জুলুম নির্যাতন বন্ধ ও ব্যাটারিচালিত রিকশা আধুনিকায়নের দাবি

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

হাজারীবাগে রিকশা ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিতির একাংশ
একতা প্রতিবেদক : সরকারের দায়িত্ব জনগণের রুটি রুজির ব্যবস্থা করা, কিন্তু আজ দেশে গণবিরোধী সরকার, তারা উল্টো জনগণের রুটি রুজি বন্ধ করে দিচ্ছে। সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে তাদের গণবিরোধী সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহার করে ব্যাটারিচালিত রিকশা আধুনিকায়ন করে লাইসেন্স প্রদান করা। গত ৫ অক্টোবর বেলা ১২ টায় হাজারীবাগে রিকশা ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা একথা বলেন। সুমন মৃধার সভাপতিত্বে শহীদ বুদ্ধিজীবী কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন রিকশা ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুল্লাহ ক্বাফী রতন, সম্পাদক আহসান হাবীব লাবলু, রিকশা ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম নাদিম, বিপ্লবী সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের দপ্তর সম্পাদক হযরত আলী, রিকশা ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সংগঠক লিটন নন্দী, কামরাঙ্গীরচর থানার সহ-সভাপতি আব্দুল হাকিম মাইজভান্ডারি, ৫৭ নং ওয়ার্ডের সভাপতি আব্দুর রহিম। সমাবেশে বক্তারা বলেন, রিকশার এই সকল ব্যাটারি ও মটর বিদেশ থেকে আমদানির সময় কোনো প্রকার বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়নি। যখন এই ব্যাটারি ও মটর রিকশায় সংযুক্ত করা হয়েছে তখনও কোনো প্রকার বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়নি। কিন্তু এই রিকশা যখন রাস্তায় চলছে ও ৫০ লাখ পরিবারের রুটি-রুজির ব্যবস্থা করছে তখন কমিশনভোগী লুটেরাদের স্বার্থে ব্যাটারিচালিত রিকশা নিষিদ্ধের নামে রিকশাচালক ও ব্যবসায়ীদের সর্বস্বান্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে গণবিরোধী সরকার। বক্তারা আরো বলেন, এ সকল ব্যাটারিচালিত রিকশার মালিকরা বিভিন্ন এনজিও ঋণ ও মহাজনী সুদে টাকা নিয়ে, ৪০-৫০ হাজার টাকা খরচ করে ব্যটারিচালিত রিকশা তৈরি করেছেন। ব্যাটারিচালিত রিকশা অবৈধ ঘোষণায় এই সকল পুঁজি, ঋণের কিস্তি ও সুদের ক্ষতিপূরণের কোনো উদ্যোগ না থাকায় এই মানুষের রুজি-রুজি বন্ধসহ পরিবারসমূহ নিঃস্ব হয়ে পড়বে। ভোটের সময় সরকার ঘরে ঘরে চাকরির ঘোষণা দিলেও আজ সরকার চাকরির বদলে মানুষের নিজ উদ্যোগে তৈরি করা কর্মসংস্থান কেড়ে নিচ্ছে। বক্তারা বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধের কারণ হিসেবে সরকার বিদ্যুতের অপচয় ও দুর্ঘটনাকে দায়ী করছেন। বিদ্যুৎ বাংলাদেশের জাতীয় সম্পদ, সাংবিধানিকভাবে এই সম্পদ জনগণের স্বার্থে সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এ দেশের ৫০ লাখ পরিবারের উপার্জনের মাধ্যম ব্যাটারিচালিত রিকশায় ব্যবহৃত বিদ্যুৎ। যেখানে ১ ঘণ্টা একটি এসি চললে যে বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হয় সে বিদ্যুতে একটি পরিবারের সংসার পরিচালিত হয়। বিদ্যুতে এর চাইতে আর কোনো উত্তম ব্যবহার হতে পারে না। একইসঙ্গে সড়ক দুর্ঘটনার প্রসঙ্গে বক্তারা বলেন, সকল পরিবহনেই দুর্ঘটনা ঘটে। মাথা ব্যথার কারণে মাথা কেটে ফেলা কোনো সমধান হতে পারে না। অপরিকল্পিত সড়ক নির্মাণ, ত্রুটিপূর্ণ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে সংস্কার ও রিকশাকে আধুনিকায়ন করে দুর্ঘটনা লাঘব করতে হবে। তারা বলেন, রিকশা মালিক-শ্রমিকরা লাইসেন্সের মাধ্যমে বৈধভাবে সরকারি কোষাগারে টাকা দিতে চায়; কিন্তু ভোটাধিকার লুটের সরকার লাইসেন্স না দিয়ে অবৈধ টোকেন ব্যাবসায়ীদের হাতে পরিবহনের ভাগ্য তুলে দিয়ে লুটপাট দুর্নীতিকে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে। সমাবেশে বক্তারা রিকশা শ্রমিকদের উপর সকল জুলুম নির্যাতন বন্ধ ও ব্যাটারি চালিত রিকশা আধুনিকায়ন করে অবিলম্বে লাইসেন্স প্রদানের দাবি জানান।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..