১০ বছরে ‘উদ্ধার হয়নি একটি নদীও’

Posted: 15 সেপ্টেম্বর, 2019

একতা প্রতিবেদক : গত ১০ বছরে একটি নদীও পুরোপুরি উদ্ধার হয়নি উল্লেখ করে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) বলছে, ভুল পিলার বসানোয় উদ্ধার কার্যক্রম শেষ বিচারে অসম্পূর্ণ ও ত্রুটিপূর্ণই থেকে যাচ্ছে। প্রশাসনের অসহযোগিতার কারণে সরকারের নদী রক্ষার উদ্যোগে সুফল মিলছে না। গত ১১ সেপ্টেম্বর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলে বাপা। বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাপার সাধারণ সম্পাদক আবদুল মতিন। সংবাদ সম্মেলনে বুড়িগঙ্গা বাঁচাও আন্দোলনের সদস্য সচিব মিহির বিশ্বাস, অধ্যাপক ড. আহম্মদ কামরুজ্জামান মজুমদার, বাপার যুগ্ম সম্পাদক শরীফ জামিল ও রিভারাইন পিপলের প্রধান নির্বাহী শেখ রোকনসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন। বক্তারা বলেন, হাইকোর্টের রায়ে নদীকে ‘জীবন্ত সত্ত্বা’, ‘আইনি সত্ত্বা’ ও ‘আইনি ব্যক্তি’ হিসেবে ভূষিত করা হয়েছে। আমরা সরকারি সকল দপ্তরকে সার্বিক সহযোগিতা দেওয়ার পরও গত ১০ বছরে একটি নদীও পুরোপুরি দখলমুক্ত হয়নি। আমরা বিশ্বাস করি, সরকার ইচ্ছে করলে নদী রক্ষা করতে পারে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর নদী রক্ষায় বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। সারা দেশে চার হাজার ৪৪৩ জন নদী দখলকারী চিহ্নিত করা হয়েছে। এই তালিকা ধরে পর্যায়ক্রমে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। বাপার সাধারণ সম্পাদক বলেন, দেশের নদীগুলো শিল্পপতি ও ক্ষমতাসীনদের লুটপাটের কবলে। সরকারের ওপর মহল থেকে যে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে, তা নিচের স্তরে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে না। শুধুমাত্র প্রশাসনের অসহযোগিতার কারণে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে একদিকে নদী থেকে দখল উচ্ছেদ হচ্ছে, অন্যদিকে আবার দখল হচ্ছে। নদী রক্ষায় কোনো সুফল মিলছে না। তিনি বলেন, দেশের নদীগুলো শিল্পপতি ও ক্ষমতাসীনদের লুটপাটের কবলে। সরকারের উপর মহল থেকে যে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে, তা নিচের স্তরে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে না। শুধুমাত্র প্রশাসনের অসহযোগিতার কারণে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে একদিকে নদী থেকে দখল উচ্ছেদ হচ্ছে, অন্যদিকে আবার দখল হচ্ছে। নদী রক্ষায় কোনো সুফল মিলছে না। নদী রক্ষায় বেসরকারি বিভিন্ন সংগঠনগুলোর দীর্ঘদিনের দাবিতে সরকার গুরুত্ব দেয়নি। দুর্নীতিবাজ আমলা ও প্রভাবশালীদের কারণে নদী দখল রোধ করা সম্ভব হয়নি। ওয়াটার কিপার্স বাংলাদেশ-এর সমন্বয়ক শরীফ জামিল বলেন, দখল-দূষণ অব্যাহত রেখে উদ্ধার তৎপরতা নদী ও দেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতি। এই ত্রুটিপূর্ণ উদ্যোগের ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে বড় বড় নদী দখলদার চিরস্থায়ী বৈধতা পাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রশাসন ও রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় নদীগুলোকে ধ্বংস করা হয়েছে। এই দখল-দূষণের সঙ্গে জড়িত সবার শাস্তির দাবি জানাই। কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, আমাদের অভ্যন্তরীণ নদীর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নদীগুলোকেও রক্ষায় কাজ করতে হবে। প্রতি বছর গড়ে ১টি নদী ও ১৫টি খাল বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। যা সারা বিশ্বের জন্য হুমকিস্বরূপ। সংবাদ সম্মেলনে আয়োজকরা জানান, নদী দখলদারদের বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলে সাধারণত জনগণকে অনেক হুমকির সম্মুখীন হতে হয়। সরকারের পাশাপাশি জনগণকেও নদীরক্ষায় কাজ করতে হবে। ফৌজদারি আইন ও সংশোধন করতে হবে। যেন দখলদাররা নদীকর্মীদের বিরুদ্ধে কোনো ভয়ভীতি দেখানোর মতো দুঃসাহস না পায়। দেশের অভ্যন্তরীণ নদীর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নদীগুলোকেও রক্ষায় কাজ করতে হবে। আগামী ২২ সেপ্টেম্বর বিশ্ব নদী দিবস সামনে রেখে আগের দিন বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। ওই দিন সকালে ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কে ঢাকায় ৭০টি সংগঠনের নেতকর্মীরা জমায়েত হয়ে পদযাত্রা শুরু করবে। এটি বুড়িগঙ্গা নদীর পাড়ে সদরঘাট টার্মিনালে গিয়ে শেষ হবে। এরপর নদী রক্ষায় বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা হবে। এতে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীসহ সরকারের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে বলে জানানো হয়।