শ্রমিক শ্রেণির পত্রিকা ‘একতা’

Posted: 04 আগস্ট, 2019

সহিদুল্লাহ চৌধুরী : সাপ্তাহিক ‘একতা’র পথচলা ৫০ বছরে পদার্পণ করছে। ‘একতা’ শুধুমাত্র কোনো সংবাদবাহক পত্রিকা নয়, ‘একতা’ এদেশের শ্রমজীবী শোষিত মানুষের কণ্ঠস্বর। শ্রমিক শ্রেণির পত্রিকার নাম ‘একতা’। বাংলাদেশের শ্রমিক শ্রেণির পার্টির (বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্র্টি) মুখপত্র হিসেবে ‘একতা’র ভূমিকা বাংলাদেশের ইতিহাসে অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাপ্তাহিক এ পত্রিকাটি শ্রমিক-মেহনতি মানুষের মাঝে তাঁদের শ্রেণি চেতনা নির্মাণ, বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার বিকাশ, গণমানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনসহ বৈষম্যহীন সাম্যের সমাজ নির্মাণে রেখেছে অগ্রণী ভূমিকা। শাসকশ্রেণি নানাভাবে শ্রমজীবী মানুষের কাছ থেকে বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চাকে কেড়ে নিয়েছে। শ্রমজীবী মানুষের কণ্ঠ রোধ করতে চেয়েছে, নিজস্ব বুর্জোয়া নিয়ন্ত্রিত নানা গণমাধ্যমের সাহায্যে শ্রমিকের অধিকার, শোষণহীন সমাজ নির্মাণের চিন্তাকে ঢেকে দিতে চেয়েছে, সেখানেই সাপ্তাহিক ‘একতা’ মাথা ঊঁচু করে শ্রমিক শ্রেণির চেতনার কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছে। তাই ‘একতা’ ঐ বুর্জোয়াদের নিরপেক্ষতার বুলি আওড়ানো কোনো পত্রিকা নয়, ‘একতা’ হলো শ্রমিকের শ্রেণি চেতনার পত্রিকা। শ্রমিক ঐক্যর অগ্রপথিক। এদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের শক্তিসমূহ বহুধা ভাগে বিভক্ত। এই শক্তিসমূহকে (ন্যূনতম ইস্যুতে) ঐক্যবদ্ধ করে শ্রমিক শ্রেণির শক্তিকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও ‘একতা’ রেখেছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। পার্টির (সিপিবি) গৃহীত বাম ঐক্যের রাজনৈতিক লাইনের প্রয়োজনীয়তা সকল মহলে প্রচার-বিশ্লেষণ-মতামত তুলে ধরে পারস্পরিক চিন্তার নৈকট্য তৈরি করেছে। বাম-প্রগতিশীল-গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্যই বাংলাদেশের আগামীর আলোকময় ভবিষ্যৎ, আগামীর এই পথ চলায় শ্রমিক শ্রেণির ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠস্বর হয়ে ‘একতা’ই অগ্রভূমিকায় থাকবে। বাংলাদেশ রাষ্ট্র লুটেরা ধনিকদের নিয়ন্ত্রিত। বর্তমানে এদেশের মানুষের ন্যূনতম গণতান্ত্রিক অধিকারকেও কেড়ে নেয়া হচ্ছে। সংবাদমাধ্যমে শুধু নিয়ন্ত্রণ নয়, দমন নিপীড়ন ও আতঙ্ক ছড়িয়ে মানুষের কণ্ঠকেও নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। ধ্বংস করে দেয়া হচ্ছে সকল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে। এই সময়ে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হচ্ছে নিজস্ব মতপ্রকাশ। মতামত ও জনগণের অধিকারের কথা। তাদের আন্দোলনের কথা যখন বুর্জোয়া সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ করে না তখন ঝুঁকি নিয়েই ‘একতা’ সেই কাজ করে চলেছে। অতীতেও স্বৈরাচারী শাসকের চোখ রাঙ্গানিকে উপেক্ষা করে ‘একতা’ তার প্রকাশকে অব্যাহত রেখে জনগণের আন্দোলন গড়ে তুলতে রেখেছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। বর্তমান সময়েও ‘একতা’ তাঁর ভূমিকার মাধ্যমে জনগণের আন্দোলন গড়ে তুলতে দায়িত্ব পালন করছে। বাংলাদেশের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর হাত থেকে মুক্তির জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী আন্দোলন। এই আন্দোলন গড়ে তুলতে নেতৃত্ব দিতে হবে শ্রমিক শ্রেণির চেতনার মানুষকে। আর এই মানুষরাই হলো ‘একতা’ পরিবার। দেশের এই ক্রান্তিমুহূর্তে ‘একতা’র পাঠক-শুভাকাক্সিক্ষ সকলকেই ঐক্যবদ্ধ হয়ে এগিয়ে আসতে হবে। রচনা করতে হবে নতুন ইতিহাস। নতুন ইতিহাসের রচনায় ‘একতা’ পরিবারের বিস্তৃতপথ চলা হোক আগামীর বাংলাদেশ। জয়তু একতা। লেখক : উপদেষ্টা, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি