ইসরাইলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার দাবিতে ওয়াশিংটনে সমাবেশ

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : ইহুদিবাদী ইসরাইলের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবিতে আমেরিকার রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে। প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করে হাজার হাজার মানুষ ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে এই বিক্ষোভ-সমাবেশে যোগ দেন। আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গ রাজ্য থেকে এ সমস্ত মানুষ ওয়াশিংটনে এসে সমবেত হন। বিক্ষোভকারীরা ফিলিস্তিনিদের ওপর হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করতে ইহুদিবাদী সরকারের প্রতি আহ্বান জানান এবং তেল আবিব যে বর্ণবাদী নীতি অনুসরণ করছে তার নিন্দা করেন। পাশাপাশি ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলি দখলদারিত্বেরও অবসান দাবি করেন তারা। এছাড়া, বর্ণবাদী ইসরাইল সরকারকে যে অর্থনৈতিক সহায়তা দিয়ে আসছে মার্কিন সরকার তাও বাতিল করার কথা বলেন। ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইল যে যুদ্ধাপরাধ করে যাচ্ছে তা তদন্তে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের যেসব আইনজীবী কাজ করছেন তাদেরকে হয়রানি বন্ধ ও নির্বিঘেœ কাজ করার সুযোগ দেয়ার দাবি জানান সমাবেশে যোগদানকারীরা। সমাবেশ থেকে একথা পরিষ্কার হয়েছে যে, বাইডেন প্রশাসন ইসরাইলের লাগাম টেনে ধরতে আগ্রহী না হলেও সমাবেশে যোগ দেয়া লোকজন ইহুদিবাদী ইসরাইলের আগ্রাসন থেকে ফিলিস্তিনকে রক্ষা করতে প্রস্তুত, সব রকমের সাহায্য সহযোগিতা নিয়ে তারা তাদের ফিলিস্তিনি ভাই-বোনদের পাশে দাঁড়াতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আর গাজায় হামলা চালানোর ঘটনায় ইজরায়েলের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে (ইউএনএইচআরসি) আনা প্রস্তাবে ভারতের অনুপস্থিতি নিয়ে নয়াদিল্লির কাছে লিখিত প্রতিবাদ জানাল ফিলিস্তিন। আন্তর্জাতিক মঞ্চে আনা ওই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবে গাজায় ইজরায়েলের হামলার তদন্তে কমিশন গঠনের সুপারিশ করা হয়। ফিলিস্তিন জাতীয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, এর ফলে ফিলিস্তিন সহ বিশ্বের সব দেশেরই নাগরিকদের মানবাধিকারের পক্ষে ওঠা প্রতিবাদের কণ্ঠরোধ করা হলো। ‘‘এমন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ভারত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে জুড়ে যাওয়ার সুযোগ হারাল। দায়বদ্ধতা, সুবিচার ও শান্তির পক্ষে যা বিলম্বিত,’’ ভারতের বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে কড়া ভাষায় লেখা চিঠিতে এই কথা জানিয়েছেন প্যালেস্তাইন কর্তৃপক্ষের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিয়াদ আল-মালিকি। এদিকে ভারত ইউএনএইচআরসি’তে ভোটে অনুপস্থিত থাকার ঘটনাকে সমর্থন করেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুখপাত্র অরিন্দম বাগচী জানান অতীতেও ভারত এমন করেছে। পাশাপাশি ইজরায়েল ও ফিলিস্তিন নিয়ে ভারতের অবস্থান নতুন কিছু নয় বলেও দাবি করেন তিনি। আলোচনাই সমস্যা সমাধানের পথ জানান বাগচী। ভারতসহ ১৪ টি দেশ গাজায় ইজরায়লী হামলা, ফিলিস্তিনীয় ভূখণ্ডে পূর্ব পরিকল্পিত শোষণ ও ইজরায়েলের অভ্যন্তরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার জন্য তদন্ত কমিশন গঠনের প্রস্তাবে কোনও অবস্থান নেওয়া থেকে বিরত থাকে। গত ২৭ মে জেনেভায় ইউএনএইচআরসি’তে গাজায় ইজরায়েলী হামলার তদন্ত কমিশন গঠনের প্রস্তাবে পক্ষে রাশিয়া, চীন, পাকিস্তান, বাংলাদেশ সহ ২৪ টি দেশ ভোট দেয়। প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দেয় জার্মানি, ব্রিটেন, অস্ট্রিয়া সমেত ৯ টি দেশ। ভারতের মতোই ভোটদানে অনুপস্থিত থাকে ইতালি, ফ্রান্স, জাপান, নেপাল, হল্যান্ড, পোল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া। প্রস্তাবের পক্ষে ভোটদান থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি ভারত অতীতে ফিলিস্তিনীয়দের সংগ্রামের প্রতি দেখানো সংহতির অবস্থানটিও পরিবর্তন করে। এর জেরে আলোচনা শুরু হয়ে যায় ইজরায়েল ও ফিলিস্তিনের ক্ষেত্রে ভারত তার চিরাচরিত অবস্থান বদল করেছে। এদিকে ওয়াকিবহাল মহলে খবর, ভারত ইজরায়েলের পক্ষ নিতেই তৎপর। তাই ইজরায়েলকে কোনোভাবেই চটাতে নারাজ নয়াদিল্লি। কিন্তু ভারতের গোটা প্রচেষ্টাই বিফলে গেছে। ভারতের নিরপেক্ষ থাকার ঘটনায় ইজরায়েল এবং প্যালেস্তাইন কেউই খুশি নয়। এর সব থেকে বড় প্রমাণ ভারতের ভূমিকায় হতাশা প্রকাশ করেছে প্যালেস্তাইন কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে এর জন্য ভারতকে সামান্য ধন্যবাদটুকুও জানায়নি ইজরায়েল। প্রস্তাবের ওপরে ভোটগ্রহণের সময়ে ভারতের অনুপস্থিত থাকার ঘটনা ছাড়াও, প্যালেস্তাইনের ন্যায়সঙ্গত অধিকারের প্রশ্নে ভারতের এড়িয়ে যাওয়ার ঘটনায়ও মনক্ষুণ্ণ রামাল্লা। ‘‘অবিচারের মূল কারণ যা প্যালেস্তাইনের মানুষকে অধিকার হারিয়ে, জমি ছাড়া হয়ে, ঔপনিবেশিকতায় শোষিত হয়ে, ইজরায়েলের সমস্ত রকমের মানবাধিকার হরণের সম্মুখীন হতে হচ্ছে তা যদি অগ্রাধিকার না পায় তবে পরিস্থিতি শুধুই অশান্তই থাকবে না তার অবনতিও হতে পারে,’’ বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে লেখা চিঠিতে জানান রিয়াদ আল-মালিকি। এর আগে গত ২৭ মে রাষ্ট্রসঙ্ঘের মানবাধিকার পরিষদে গাজায় হামলা চালানোর ঘটনায় ইজরায়েলের বিরুদ্ধে আনা প্রস্তাবের ওপরে বিতর্কে অংশগ্রহণ করে ভারতের পক্ষ থেকে শান্তি ফেরাতে নেওয়া উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হয়।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..