মহামারীতে ক্ষেতমজুরসহ গ্রামীণ মজুরদের পর্যাপ্ত খাদ্য, নগদ অর্থ ও চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার দাবি

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা প্রতিবেদক : সারাবিশ্বের মতো বাংলাদেশও আজ দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে করোনা মহামারীতে আক্রান্ত। করোনা পরিস্থিতিতে কর্মহীন হয়ে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ ক্ষেতমজুরসহ গ্রামীণ মজুরদের পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় লকডাউন চলাকালীন সময়ে ক্ষেতমজুরসহ গ্রামীণ মজুর ও দরিদ্র মানুষের ঘরে খাদ্যর নিশ্চয়তা সরকারকেই দিতে হবে। ৫ মে বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির উদ্যোগে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বক্তারা এসব বলেন। নেতৃবৃন্দ বলেন, করোনা মোকাবেলায় লকডাউন একটি কার্যকরী পদক্ষেপ। কিন্তু লকডাউন কার্যকরের জন্য সাধারণ গরিব শ্রমজীবী মানুষের ঘরে খাদ্য পৌঁছানোর ব্যবস্থা নেই। ফলে মানুষ লকডাউনের মধ্যেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজের আশায় ঘর থেকে বের হয়ে যাচ্ছেন। যার কারণে তাদের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছে। একদিকে ক্ষুধার যন্ত্রণা, অন্যদিকে করোনায় মৃত্যুকে সঙ্গী করেই এসব গরিব অসহায় মানুষের জীবন চলছে। নেতৃবৃন্দ করোনা মহাসংকটে গরিব মানুষদের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য, নগদ অর্থ ও চিকিৎসা সহায়তায় দাবি জানান। তারা অবিলম্বে সকল গরিব মানুষের তালিকা করে তাদের পল্লী রেশনিং এর আওতায় এনে সারা বছর স্বল্প মূল্যে রেশন প্রদানের দাবি জানান। নেতৃবৃন্দ করোনা মহামারীকালে সকল প্রকার ঋণের কিস্তি স্থগিত ও সুদ মওকুফের দাবি জানিয়ে বলেন গ্রামের এসব শ্রমজীবী সাধারণ মানুষ স্বাভাবিক সময়ে ঋণ পরিশোধে এগিয়ে থাকেন। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় এসব মানুষের সমস্যার কথা বিবেচনায় রেখে ঋণের কিস্তি আদায় বন্ধ ও সুদ মওকুফ করতে হবে। বক্তারা, প্রান্তিক বর্গাচাষীদের কাছ থেকে সরকারি দামে ধান ক্রয়েরও দাবি জানান। বিক্ষোভ সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, গত বছর করোনা মহামারীর সময়ে ৫০ লক্ষ পরিবারের তালিকা করে বিশেষ সহায়তা দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে আমরা দেখেছি সেখানে ব্যাপক দুর্নীতি-লুটপাট ও দলীয়করণ হয়েছে। যাদের সহায়তা পাওয়ার কথা, তারা সেই টাকা পাননি। তালিকায় ভুয়া নাম ও দুর্নীতির কারণে বরাদ্দকৃত অনেক টাকা বিতরণই করা হয়নি। গত বছরের দুর্নীতির কথা মাথায় রেখে এবার যাতে কোন দুর্নীতি না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। বিভিন্ন সমীক্ষার বরাত দিয়ে ক্ষেতমজুর নেতারা বলেন, গত এক বছরে দেশে প্রায় আড়াই কোটি পরিবার নতুন করে দরিদ্র হয়েছে। অথচ সরকার মাত্র ৩৫ লক্ষ পরিবারকে আড়াই হাজার টাকা করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। বক্তারা গ্রামীণ বরাদ্দ লুটপাট বন্ধের জোর দাবি জানান। বক্তারা আরও বলেন, করোনায় বিনা চিকিৎসায় ইতিমধ্যে অসংখ্য মানুষ মৃত্যুবরণ করেছেন। হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নেই। স্বাস্থ্যখাতে ব্যাপক দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা আজ দেশবাসীর সামনে পরিষ্কার হয়ে গেছে। নেতৃবৃন্দ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা নিশ্চয়তার দাবি করেন সমাবেশে। নেতৃবৃন্দ আগামী বাজেটে গ্রামীণ শ্রমজীবী মানুষের জন্য সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখার জোর দাবি জানান। ক্ষেতমজুর সমিতির সভাপতি ডা, ফজলুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. আনোয়ার হোসেন রেজা, নির্বাহী কমিটির সদস্য মোতালেব হোসেন, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কল্লোল বণিক, যুব ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খান আসাদুজ্জামান মাসুম, হকার্স আন্দোলনের নেতা মুর্শিকুল ইসলাম শিমুল, ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক দীপক শীল। পরিচালনা করেন সংগঠনের সহ-সাধারণ সম্পাদক অর্ণব সরকার। ক্ষেতমজুর সমিতি একই দাবিতে ৬ মে দেশব্যাপী উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কর্মসূচি পালন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি পাঠিয়েছে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..