কমিউনিস্ট পার্টি সংগঠন ও সংগঠক

Posted: 04 আগস্ট, 2019

মৃণাল চৌধুরী : সংগঠক বা ‘ক্যাডার’ হলো পার্টির অগ্রসর কর্মী। আগামীতে যাদের নেতৃত্বে আসার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয় তারাই ক্যাডার বলে বিবেচিত। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বুর্জোয়া দলগুলির দেউলিয়াত্ব সৃষ্টি হয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য কমিউনিস্ট পার্টির প্রয়োজন শত শত অগ্রসর কমিউনিস্ট কর্মী/ ক্যাডার। কমিউনিস্ট গ্রুপ ও কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে পার্থক্য আছে। একটি সফল রাজনৈতিক দল হিসাবে বহুমূখী কর্মতৎপরতা চালাতে হলে অনেক অনেক ত্যাগী ক্যাডার প্রয়োজন। তাছাড়া কেন্দ্র ও বিভিন্ন জেলায় পার্টির বর্তমান নেতৃত্বের অনেকের বয়স বেড়েছে। সুতরাং এই মুহূর্তে ক্যাডার বাহিনী গড়ে তোলার বিষয়টি পার্টি নেতৃত্বকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে। ক্যাডারদের মধ্যে অনেকে সার্বক্ষণিক কর্মী হবেন। সকলে হয়তো সাবক্ষণিক হতে পারবেন না। তবে তাদের যথার্থ অর্থে কমিউনিস্ট হতে হবে। প্রত্যেক জেলা পার্টিকে ৩/৪ জনের ক্যাডার তালিকা প্রণয়ন করত: অন্তত তার মধ্যে ২/১ জন সার্বক্ষণিক যাতে পাওয়া যায় তার জন্য সচেষ্ট থাকা প্রয়োজন। ‘ক্যাডার’ তালিকা প্রণয়নের সময় কেবল মধ্যবিত্ত তরুণদের দিকে দৃষ্টি দিলে হবে না। শ্রমিক, কৃষক, ক্ষেতমজুর ও নারী কমরেডদের প্রতিও দৃষ্টি রাখতে হবে। বাছাইকৃত কমরেডদের মধ্য থেকে যারা ‘ক্যাডার’ বা ভবিষ্যত নেতৃত্ব গড়ে তোলার দায়িত্ব নেবেন তাদেরকেও ভালো কমিউনিস্ট হতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে যারা ক্যাডারদের গড়ে তোলার দায়িত্ব নেবেন এবং তাদের মধ্যে কমিউনিস্ট গুণাবলী ও নৈতিকতা বোধ জাগ্রত করতে চান তাদেরকেও একই গুণাবলী ও নৈতিকতা অর্জন করা প্রয়োজন। অন্যথায় ক্যাডার তার আস্তা ও বিশ্বাস হারিয়ে ফেলতে পারেন। ক্যাডারদের সাহসের সাথে দায়িত্ব দিতে হবে। বাল্য অবস্থায় কাউকে সাঁতার শেখানোর সময়ে বুকে হাত দিয়ে মাঝে মাঝে হাত ছেড়ে দিতে হয়। ক্যাডারদের গড়ে তোলার কাজটিও অনেকটা সেরকম। তাদের তালিকা করে বই পড়ানো, সাপ্তাহিক একতা নিয়ে আলোচনা করা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। ক্যাডারদের বিভিন্ন সময়ে নির্দিষ্ট সভা, কর্মীসভা ও জনসভায় বক্তৃতা দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। কখনো কখনো কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে পেপার প্রস্তুত করে সভা, সেমিনারে তা পেশ করার সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। পার্টি নেতৃত্বকে ‘এ ব্যাপারে প্রস্তুতির জন্য তাকে সাহস দেওয়া পুস্তক-পুুস্তিকা ও আলোচনার পয়েন্টস সরবরাহ করতে হবে। বাছাইকৃত কমরেডরা যাতে পার্টি গ্রুপ, শাখা পরিচালনায় দক্ষ হয়ে উঠতে পারেন সেজন্য নেতৃত্বের উপস্থিতিতে গ্রুপ পরিচালনার সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। পরবর্তীতে তার সাথে আলোচনা করে ভুল সংশোধন করে দেওয়া নেতৃত্বের দায়িত্ব। কোনো কোনো সময় কাজের পদ্ধতি নিয়ে তরুণ ক্যাডারদের সাথে নেতৃত্বের গ্যাপ সৃষ্টি হয়। ধৈর্য ধরে সময় নিয়ে তার সাথে বন্ধুত্বমূলক বিতর্কের পরিবেশ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। আমাদের পার্টি যেহেতু শ্রমিক শ্রেণি ও শ্রমজীবী জনগণের বিপ্লবী রাজনৈতিক দল, সেহেতু ক্যাডাররা যাতে শ্রমিক, কৃষক ও ক্ষেতমজুরদের মধ্যে কাজ করে তার জন্য উৎসাহ সৃষ্টি করতে হবে। পার্টির কাছে পার্টি সদস্যদের গোপনীয় বলতে কিছু থাকতে পারে না। বিষয়টি পার্টি নেতা ও ক্যাডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পার্টির রাজনীতি, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক জীবন ক্যাডারদের অন্তত সব কিছু পার্টির কাছে উন্মুক্ত থাকতে হবে। এসব বিষয়ে সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহীতার সাহস ক্যাডারদের থাকা প্রয়োজন। সমালোচনা ও আত্মসমালোচনা পার্টির প্রাণ। নেতৃত্বকে নিজের পার্টি জীবনে যথাযথভাবে প্রয়োগ করে সমালোচনার সীমা পরিসীমা শিক্ষার সাথে সাথে ক্যাডারদের আত্ম সমালোচনায় সাহসী হবার শিক্ষা দিতে হবে। সংগ্রামের চ্যালেঞ্জের সাথে সাথে একজন ক্যাডারকে জ্ঞানের চ্যালেঞ্জ, তথ্যের চ্যালেঞ্জ, যুক্তির চ্যালেঞ্জ ও গ্রহণ করতে হবে। আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ হতে উঠতে হবে। ‘এ কাজে পার্টির বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতা প্রয়োজন। দর্শন, রাজনীতি জ্ঞান, দক্ষতা ও যোগ্যতা অর্জন করার জন্য রাজনৈতিক দর্শন ও অর্থশাস্ত্র বই পুস্তক ছাড়াও প্রকৃতি পরিবেশ ধর্মশাস্ত্র গল্প উপন্যাস যখন যেখানে যা পাওয়া যায় তা দু-হাতে কুড়িয়ে নিয়ে শ্রেণি দৃষ্টিভঙ্গিতে যাচাই বাছাই করে যেখানে যতটুকু প্রয়োগ করা সম্ভব তা করতে হবে। সকল বিষয়ে আলাদা আলাদা নোট রেখে যখন যেখানে যতটুকু প্রয়োগ করা যায় তার জন্য সচেষ্ট থাকতে হবে। প্রস্তুতি ছাড়া বক্তব্য দেওয়া অনুচিত। আকস্মিকভাবে কোথাও কিছু বলার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে মাইক স্ট্যান্ডে যাওয়ার সময়ের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ২/১ টি পয়েন্ট ভেবে নিতে হয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কঠিন কথাকে সহজ করে বলার চর্চা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একজন রাজনৈতিক ক্যাডার বা সংগঠকের জন্য রাজনৈতিক চেতনা বা তত্ত্বগত জ্ঞান থাকা যথেষ্ট নয়। অবশ্যই তার থাকতে হবে গণচেতনা। যত বেশি গণমানুষের সঙ্গে মেলামেশা করবেন ততো বেশি তার গণচেতনার বিকাশ ঘটবে। সংগ্রামের সাফল্য সব সময়ে আসে না। একজন সংগঠক বা ক্যাডারের প্রধান সাফল্য হলো তার সাংগঠনিক কর্মক্ষেত্রে জনগণের আস্থা অর্জন করা। তাদের আপনজন হিসাবে বিবেচিত হওয়া। যে সেক্টর বা যে এলাকায় কাজ করেন সেখানে কাজের ধারাবাহিকতা থাকা প্রয়োজন। জনগণের গ্রহণযোগ্য এবং আদায়যোগ্য দাবি বাছাই করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জয় পরাজয় যাই হোক শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। মনে রাখা প্রয়োজন বুর্জোয়া সমাজে স্থায়ী সাফল্য আসবে না। বুর্জোয়া সমাজের প্রবল স্রোতে অথবা চোরাগলিতে সাময়িক সাফল্য স্থায়ী হবে না। তাই কর্মক্ষেত্রে সৎ, চরিত্রবান, সাহসী ৪/৫ জনের সাথে ঘনিষ্ট যোগাযোগ, শ্রেণি দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোচনা এবং ক্রমে পার্টি গ্রুপ গঠনের দিকে দৃষ্টি দিতে হবে। বুর্জোয়া সমাজে নির্যাতিত জনগণের আমরা কেবল বন্ধু নই, আমরা সমাজ পরিবর্তনের বিপ্লবী। নিষ্ক্রিয়তা বর্তমানে পার্টির জন্য একটি বড় সমস্যা। প্রত্যেকের সম্পর্কে নেতা বা ক্যাডারের আলাদা আলাদা জরিপ থাকা প্রয়োজন। সদস্যদের মধ্যে একটি আত্মীয়তার বন্ধন গড়ে তোলা খুবই জরুরি। ব্যক্তিগত আলাপে নিষ্ক্রিয় সদস্যকে উজ্জীবিত করা এবং তার পরিবারের সমস্যা সংকটে পাশে থাকাও গুরুত্বপূর্ণ। একজন ক্যাডারকে পরিচালনা করবেন একজন দায়িত্বশীল নেতা। একজন ক্যাডারকে বহুজনে পরিচালনা করা সঠিক নয়। তাতে নানা সমস্যা হতে পারে। একজন সৎ সাহসী নীতিনিষ্ট ও দায়িত্বশীল ক্যাডার সৃষ্টির জন্য যিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত হবেন তাকেও উপরোক্ত গুণগুলির অধিকারী হতে হবে। মনে রাখতে হবে ক্যাডার কখনো নেতার সহকারী নয়, তিনি কেবলমাত্র পার্টির ক্যাডার। একজন ক্যাডারের দায়িত্ব হতে হবে সুনির্দিষ্ট সেক্টরে। সেখানেই তার সাফল্য ও ব্যর্থতা নির্ভর করে। কর্মক্ষেত্রে ক্যাডার যাতে স্থায়ী হতে পারেন, সফলতা পান নেতৃত্ব তাকে সহযোগিতা করবেন। নেতা হবেন ক্যাডারের আশ্রয়স্থল। ‘আপনাকে জানা আমার ফুরাবে না’। একজনের মধ্যে বহুগুণ সুপ্ত অবস্থায় থাকে। ক্যাডারের সুপ্ত গুণাবলীকে প্রস্ফুটিত করা, জাগরিত করাই নেতৃত্বের কাজ। খারাপ দিকগুলির সমালোচনা ও সংশোধনের প্রচেষ্টার সাথে সাথে ভালো দিকগুলির প্রশংসা করে তার মধ্যে আত্মবিশ্বাস জাগানো প্রয়োজন। আত্মবিশ্বাস থেকে আসবে