বিধানসভা নির্বাচন: কেরালায় ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে বামপন্থিরা

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
ভারতের দক্ষিণের রাজ্য কেরালায় বিধানসভা নির্বাচনে ১৪০টি আসনের মধ্যে ৮০টিতে এগিয়ে আছে পিনারাই বিজয়ান নেতৃত্বাধীন এলডিএফ। কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ এগিয়ে ৪৪টি আসনে। টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, যদি ফলাফলের এই ধারা অব্যাহত থাকে তবে আরও পাঁচ বছরের জন্য কেরালার মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন বিজয়ান। সেটা হলে গত ৪০ বছরের মধ্যে কেরালায় এই প্রথম ক্ষমতাসীন দল পুনঃনির্বাচিত হবে। ভারতে বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের পুনঃনির্বাচিত হওয়া খুবই সাধারণ ঘটনা। কিন্তু এতদিন ব্যতিক্রম ছিল কেরালা। গত চার দশক ধরে রাজ্যটিতে কোনো ক্ষমতাসীন দল পুনঃনির্বাচিত হয়নি। বরং এলডিএফ থেকে ইউডিএফ, আবার ইউডিএফ থেকে এলডিএফ-র হাতে পাঁচ বছরের জন্য ক্ষমতার পালা বদল হয়েছে। এলডিএফ-র এই ইতিহাস গড়ার পেছনে বিজয়ান মূল ভূমিকা পালন করেছেন বলে মত অনেকের। যদিও গত পাঁচ বছরে তার বিরুদ্ধে নানা ইস্যুতে পুরো রাজ্য বিভক্ত হয়েছে। সঙ্গে শবরীমালা মন্দিরে ঋতুমতী নারীদের প্রবেশ নিয়ে বিতর্ক, দুর্নীতির অভিযোগ এবং বর্তমানে সেখানে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি খারাপ হওয়া নিয়ে বিজয়ানকে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। কিন্তু সমালোচিত হলেও বিজয়ান ঠিকই রাজ্যবাসীর কাছে নিজেকে গণ মানুষের নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন। তার দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, মানবিক বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং রাজ্যবাসীর কল্যাণে নানা ‘ওয়েলফেরার স্কিমে’ অধিক গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি সাধারণ ভোটারদের কাছে তাকে জনপ্রিয় করে তুলেছে। ভারতে বামপন্থিদের অবস্থা এখন মোটেও সুবিধার নয়। পশ্চিমবঙ্গ এবং ত্রিপুরায় বামপন্থি দলগুলো অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। ভারতের রাজনীতিতে নিজেদের অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখতে বামপন্থি দলগুলোকে রীতিমত লড়াই করতে হচ্ছে। সেখানে কেরালায় বামপন্থিদের পুনঃনির্বাচিত হওয়া নিঃসন্দেহে তাদের জন্য দারুণ কিছু। কারণ কেরালায় হেরে গেলে ভারত হয়তো ‘বাম-মুক্ত ভারতে’ পরিণত হত।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..