ভারতকে এস-৪০০ সরবরাহ করবে রাশিয়া

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেছেন, তার দেশ থেকে অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এস-৪০০ কিনতে ভারত বদ্ধপরিকর এবং দেশটির কাছে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী এ ব্যবস্থা হস্তান্তর করা হবে। ব্রিক্স সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক ভার্চুয়াল বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা এই ব্যবস্থা সরবরাহের পরিকল্পনায় কোনো পরিবর্তন আনিনি এবং ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এটি গ্রহণের সিদ্ধান্ত অটল রয়েছে।” ভারত, রাশিয়া, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিলকে নিয়ে অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থা ব্রিক্স গঠিত। এর দু’সপ্তাহ আগে রাশিয়ার রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত সমরাস্ত্র রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান রোসোবোরোনেক্সপোর্ট- এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলেক্সান্দার মিখেইয়েভ বলেছিলেন, আগামী অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে ভারত এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার প্রথম চালান পেতে যাচ্ছে। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের আরো জানান, ভারতের সঙ্গে রাশিয়ার অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, প্রতিরক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। ভারত ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে রাশিয়ার কাছ থেকে পাঁচটি এস-৪০০ ব্যবস্থা কেনার চুক্তি করে। ২০২৫ সাল নাগাদ এসব ব্যবস্থা ভারতকে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ৫০০ কোটি ডলার মূল্যের এ চুক্তির মধ্যে নয়াদিল্লি এরইমধ্যে মস্কোকে ৮০ কোটি ডলার পরিশোধ করেছে। এদিকে কাছাকাছি সময়ে একটি মধ্যম পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়েছে আমেরিকার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। আমেরিকার একটি যুদ্ধজাহাজ থেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার জন্য ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয় কিন্তু এ পরীক্ষা সফল হয় নি। মার্কিন সামরিক বাহিনী কোথায় এ পরীক্ষা চালিয়েছে তা জানানো হয় নি। মার্কিন মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম এজেন্সি বা এমডিএ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুদ্ধজাহাজ থেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সনাক্ত করা, তার পিছনে ধাওয়া করা এবং মধ্যম পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার লক্ষ্য নিয়ে এই পরীক্ষা চালানো হয়। কিন্তু এ ব্যবস্থা দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা যায় নি। কি কারণে এই পরীক্ষা ব্যর্থ হলো এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ত্রুটিগুলো কি কি তা জানানো হয় নি। শুধুমাত্র সাধারণভাবে জানানো হয়েছে যে, হাওয়াইয়ের কাছে প্রশান্ত মহাসাগরে এই পরীক্ষা চালানো হয়। প্রকল্পের কর্মকর্তারা পরীক্ষা ব্যর্থ হওয়ার কারণ তদন্ত শুরু করেছেন। ক্ষেপণাস্ত্র প্রতরিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আমেরিকা দীর্ঘদিন থেকে নানা জটিলতার মুখে রয়েছে। সর্বশেষ এ পরীক্ষা ব্যর্থ হওয়ার ফলে সে সংকট আরো দীর্ঘায়িত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে বিভিন্ন প্রতিরোধকামী সংগঠন রকেট, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা করলেও মার্কিন সেনারা তা প্রতিহত করতে পারে না। এমন সময়েই ইউরোপের ঠিক কোন জায়গায় আমেরিকার পরমাণু অস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে সেই গোপন খবর জানিয়ে দিয়েছেন মার্কিন সেনারা। এসব সেনা মার্কিন কৌশলগত পরমাণু অস্ত্রের গোপনীয়তা রক্ষা এবং প্রহার দায়িত্বে ছিলেন। একটি অনুসন্ধানী ওয়েবসাইটের একটি দুজনে এ খবর দিয়ে আরও বলা হয়েছে, ইউরোপে মোতায়েন মার্কিন পরমাণু অস্ত্রের গোপনীয়তা রক্ষার ব্যাপারে দায়িত্বপ্রাপ্ত কয়েকজন সেনা এর জটিল বিষয়গুলো জানা ও বোঝার চেষ্টা করেছেন এবং পরবর্তীতে তা তারা ইন্টারনেটে আপলোড করেছেন। একাজে মার্কিন সেনারা কয়েকটি অ্যাপ ব্যবহার করেছেন। অনুসন্ধানী ওয়েবসাইটটি এ ঘটনা তদন্ত করে বের করতে সক্ষম হয়েছে যে, ইউরোপের ছয়টি ঘাঁটিতে যে সমস্ত মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে তাদের মধ্য থেকে কেউ কেউ ইউরোপ-আমেরিকার পরমাণু অস্ত্রের গোপন তথ্য ইন্টারনেটের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছেন। মার্কিন বিমান বাহিনী এরই মধ্যে বিষয়টি নিয়ে তদন্তে নেমেছে। ইউরোপে মোতায়েন মার্কিন পরমাণু অস্ত্র সংক্রান্ত বিভিন্ন রকমের গোপন তথ্য ২০১৩ সাল থেকে আপলোড করা শুরু হয় এবং চলতি বছরের এপ্রিল মাস থেকে তা জনসাধারণের জন্য সহজলভ্য হয়ে ওঠে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..