তাইওয়ান প্রণালীতে মারাত্মক উত্তেজনা

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : তাইওয়ানের আকাশসীমায় আবারও ৫৬টি চীনা যুদ্ধবিমান অনুপ্রবেশ করেছে বলে দাবি করেছে দেশটি। এটি এখন পর্যন্ত তাইওয়ানে বেইজিংয়ের সবচেয়ে বড় অনুপ্রবেশ। বর্তমানে চলমান এই উত্তেজনার ‘মূল অপরাধী’ হিসেবে বেইজিংকে দায়ী করেছে তাইওয়ান। কিন্তু তাইওয়ানের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির জন্য চীন যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে। ফলে তাইওয়ান প্রণালীতে চলছে উত্তেজনার পরিস্থিতি। তাইওয়ান সরকারের দেওয়া ম্যাপে বলা হয়, সর্বশেষ মিশনে ৩৪টি জে-১৬ যোদ্ধা বিমান এবং ১২টি পারমাণবিক বোমারু বিমান অন্তর্ভুক্ত ছিল। তাইওয়ানের শীর্ষ চীনা নীতিনির্ধারক সংস্থা মেইনল্যান্ড অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল(এমএসি) বেইজিংকে তাইওয়ানে শান্তি ও স্থিতিশীলতার স্থিতাবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য অভিযুক্ত করেছে। প্রতিক্রিয়ায় চীন ওয়াশিংটনের উপর উস্কানির অভিযোগ তুলেছে। দেশটির মন্ত্রণালয় বলেছে, তাইওয়ানের স্বাধীনতার সাথে জড়িত হওয়ার আর কোনো পরিণতি নেই। চীন প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং দৃঢ়ভাবে তাইওয়ানের স্বাধীনতার কোন চক্রান্ত ধ্বংস করবে। জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় চীন দৃঢ় সংকল্প। তাইওয়ানের বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তিকে সমর্থন করা এবং ‘স্ফীত করা’ বন্ধ করা উচিত আমেরিকার বলেও মন্তব্য তাদের। এদিকে ৪০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে চীনের সঙ্গে তাইওয়ানের সম্পর্কে উত্তেজনা সবচেয়ে খারাপ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেছেন তাইওয়ানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী চিউ কুও-চেং। চীনের রেকর্ড সংখ্যক যুদ্ধবিমান দ্বীপরাষ্ট্র তাইওয়ানের বিমান প্রতিরক্ষা জোনে (এআইডিজেড) প্রবেশ করার পর এমন ক্ষুব্ধ মন্তব্য করলেন মন্ত্রী। চীনের সঙ্গে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা প্রসঙ্গে তাইওয়ানের সংসদে একজন আইন প্রণেতার এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী চিউ কিয়ো বলেন, পরিস্থিতি খুবই মারাত্মক; ৪০ বছরের মধ্যে বর্তমানে চীনের সঙ্গে সবচেয়ে মারাত্মক সামরিক উত্তেজনা চলছে এবং তাইওয়ান প্রণালীতে সংঘাতের ঝুঁকিও রয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী চিউ কুও-চেং বলেছেন, তাইওয়ানে আগ্রাসন চালানোর সক্ষমতা আছে চীনের। ২০২৫ সালের মধ্যে পূর্ণ মাত্রায় আগ্রাসন চালানোর সক্ষমতা অর্জন করবে তারা। তার ভাষায়, চীনের এখনই সক্ষমতা আছে। কিন্তু তারা এত সহজে একটি যুদ্ধ শুরু করবে না। এক্ষেত্রে তারা অনেক বিষয় বিবেচনায় নিতে চায়। আর চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির বিমান বাহিনীর উপপ্রধান ওয়াং ওয়েই আমেরিকাকে উদ্দেশ করে বলেছেন, তোমাদের সঙ্গে মোকাবেলা হবে আকাশে। মার্কিন এয়ারফোর্স সেক্রেটারি ফ্রাঙ্ক ক্যান্ডাল গত আগস্ট মাসে বলেছিলেন, চীনের সামরিক বাহিনীকে আধুনিকায়ন করার কর্মসূচি প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। এ ক্ষেত্রে আমেরিকা গিয়ে আরো উন্নত প্রযুক্তি নিয়ে এগিয়ে থাকতে হবে যাতে চীন ভয় পায়। ফ্রাঙ্ক ক্যান্ডালের এই বক্তব্যের জবাবে সেনা কমান্ডার ওয়াং ওয়েই এই বক্তব্য দিয়েছেন। এর মাঝ দিয়ে মূলত তিনি আমেরিকার প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। চীনের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় শহর ঝুহাইয়ে অনুষ্ঠানরত এয়ারশোতে এই বক্তব্য দিয়েছেন ওয়াং ওয়েই। তিনি বলেন, “সম্প্রতি মার্কিন কর্মকর্তা দাবি করেছেন যে, তারা চীনকে ভয় দেখাতে চান। জবাবে আমি বলব চীনের নৌবাহিনী জাতীয় নিরাপত্তা এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা করতে সক্ষম ও আস্থাশীল এবং বিশ্ব শান্তি রক্ষায় তারা অবদান রেখে চলেছে। আমি শুধু বলব যদি তারা চীনের সক্ষমতায় ভীত না হয় তাহলে আসুন আমরা আকাশ মোকাবেলা করি।” চীন তাইওয়ানকে নিজেদের একটি বিচ্ছিন্ন প্রদেশ মনে করে। তবে তাইওয়ান নিজেদের স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র ভাবে। আন্তর্জাতিকভাবেও বেশিরভাগ দেশ তাইওয়ানের ওপর চীনের সার্বভৌমত্বকে স্বীকার করে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমেরিকা এক চীন নীতি থেকে সরে এসেছে। তারা তাইওয়ানকে চীনের বিরুদ্ধে উসকানি দিয়ে সংঘাতে জড়িয়ে দিতে চায়। ১৯৪৯ সালে চীনের গৃহযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর থেকে চীন এবং তাইওয়ানের আলাদা সরকার রয়েছে। জাতিসংঘ-সহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থায় তাইওয়ানের কর্মকাণ্ড সীমিত করতে দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করে আসছে চীন। তবে যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্য মিত্রদের সহায়তায় প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় প্রভাব প্রতিষ্ঠা করতে তাইওয়ানও পিছিয়ে নেই।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..