এমন মূল্যস্ফীতি আর দেখেনি বিশ্ব

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা বিদেশ ডেস্ক : উন্নত বিশ্বে হু হু করে বাড়ছে পণ্যের দাম। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মূল্যস্ফীতি। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা ওইসিডি-ভুক্ত দেশগুলোতে মূল্যস্ফীতির পরিমাণ ২০০৮ সালের পর থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। অর্থাৎ গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে এসব দেশে এমন মূল্যস্ফীতি আর দেখা যায়নি। প্যারিসভিত্তিক সংস্থাটি জানিয়েছে, জ্বালানির দাম বাড়ানোর জেরে গত এপ্রিল মাসে ওইসিডি দেশগুলোতে গড়ে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ, যা ২০০৮ সালের অক্টোবরের পর থেকে সর্বোচ্চ। পচনশীল খাদ্য ও জ্বালানির দাম বাদ দিলেও বিশ্বজুড়ে পণ্যমূল্য বাড়ছে। এসব পণ্য হিসাব থেকে বাদ দিলে মূল্যস্ফীতি মার্চ মাসের ১ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে এপ্রিলে ২ দশমিক ৪ শতাংশে দাঁড়ায়। প্রতি মাসে খাদ্য মূল্যসূচক হালনাগাদ করে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা। দেখা গেছে, ১২ মাস ধরেই বাড়ছে বিশ্বের খাদ্যের দাম। করোনা মহামারির কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। উৎপাদন, শ্রম ও পরিবহনের ক্ষেত্র বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বিস্তৃত মূল্যস্ফীতি এবং খাদ্যের জন্য ব্যয় বেড়ে যাওয়া কীভাবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সারা বিশ্বের শস্য, তেলবীজ, দুগ্ধজাত পণ্য, মাংস ও চিনির দরের ওপর ভিত্তি করে খাদ্য মূল্যসূচক তৈরি করে এফএও। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় মে মাসে খাদ্যের দাম ৩৯ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে, যা ২০১০ সালের অক্টোবরের পর এক মাসে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি। ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরের পর খাদ্য মূল্যসূচক এতটা কখনোই বাড়েনি। শস্য, তেলবীজ, দুগ্ধজাত পণ্য, মাংস ও চিনি—পাঁচটি পণ্যেরই দাম বেড়েছে। করোনার কারণে কিছু দেশে নতুন করে চাহিদা বেড়েছে, অন্যদিকে সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। চলাচলের ওপর বিধিনিষেধের কারণে বাজার ও সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় স্থানীয়ভাবে সংকট তৈরি হয়েছে এবং দাম বেড়ে গেছে। অর্থনীতিবিদেরা আগেই মূল্যস্ফীতি বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। বেশির ভাগ দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রাস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রা ২ শতাংশ থেকে আড়াই শতাংশের মধ্যে রেখেছে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..