আত্মতুষ্টি। তাতেই ক্যাডার দায়িত্ব নিতে নির্ভার হবেন। ক্যাডার বাছাইয়ের সময়ে তার পারিবারিক অবস্থা ও বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। পারিবারিক সংকট যাদের অপেক্ষাকৃত কম তাদের দিকেই দৃষ্টি দেওয়া উচিত। ক্যাডার কমরেডরা যাতে সার্বক্ষণিক হন সে ব্যাপারে সচেষ্ট থাকতে হবে। সার্বক্ষণিক হতে না পারলেও ক্যাডারকে হতে হবে পেশাদার বিপ্লবী। পার্টি শপথ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ত্যাগের জন্য তার মনোবল থাকতে হয়। বুর্জোয়ামন নিয়ে বুর্জোয়াদের পরাজিত করা বা বুর্জোয়া সমাজ ভাঙা যাবে না। ব্যক্তি জীবনে কমিউনিস্টদের কম সুখ ভোগ করার অভ্যস্ত হয়ে উঠতে হয়। ‘এক্ষেত্রে নেতা ও ক্যাডাররা হবেন উদাহরণ। একজন সংগঠক ক্যাডারকে বিপ্লবের স্বার্থে বিপ্লবী জীবন রক্ষার স্বার্থে লোভ, ক্ষোভ পরিহার করতে হয়। যেকোনো ক্ষেত্রে মান অপমান বিচার করার সময়ে বিবেচনা করতে হবে কোনটি পার্টি জীবন রক্ষার জন্য সহায়ক। পার্টি নেতা, সংগঠক ও ক্যাডার একই সময়ে নিজেকে আসামির কাটগড়ায় দাঁড় করিয়ে নিজেকে প্রশ্ন করবেন এবং বিচারকের আসনে বসে রায় দেবেন। বিচারকের দৃষ্টিতে যদি তার দায়িত্বের কোনো অবহেলা হয়ে থাকে তাহলে দ্বিগুণ শ্রম দিয়ে তিনি তা সম্পূর্ণ করবেন। “আমি জেনে শুনে বিষ করেছি পান”। অন্যের সুখ দেখে ঈর্ষান্বিত হওয়া যাবে না। এমনকি পার্টির মধ্যেও কারো কারো অতিরিক্ত সুখ দেখে প্রলুব্ধ হওয়া উচিত নয়। অন্যকে বদলানোর প্রচেষ্টা থাকবে, সমালোচনা থাকবে। কিন্তু নিজেকে নিচে নামানো যাবে না। নিজেকে সব সময়ে পাহাড়ায় রাখতে হয়। তিনিই বড় কমিউনিস্ট যিনি চর্চা করেন-“ত্যাগ করো সবার আগে, ভোগ করো সবার শেষে”। বিপ্লবের সংস্কৃতি হলো কমিউনিস্টদের মাতৃভূমি। প্রতি মুহূর্তে যে সংস্কৃতির চর্চা করা প্রয়োজন। ক্যাডারদের দাম্পত্য জীবনের সাথী নির্বাচনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সচেতন ও সতর্ক থাকতে হয়। রাজনৈতিক সহযোদ্ধাকে জীবন সাথী নির্বাচন করতে পারলে ভালো হয়। দাম্পত্য জীবন শুরুর আগে উভয়ের মধ্যে রাজনীতি ও পারিবারিক জীবন নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করা প্রয়োজন। ‘এ ব্যাপারে পরিকল্পনাও গুরুত্বপূর্ণ। কোনো কোনো কমরেডকে পারিবারিক চাহিদার কারনে অধিক উপার্জনের জন্য ব্যস্ত হতে হয়। পারিবারিক সদস্যদের বিপ্লবী রাজনীতির সমর্থন করা না গেলে তারা সব সময়ে পেছনে টানবে। সুতরাং পরিবারকে রাজনীতিমুখীন করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। মধ্যবিত্ত, উচ্চবিত্ত পরিবারের কমরেডদের চিন্তা করতে হবে তিনি যে সমস্যা সংকটের কারণে পশ্চাদপসরণ করতে চান সে সকল সমস্যা-সংকট