৪৭ ভাগ গৃহকর্মীই নির্যাতনের শিকার

Posted: 03 নভেম্বর, 2019

একতা প্রতিবেদক : গত মাসের শেষ সপ্তাহে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে গৃহকর্মী জান্নাতীর (১২) রহস্যজনক মৃত্যু হয়। পরে পুলিশ জানতে পারে, শিশুটিকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। শিশুটির ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে এটাও বলা হয়েছে, শিশুটি ধর্ষণেরও শিকার হয়েছিল। ঘটনার পর পুলিশ বাসার গৃহকর্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে। আর গৃহকর্তা বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী পলাতক রয়েছেন। গৃহকর্মী নির্যাতনের এটি একটি উদাহরণ মাত্র। দেশে প্রতিদিন জান্নাতীরা এভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। জরিপ বলছে, দেশে ৪৬.৯৪ শতাংশ গৃহকর্মী গৃহস্থলে কর্মরত অবস্থায় বিভিন্নভাবে আঘাতপ্রাপ্ত ও শারীরিকভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এর মধ্যে ৩৫.৫১ শতাংশ শিশু এর ফলে মানসিক ব্যাধিতে ভুগে ও ৬৮.৪৯ শতাংশ শিশু প্রতিনিয়ত বিভিন্ন রকম মৌখিক শাস্তির শিকার হচ্ছে। তাছাড়া ১৭.১৪ শতাংশ শিশু শারীরিকভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। জরিপে আরো উঠে এসেছে, গণপরিবহন সেক্টরে কাজ করা ৬৮.৪৯ শতাংশ শিশুরা প্রতিনিয়ত চালক এবং যাত্রীদের কাছে মৌখিকভাবে অপমানের শিকার হচ্ছে। ৬৪.০৪ শতাংশ শিশু ঝুঁকিপূর্ণভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ৩৬.৯৯ শতাংশ শিশু মানসিক রোগে ভুগছে। এ ছাড়া ঢাকা শহরের ৩১টি সড়কে এক হাজার ৬৪২ জন শিশু লেগুনা বা গণপরিবহনে কাজ করে যাচ্ছে। যার মধ্যে আনুমানিক এক হাজার ৬৪ জন শিশু হেলপার হিসাবে কাজ করে। তাছাড়া ৮৩.৬৫ শতাংশ গৃহকর্মী এবং ৬৯.৩৮ শতাংশ পরিবহন সংস্থায় কর্মরত শিশুরা যাদের অধিকাংশের বয়স ৮-১৩ এর মধ্যে। শিশুশ্রমিকদের শিক্ষার ব্যাপারে দেখা গেছে, ৫৮.৭৩ শতাংশ গৃহকর্মী এবং ৮২.৬৫ শতাংশ গণপরিবহন কর্মী কোনোদিন স্কুলে যায়নি। ৯৬.৪৩ শতাংশ গৃহকর্মী এবং ৯৯.৩২ শতাংশ গণপরিবহন কর্মী কারিগরি শিক্ষাও পায়নি। শিশুশ্রমিকদের চিকিৎসার ব্যাপারে সার্ভেতে দেখা গেছে, গৃহকর্মে নিয়োজিত এবং পরিবহন ক্ষেত্রে নিয়মিত ৮৩.২৭ শতাংশ শিশুদের কোনো চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া হয় না।