চা দিবসে নেই চা শ্রমিক

বাজেটেও হতাশ চা শ্রমিকরা

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : মৌলভীবাজারে প্রথমবারের মতো জাতীয় চা দিবস পালিত হয়েছে। এ ছাড়া চা উৎপাদনকারী অঞ্চল চট্টগ্রাম, সিলেট ও পঞ্চগড়ে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ৪ জুন “১ম জাতীয় চা দিবস” পালন করা হয় অথচ চা দিবসে চা শ্রমিকদের তেমন উপস্থিতি লক্ষ করা যায়নি। চা শ্রমিকদেরকে বাদ দিয়ে ‘১ম জাতীয় চা দিবস” উদযাপন করার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়িছেন চা শ্রমিকদের সংগঠনগুলো। এর আগে ২০ মেকে চা-শ্রমিক দিবস ঘোষণার দাবি করেছিলেন তারা। অথচ ৪ জুনকে চা দিবস ঘোষণা করা হয়। উহ্য করা হয় চা শ্রমিক দিবস দাবিটি। ব্রিটিশদের অত্যাচার থেকে মুক্তি পেতে ১৯২১ সালের ২০ মে সিলেট অঞ্চলের প্রায় ৩০ হাজার চা-শ্রমিক নিজেদের জন্মস্থান ভারতে ফিরে যেতে চেয়েছিলেন। তখন চাঁদপুরের মেঘনাঘাটে গুলি চালিয়ে চা-শ্রমিকদের নির্বিচারে হত্যা করা হয়। সেই থেকে দিনটিকে চা-শ্রমিক দিবস হিসেবে পালন করে আসছেন চা-শ্রমিকেরা। তবে দিবসটি এখনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পায়নি। এদিকে এবারের বাজেটেও হতাশ চা শ্রমিকরা। প্রতিবারই বঞ্চিত থাকতে হয় তাদের। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। বাজেটে পিছিয়ে পড়া এই জনগোষ্ঠীর জন্য আলাদা কোনো বরাদ্দ নেই। ফলে হতাশ শ্রমিকরা। এবারের বাজেটে ১৯০০ কোটি টাকা বরাদ্দের দাবি জানিয়েছিলেন তারা। এই জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, বাসস্থান, চিকিৎসা নিশ্চিত, ভাষা ও সংস্কৃতির সুরক্ষা ও প্রতিটি চা বাগানে আইসিটি সেন্টার স্থাপনের জন্য এই বরাদ্দের কথা বলা হয়েছিল। এছাড়াও চা শিল্পকে পুনরায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসার দাবিও জানিয়েছিলেন তারা। সবশেষ হালনাগাদ অনুযায়ী দেশে চা বাগানের সংখ্যা ২৪৬টি এবং চা শ্রমিকের সংখ্যা মোট ২ লাখ ১১ হাজার ৮৪২ জন। বাংলাদেশ চা বোর্ডের নিবন্ধন করা বাগানের সংখ্যা ১৬৭টি। অন্যদিকে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের তথ্য মতে, দেশে বর্তমানে বাগানের সংখ্যা ২৩১টি এবং নিয়মিত শ্রমিক ১ লাখ ৩ হাজার। তাদের দাবি অনুযায়ী, বাংলাদেশে চা শ্রমিক জনগোষ্টীর মানুষ রয়েছেন প্রায় ১০ লাখ। ১৮০০ শতাব্দীর প্রথম ভাগে ভারতবর্ষের আসাম ও তৎসংলগ্ন এলাকায় চা চাষ শুরু হয়। তারই ধারাবহিকতায় বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার কর্ণফুলী নদীর তীরে চা আবাদের জন্য ১৮২৮ খ্রিষ্টাব্দে জমি বরাদ্দ হয়। কিন্তু বিভিন্ন কারণে সেখানে চা চাষ বিলম্বিত হয়। ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দে চট্টগ্রাম শহরের বর্তমান চট্টগ্রাম ক্লাব সংলগ্ন এলাকায় একটি চা বাগান প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল যা কুন্ডদের বাগান নামে পরিচিত। এই বাগানটিও প্রতিষ্ঠার পরপরই বিলুপ্ত হয়ে যায়। অতঃপর ১৮৫৪ খ্রিস্টাব্দে মতান্তররে ১৮৪৭ খ্রিস্টাব্দে সিলেট শহরের এয়ারপোর্ট রোডের কাছে মালনীছড়া চা বাগান প্রতিষ্ঠিত হয়। মূলতঃ মালনীছড়াই বাংলাদেশের প্রথম বাণিজ্যিক চা বাগান। দেশ স্বাধীনের পূর্ব পর্যন্ত বাংলাদেশে শুধুমাত্র দুইটি জেলায় চা আবাদ করা হতো, একটি সিলেট জেলায় যা ‘সুরমা ভ্যালী’ নামে পরিচিত ছিল, আর অপরটি চট্টগ্রাম জেলায় যা ‘হালদা ভ্যালী’ নামে পরিচিত ছিল।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..