খাদ্য-জ্বালানির দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : বিশ্বে টানা দ্বিতীয় মাসের মতো খাদ্যের দাম বেড়েছে। ফলে গত ১০ বছরের মধ্যে বিশ্বে খাদ্যের দাম বর্তমানে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। রোম-ভিত্তিক বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এফএও এ তথ্য জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাটির ধারণা- ২০২১ সালে বিশ্বে গম যব ও বার্লির মতো খাদ্যপণ্যের উৎপাদনে রেকর্ড সৃষ্টি হবে তারপরও এসব ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়বে। এফএও’র খাদ্য মূল্য সূচক গত মাসে সর্বোচ্চ ১৩০ পয়েন্টে উঠেছিল যা ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর মাসের পর থেকে এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি। গত আগস্ট মাসে মূল্যসূচক ছিল ১২৮.৫ পয়েন্ট। বছর ভিত্তিক হিসাবে গত সেপ্টেম্বর মাসে খাদ্যমূল্য শতকরা ৩২.৮ ভাগ বেড়েছে। গত বছর কৃষি পণ্যের দাম বাড়ার মূল কারণ ছিল ফসল কাটার ক্ষেত্রে বিপর্যয় এবং চীনের চাহিদা বৃদ্ধি ।করোনাভাইরাসের কারণে কৃষি মজুরির সংকট দেখা দিয়েছে যা চিনি ও ভোজ্যতেল থেকে শুরু করে শাকসবজির মূল্যবৃদ্ধির ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলেছে। এফএও প্রতিমাসে খাদ্যশস্য, তেলবীজ, দুগ্ধজাত পণ্য, মাংস ও চিনির বৈশ্বিক দরের ভিত্তিতে খাদ্যপণ্যের দামের এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে বলা হয়েছে, গত বছর বিশ্বজুড়ে খাদ্যশস্যের উৎপাদন ব্যাপক পরিমাণে কমেছে। এতে মজুদ কমে যাওয়ায় এবং অপ্রত্যাশিতভাবে চীনের বিপুল আমদানির ইঙ্গিতের প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে। মূলত ভুট্টার কারণে গত মাসে খাদ্যশস্যের দাম বেড়েছে ৭ দশমিক ১ শতাংশ। শুধু জানুয়ারিতে এ পণ্যের দাম বাড়ে ১১ দশমিক ২ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ৪২ দশমিক ৩ শতাংশ। চীনের ব্যাপক আমদানি ও যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন কমায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এ সময়ে চিনির দামও স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেড়েছে (৮ দশমিক ১ শতাংশ)। এটিরও মূল কারণ উৎপাদন কমে যাওয়া। আর বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটে সম্প্রতি ইউরোপেও বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। ফলে সদ্যবিদায়ী সেপ্টেম্বর মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ইউরো জোনে মূল্যস্ফীতি ধারণার চেয়েও বেশি বেড়েছে, যা ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ইসিবি) জন্য মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইউরোস্ট্যাট প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি সম্প্রতি জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ইউরো জোনের ১৯টি দেশে সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতি দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে গত ১৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনা-পরবর্তী সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হওয়ায় খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এর সঙ্গে সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ইউরোস্ট্যাটের ওই পরিসংখ্যানে বলা হয়, বছরভিত্তিকভাবে সেপ্টেম্বরে ভোক্তামূল্য (সিপিআই) সূচক বৃদ্ধি পেয়ে তিন দশমিক চার শতাংশে পৌঁছেছে, যেখানে আগের মাসে ছিল তিন শতাংশ। যদিও অর্থনীতিবিদরা ধারণা করেছিলেন, মূল্যস্ফীতি তিন দশমিক তিন শতাংশ হবে। ইউরোস্ট্যাটের ওই পরিসংখ্যানিক প্রতিবেদনে বলা হয়, খাদ্য ও জ্বালানি খাতে মূল্যস্ফীতি আগের মাসের এক দশমিক ছয় শতাংশ থেকে বেড়ে সেপ্টেম্বরে এক দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছেছে, যা মাসিক ভিত্তিতে ২০০৮ সাল থেকে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি। প্রতিবেদনে বলা হয়, পণ্যের দাম বৃদ্ধিটা মূলত করোনা মহামারির শুরু এবং লকডাউন-পরবর্তী বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের আবার চালু করাকে কেন্দ্র করে হয়েছে, যদিও ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রত্যাশা করছে ২০২২ সালের আগেই দাম নিয়ন্ত্রণে আসবে। এজন্য ইসিবি মূল্যস্ফীতি কমাতে দুই শতাংশ নির্ধারণ করেছে, বর্তমানে যা অনেক বেশি। এজন্য ইসিবি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সেপ্টেম্বরে ইউরো জোনের জ্বালানির দাম এক দশমিক তিন শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৭ শতাংশ বেশি। আর সেপ্টেম্বর অ-জ্বালানি শিল্পপণ্যের দাম বেড়েছে দুই দশমিক তিন শতাংশ। এ বিষয়ে ইসিবি প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিনা লাগার্ড বলেছেন, বর্তমান মূল্যস্ফীতি ‘অনেকাংশে ক্ষণস্থায়ী’, যদিও তিনি অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া ও স্থায়ী কঠোর মুদ্রানীতির বিষয়ে সতর্ক করেন। তার কয়েকজন সহকর্মী উদ্বেগ প্রকাশ বলেন, সরকারি পূর্বাভাস খুব কম প্রমাণিত হবে, যদিও বেশিরভাগই মনে করেন দাম বৃদ্ধি আস্তে আস্তে হ্রাস পাবে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..