কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা ছাড়া বেকার সমস্যার সমাধান হবে না

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের উদ্যোগে ’কর্মসংস্থানমুখী বাজেট চাই’- শীর্ষক সেমিনারে আলোচকরা বলেছেন, দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় কর্মসংস্থানকে প্রাধান্য দিয়েই বাজেট পরিকল্পনা করতে হবে। পুরোনো কর্মসংস্থানকে ধরে রেখে, নতুন নতুন আরো অনেক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। মানসম্পন্ন ও টেকসই কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা ছাড়া বেকার সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। সেই সাথে এখন থেকেই বেকার ভাতা চালু করা প্রয়োজন। গত ১ জুন অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে যুব ইউনিয়নের পক্ষ থেকে উত্থাপিত বক্তব্যে বলা হয়, আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতি পরিবারে একটি কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। এরপর তারা টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় রয়েছে। কিন্তু অঙ্গীকার পূরণ তো দূরের কথা, তারা এমনকী ন্যূনতম মাত্রাতেও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ব্যর্থ হয়েছে। যে প্রবৃদ্ধির সুচক দেখিয়ে সরকার উন্নয়নকে দৃশ্যমান করতে চাইছে, বাস্তবে তা বন্ধ্যা। কেননা উন্নয়নের সাথে কর্মসংস্থান সৃষ্টি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে। ‘প্রবৃদ্ধির আসক্তিতে আচ্ছন্ন সরকার। যেকোন প্রক্রিয়ায় প্রবৃদ্ধির সূচক সংখ্যা পূরণে সরকারের যে প্রচেষ্টা, তা নিছক ব্যর্থতাকে আড়ালের কৌশল মাত্র। যে উন্নয়ন পরিকল্পনায় নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় না, তা যতই চকচকে হোক না কেন, প্রকারান্তরে তা ফাঁপা। দেশের বৃহত্তম কর্মক্ষম যুব জনগোষ্ঠীকে কাজের বাইরে রেখে প্রকৃত উন্নয়ন বাগাড়ম্বর। এই মুহূর্তে তাই বৃহত্তর তরুণ ও যুব জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ। সাম্প্রতিক কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে সমাজের নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত অনেকেই আয়ের পথ হারিয়েছেন। কাজ হারিয়েছেন। এসময়ে নতুন করে প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের বিপুলসংখ্যক কর্মী কাজ হারিয়েছেন। অনেকে কর্মহীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। এ অবস্থায় বেকারের তালিকা আরও দীর্ঘ হবে। কর্মহীন নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত গ্রামে ফিরে যাচ্ছে। কাজে ফিরতে না পারা এসব মানুষ আরো দরিদ্রতার শিকার হচ্ছেন। বেঁচে থাকার প্রাণান্তকর চেষ্টায় ঋণগ্রস্ত হচ্ছেন অনেকে। সার্বিক বিবেচনায় স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি ও সামাজিক সুরক্ষা খাতের পাশাপাশি কর্মসংস্থানকে বাজেট পনিকল্পনায় অগ্রাধিকারে রাখতে হবে। কর্মসংস্থান কমিশন গঠন করে একটি স্বয়ংক্রিয় অনলাইন ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কর্মপ্রত্যাশী যুবদের নিবন্ধন নিশ্চিত করে, তাদের প্রশিক্ষণ, দক্ষতা ও চাহিদা অনুযাযী কাজের ব্যবস্থা করতে না পারলে কর্মসংস্থান সংকট থেকে স্থায়ী মুক্তি সম্ভব না,’ আলোচনার শুরুতে উত্থাপিত সূচনা বক্তব্যে বলে যুব ইউনিয়ন। তাদের সেমিনারে প্যানেল আলোচক হিসেবে ছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম এম আকাশ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের বিশেষ ফেলো অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুস্তাফিজুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক, উন্নয়ন অন্বেষনের চেয়ারম্যান ড. রাশেদ আল মাহমুদ তীতুমীর, গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার মোস্তফা জলি। যুব ইইনয়নের সভাপতি হাফিজ আদনান রিয়াদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক খান আসাদুজ্জআমান মাসুমের সঞ্চালনায় সেমিনারে যুব ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক আশিকুল ইসলাম জুয়েল, প্রেসিডিয়াম সদস্য সাজেদুর রহমান ঝিলাম, রিপায়ণ বড়ুয়া, এড, মাসুক মিয়া, পিনাক রঞ্জন দেবনাথ, কেন্দ্রীয় নেতা চেীধুরী জোসেন, সিয়াম সারোয়ার, মামুন কবীর, ছাত্রনেতা দীপকশীল উপস্থিত ছিলেন। সেমিনারে অধ্যাপক ড. এম এম আকাশ বলেন, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের ঝরেপড়া যুবদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজের ব্যবস্থা করতে হবে। আত্মকর্মসংস্থানের জন্য সহজ শর্তে যুবদের নগদ ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সাথে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে কার্যকর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। যুব ইউনিয়নকে ধারাবাবাহিক সংগ্রামের মাধ্যমে তাদের দাবি আদায়ে নীতি নির্ধারকদেরকে বাধ্য করতে হবে যেন এ বিষয়ে যথাযথ দৃষ্টি দিয়ে সরকার পর্যায়ক্রমে কর্মসংস্থানের কার্যকর ও টেকসই ব্যবস্থা নিশ্চিত করে। অধ্যাপক ড. মুস্থাফিজুর রহমান বলেন, মধ্যমেয়াদী পরিকল্পনায় শোভন কাজ নিশ্চিত করে, ডিজিটাল অর্থনীতিকে অগ্রাধিকার দিয়ে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে মনোযোগী হতে হবে। বাজেটে প্রশিক্ষণ, গবেষণা, শিক্ষা, বেকার ভাতাকে গুরুত্ব দিতে হবে। অন্তর্নিহিত বৈষম্য যেটা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে তা কমিয়ে আনতে হবে। করোনার অভিঘাতে একটা বড় অংশের মানুষের আয় কমে গেছে। সে বিষয়ে দৃষ্টি দিতে হবে। বাজেট বাস্তবায়নে দক্ষতা আরো বাড়াতে হবে। আমাদের হালনাগাদ তথ্যভান্ডার নেই। পর্যাক্রমে তা গড়ে তুলতে হবে। সঠিক তথ্যভান্ডার ছাড়া প্রকৃত চিত্র তুলে এনে তার ভিত্তিতে সমাধানের পরিকল্পনা গ্রহণ না করলে তা সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে অন্তরায় সৃষ্টি করে। অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তীতুমীর বলেন, আমাদের দেশের অর্থনীতি ইংরেজি ‘কে’ অক্ষরের মতো করে এগুচ্ছে। একদিকে ধনীরা আরো সম্পদশালী হচ্ছে। তাদের সম্পদ ক্রমশ আরো উর্ধ্বমুখী হচ্ছে। আর আরেক দিকে গরীবদের সম্পদ কমে তা তলানিতে গিয়ে ঠেকছে। ফলে সমাজে বৈষম্য বাড়ছে। পূনর্জীবন চক্র নির্ভর মধ্যমেয়াদী পরিকল্পনায় সার্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। কেননা আমাদের চলতি সামাজিক সুরক্ষার যে সকল উদ্যোগ তা নেওয়া হচ্ছে বেছে বেছে, কারো কারো জন্য। অনেকেই তা থেকে বঞ্চিত হয়। আমাদের যেহেতেু তারল্য সংকট নেই তাই সঠিক পরিকল্পনায় সেটা করা সম্ভব। গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার মোস্তফা বলেন, কর্মসংস্থান অবশ্যই মানসম্পন্ন হতে হবে। সেই সাথে শিক্ষাকেও গুরুত্ব দিতে হবে। সুপ্রশিক্ষিত ও দক্ষ না হলে টেকসই ও মানসম্পন্ন কর্মসংস্থান সম্ভব নয়। আমাদের বাজেটের একটি বড় অংশ ব্যয় হয় ক্রয় খাতে। যেখানে দুর্নীতির সুযোগ রয়েছে। এই দূর্নীতি বন্ধ করা গেলে সেই টাকায় বহু কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..