শ্রমিক, কৃষক যাদের মুক্তির জন্য তিনি শপথ নিয়েছেন তাদের জীবনে আছে কি না ? সংসার ছেড়ে কেউ কেউ সন্ন্যাস গ্রহণ করে। আবার ব্যক্তিগত প্রেম/ভালবাসার জন্যও কেউ কেউ জীবন ত্যাগে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করে না। একজন রাজনৈতিক ক্যাডারের জন্যও প্রথম ও শেষ প্রেম হলো বিপ্লব। সেই বিপ্লবের জন্য ত্যাগের প্রতিশ্রুতিই হলো রাজনৈতিক ক্যাডারের রক্ষা কবচ। পার্টিতে এমন নিয়ম নীতি, সংস্কৃতি চালু করা প্রয়োজন যিনি যত বেশি ত্যাগ করবেন তিনি ততো বেশি সম্মানিত, প্রশংসিত হবেন। সুতরাং পার্টির সার্বক্ষণিক ও প্রতিশ্রুতিশীল ক্যাডাররা পাবেন সর্বোচ্চ সম্মান ও মর্যাদা। পার্টিকে সার্বক্ষণিক ও ক্যাডারদের রক্ষার প্রয়োজনে তারা যাতে অন্তত: সাধারণভাবে জীবন-যাপন করতে পারেন সে বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। সার্বক্ষণিক ও ক্যাডারদের রক্ষার জন্য আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন। তাদের জন্য আলাদা তহবিল ও আলাদা ব্যাংক একাউন্ট পরিচালনা করতে হবে। থাকতে হবে আলাদা বাজেট। বৎসরে অন্তত: একবার ক্যাডার তহবিল অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন। দেশে বা বিদেশে মোটা অংকের আর্থিক সহযোগিতা করতে পারেন এমন সমর্থক শুভানুধ্যায়ীদের তালিকা করে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নিতে হবে। কেন্দ্র ও জেলা কার্যালয়ে ‘ক্যাডার ও সার্বক্ষণিক তহবিল’ বাক্স বসানো যায় কিনা চিন্তা করা যায়। প্রতিদিন যারা অফিসে আসেন পার্টির নেতা, কর্মী সমর্থকরা ঐ বাক্সে কিছু না কিছু চাঁদা দেওয়ার ব্যাপারে উৎসাহ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। এছাড়া পার্টি সদস্যের বিবাহ উপলক্ষে ক্যাডার সংরক্ষণ তহবিলে চাঁদা/ অনুদান প্রদানের নিয়ম চালু করা যায়। দরিদ্র কমরেডদের জন্য স্বেচ্ছামূলক এবং স্বচ্ছল কমরেডদের কমপক্ষে বিবাহ উপলক্ষে খরচের ১% চাঁদা প্রদানের নিয়ম চালু করা যায়। পার্টি কমরেডদের ছেলে-মেয়ে বিবাহ উপলক্ষে কম বেশি কিছু চাঁদা দেওয়ার ব্যাপারেও উৎসাহিত করা যায়। প্রত্যেক পার্টি সদস্যের বাড়ি/ বাসাতে ও প্রতিদিন কিছু না কিছু পার্টিকে দেওয়ার জন্য বাক্স বসানো যায়। এককথায় পার্টির রাজনৈতিক দাবি অনুযায়ী সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি করার জরুরি প্রয়োজনে একঝাঁক পার্টি সংগঠক (ক্যাডার) গড়ে তোলার জরুরি এজেন্ডা পার্টিকে গ্রহণ করতে হবে। পার্টির সদস্যদের পার্টির প্রতি আন্তরিকতা ও সদস্যদের ওপর পার্টির নিয়ন্ত্রণ থাকলে এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন খুব কঠিন হবে না। লেখক : সদস্য, কেন্দ্রীয় কমিটি, সিপিবি