্র গণআন্দোলন সংগঠন ও শ্রমিক শ্রেণীর পার্টির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ৬৯’র গণঅভ্যুত্থানে কমরেড ফরহাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। মুক্তিযুদ্ধে কমিউনিস্ট পার্টি-ন্যাপ-ছাত্র ইউনিয়নের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ গেরিলা বাহিনীর প্রধান সংগঠক ছিলেন তিনি। ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ এরশাদের ক্ষমতা দখলের পর সামরিক শাসনবিরোধী রাজনৈতিক ঐক্য তথা ১৫ দলীয় ঐক্যজোট গঠন; জাতীয় দাবি ৫ দফা প্রণয়ন ও যুগপৎ আন্দোলন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তিনি বলিষ্ঠ ও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ১৯৮৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি পঞ্চগড়-২ (বোদা-দেবীগঞ্জ) নির্বাচনী এলাকা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..