সেজানে হতাহতদের আজীবন আয়ের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ চেয়ে স্কপের স্মারকলিপি

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : সজীব গ্রুপের সেজান জুস কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৫২ জনের অধিক শ্রমিক নিহত, অর্ধশতাধিক আহত এবং অনেকে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় দায়ীদের বিচার এবং হতাহতদের আজীবন আয়ের মাপকাঠিতে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিতে সমাবেশ ও শ্রম প্রতিমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দিয়েছে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ। গত ১৫ জুলাই সকাল ১১ টায় বিজয়নগরের শ্রম ভবনের সামনে স্কপের যুগ্ম সমন্বয়ক সহিদুল্লাহ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী, বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কুতুব উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ টেক্সটাইল এন্ড ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আক্তার, পোষাক শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি তৌহিদুর রহমান, সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুল হাসান নয়ন, গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের কার্যকারী সভাপতি কাজী রুহুল আমিন, গ্রিন বাংলা গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি সুলতানা বেগম, জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি এম. দেলোয়ার হোসেন, গ্রামীণ ফোন ইমপ্লয়িজ ইউনিয়নের এএসএম সায়েম, ইউনাইটেড ফেডারেশন অফ গার্মেন্টস ওয়ার্কার্সের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম, বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও দর্জি শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ বাদল। সংহতি জানান বাংলাদেশ শ্রমিক সংহতি ফেডারেশনের সভাপতি রুহুল আমিন, বিপ্লবী গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি সালাউদ্দিন স্বপন, সংযুক্ত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রহমান বাবলুসহ পর্যটন, হোটেল-রেস্তোঁরা, হকার শ্রমিক ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ। জাতীয় শ্রমিক লীগের ট্রেড ইউনিয়ন বিষয়ক সম্পাদক ফিরোজ হোসেনের বক্তব্যের পর সমাবেশে স্মারকলিপি পাঠ করেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব বুলবুল। এদিন স্কপ নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের রাজেকুজ্জামান রতন, খালেকুজ্জামান লিপন, জাতীয় শ্রমিক জোট বাংলাদেশের সাইফুজ্জামান বাদশা, আব্দুর রাজ্জাক, কনক বর্মন, সরদার খোরশেদ, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের কামরুল আহসান, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আবুল কালাম আজাদ, শিখা আক্তার, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের চৌধুরী আশিকুল আলম, খলিলুর রহমান, প্রকাশ দত্ত, বাংলাদেশ লেবার ফেডারেশনের সাকীল আক্তার চৌধুরী, বাংলাদেশ জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের শামীম আরা, রফিকুল ইসলাম, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের রফিকুল ইসলাম ও খোরশেদ আলম। উপস্থিত ছিলেন আইস বার সেকশনে কর্মরত নিহত শ্রমিক শাহানার (১৬) মা মদিনা ও বোন রিনা এবং নিহত শ্রমিক রহিমার (৩৯) স্বামী সেলিম ও মেয়ে লিপা। নেতৃবৃন্দ বলেন, স্কপ ভয়াবহ আগ্নিকাণ্ডে শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনার কারণ ও দায়ীদের চিহ্নিত করার জন্য অনুসন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। অনুসন্ধানের ফলাফল যথাসময়ে সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হবে, তবে তার পাশাপাশি বাংলাদেশের সকল শ্রমিকের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন এগিয়ে নিয়ে যাবে। নেতৃবৃন্দ তদন্তপূর্বক দায়িত্বে অবহেলার জন্য দায়ী কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে বলেন, নিহত প্রত্যেক শ্রমিকের পরিবারকে আইএলও কনভেনশন ১২১ অনুসারে আজীবন আয়ের ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ এবং আহত শ্রমিকদের বিনামূল্যে চিকিৎসা ও পুনর্বাসন এবং ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এর পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শ্রম আইনের শাস্তি ও ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত ধারাসমূহ আইএলও কনভেনশন ১২১ এর আলোকে এবং রানাপ্লাজার ঘটনায় গঠিত ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত কমিটির সুপারিশ বর্তমান বাজার দরের সাথে সমন্বয় করে সংশোধন করতে হবে। সমাবেশ শেষে সহিদুল্লাহ চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল শ্রম প্রতিমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দেন। শ্রম প্রতিমন্ত্রীর পক্ষে শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক গৌতম কুমার স্মারকলিপি গ্রহণ করেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আশ্বাস দেন।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..