‘লোটা-কোনোমিক্স’

Posted: 06 অক্টোবর, 2019

একতা প্রতিবেদক : বাংলাদেশের মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দিতে স্বাধীনতার পর পরই এদেশে ক্ষুদ্রঋণের ব্যাপক প্রচলন শুরু হয়। শুধু বাংলাদেশ নয়, সার বিশ্বেই এই ক্ষুদ্রঋণের জনক হিসেবে গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক প্রধান ড. মুহম্মদ ইউনুস পরিচিত। তিনি প্রায় চল্লিশ বছর ক্ষুদ্রঋণ পরিচালনার মাধ্যমে দারিদ্র্য-নির্মূল ব্যবসা চালানোর পর সারাবিশ্বকে জানিয়ে দিয়েছিলেন, ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘২০২০ সালে বাংলাদেশে কেউ যদি দরিদ্র ব্যক্তির সাক্ষাত পেতে চায় তাহলে তাঁকে জাদুঘরে যেতে হবে।’ (কোন জাদুঘরে যেতে হবে সেটি বুদ্ধিমান ইউনুস সাহেব উহ্য রেখেছিলেন)। এটা সবাই এখন স্বীকার করবেন, মহাবিশ্বের মহা-ইকোনোমিস্ট ড. ইউনুসের কথা আজ অক্ষরে অক্ষরে ফলেছে! বাংলাদেশ থেকে দারিদ্র্য একেবারে ফুরুত...! রাজধানীর শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরে দেশ-বিদেশের যত লোক টিকেট কেটে পরিদর্শন করে তাদের ৮০ ভাগই নাকি সেখানকার দরিদ্র্য মানুষের গ্যালারি দেখতে যায়। সেখানে গ্যারালিতে বসা দরিদ্র্য মানুষেরা নাকি ড. ইউনুসের প্রতি খুবই কৃতজ্ঞ। তাঁরা দর্শনার্থীদের দেখেই বলে, ড. ইউনুসের কল্যাণে আজ আমরা জাতির দর্শনীয় বস্তুতে পরিণত হয়েছি। আমরা এখানে খুব সুখে আছি। কিন্তু ইউনুস সাহেবকে বলবেন, আমাদের এখানে আর ভাল লাগে না। খাওয়া-দাওয়ার মান কমে গেছে। আমরা চান্দের দেশে চলে যাব। কিন্তু বললেই তো হবে না। বাংলাদেশ থেকে ‘দারিদ্র্যকে’ চিরতরে মুছে ফেলার স্বীকৃতিস্বরূপ সরকার ড. মুহাম্মদ ইউনুসের হাত থেকে গ্রামীণ ব্যাংক কেড়ে নিয়ে চিরতরে অবসরে পাঠিয়ে দিয়েছে। ইকোনোমিস্ট ইউনুসের এই ক্ষুদ্রঋণের অর্থনৈতিক মডেলকে ঠাট্টা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্ন্তজাতিক সম্পর্ক বিভাগের এক শিক্ষক নাম দিয়েছিলেন ‘ইউনু-কোনোমিস্ক’। ইতিহাসের নিয়ম তাই, কারো জন্য কোনো কিছু আটকে থাকে না। একজন চলে যাবে আরেকজন আসবে। এক মডেল চলে যাবে আরেক মডেল আসবে। ড. ইউনুস যে দারিদ্র্যকে জাদুঘরে পাঠিয়েছিলেন, সেই দরিদ্রদের চান্দের দেশে পাঠানোর খায়েশ পূরণ করার মতো একজন অর্থনীতিবিদ(!) সদয় হয়ে আবির্ভাব ঘটেছে। তিনি হচ্ছেন আমাদের দেশের অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেছেন, ‘২০৩০ সালে বাংলাদেশে দরিদ্র মানুষ খুঁজে পেতে হলে টেলিস্কোপ লাগবে।’ মানে, দরিদ্ররা মানুষ সব চাঁন্দে চলে যাবে। আর বাংলাদেশের মাটিতে বসে মানুষ টেলিস্কোপ দিয়ে দরিদ্রদের দেখবে! আমাদের মাননীয় অর্থমন্ত্রী মানুষের কাছে ‘লোটাস কামাল’ নামেও ডাকে। তাহলে নিশ্চিতভাবেই আমরা তাঁর দারিদ্র্য নির্মূলের এই অর্থনীতির মডেলকে ‘লোটা-কনোমিস্ক’ বলে ডাকতেই পারি!!