‘যদি তুমি রুখে দাঁড়াও তুমিই বাংলাদেশ’

Posted: 04 আগস্ট, 2019

মোহাম্মদ শাহ আলম : বরগুনার আলোচিত ও আলোড়ন সৃষ্টিকারী রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের পর নয়ন বণ্ডের নাম সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। গত ২৬ জুন প্রকাশ্য দিবালোকে শত শত মানুষের সামনে এই হত্যাকাণ্ডের ভিডিও ফুটেজ সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে সারাদেশের মানুষ প্রত্যক্ষ করে। ২ জুলাই পুলিশের সঙ্গে তথাকথিত বন্দুকযুদ্ধে নয়ন বন্ড নিহত হয়। এরকম শত শত নয়ন বন্ড সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পাড়া-মহল্লা, শহর, গ্রামে-গঞ্জে ছড়িয়ে আছে। পুরান ঢাকায় বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ড- বগুড়ায় ক্যাডার তুফানদের কর্মকাণ্ড সময়ে সময়ে আলোড়ন তুলে এবং মানুষের চোখ খুলে দেয়। মানুষ ভাবতে থাকে কোথায় বাস করছি, সমাজে না দোজখে। নয়ন বন্ডদের উৎপত্তি, সৃষ্টি, লালন-পালনের কারণ, তাদের গড়ে উঠার ইতিহাস এবং তার পেছনের উদ্দেশ্য নিয়ে আলোচনা করতে গেলে অনেক বিষয় আমাদের সামনে খোলাসা ও উন্মোচিত হয়ে যায়। মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে সাম্রাজ্যবাদ নির্ভর একটি স্বৈরতান্ত্রিক রাষ্ট্রকে ভেঙ্গে আমাদের দেশ-বাংলাদেশ আর্থ-সামাজিক রাজনীতিতে প্রগতিমুখী যাত্রা শুরু করেছিল। ব্যাংক-বীমা-শিল্প-কারখানা জাতীয়করণ হয়। সমাজতন্ত্রের লক্ষ্যও সংবিধানে ঘোষিত হয়। পাশাপাশি দুর্নীতি-পারমিটবাজী, লুটপাট এবং দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক উঠা-নামা, পণ্য দ্রব্য বাজার থেকে উধাও হয়ে যাওয়া, পরিত্যাক্ত সম্পত্তি দখল অর্থাৎ অর্থশালী, বিত্ত অর্জনের অনৈতিক অস্বাভাবিক প্রতিযোগিতাও শুরু হয়। বাণিজ্য পুঁজি নির্ভর নব্যধনিক শ্রেণিও গড়ে উঠতে থাকে। শাসক দলে দ্বন্দ্ব সংঘাত বৃদ্ধি পায়। স্বাধীনতার পর ছাত্রলীগ ভেঙ্গে বৈজ্ঞানিক সমাজন্ত্রের স্লোগান দিয়ে জাসদের জন্ম, সর্বহারা ও জাসদের হিংসাশ্রয়ী রাজনীতি, ছাত্রলীগে অন্তর্কোন্দল ও খুনোখুনি, ১৯৭৪-এর দুর্ভিক্ষ এবং আমেরিকান সাম্রাজ্যবাদের ষড়যন্ত্র। এই পটভূমিতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকা- ঘটে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে ক্ষমতা দখল করে সামরিক স্বৈরাচাররা। অর্থনীতিতে অবাধ মুক্ত বাজার নীতি চালু হয়। অবাধ মুক্ত বাজার প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনীতিতে নানা ধরনের অপকৌশলের আশ্রয় ও প্রয়োগ ঘটে। অর্থাৎ ৫২ থেকে ৭১ গণতান্ত্রিক-প্রগতিশীল-সেক্যুলার শক্তির যে উদ্বোধন হয়েছিল তাকে Counter Balance করার জন্য সাম্রাজ্যবাদ ও তার এদেশীয় অনুসারীরা সাম্প্রদায়িকতা ও সন্ত্রাসকে তাদের রাজনীতির প্রধান বাহন-মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করে। বিশেষত ৭৫-এর পটপরিবর্তনের পর। কারণ তাদের হাতে রাজনৈতিক শক্তি ছিল না। স্বাধীনতা যুদ্ধের ফলে প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি ছিল বিধ্বস্ত। ৭৫-এর পরের শাসকগোষ্ঠী প্রথমে ছাত্র রাজনীতিকে কলুষিত ও দখল করার টার্গেট নেয়। কারণ তারা হিসাব করে দেখে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ছাত্র রাজনীতিকে কলুষিত, দখল ও বিভ্রান্ত করতে না পারলে তাদের গৃহীত আর্থ-সামাজিক কর্মসূচি তারা বাস্তবায়িত করতে পারবে না। কারণ ছাত্রসমাজ হলো অর্গল ভাঙ্গার শক্তি। পাকিস্তান আমল থেকে বাংলাদেশের ছাত্রসমাজের রয়েছে কায়েমী স্বার্থ ও স্বৈরাচারবিরোধী গণতান্ত্রিক-প্রগতিশীল রেডিক্যাল চরিত্র। ত্যাগ-তিতীক্ষা, জেল-জুলুম, বীরত্বের ও সাফল্যের বিজয় গাঁথা। এই ছাত্রসমাজ ৫২’র রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের নেতা, ৫৪’র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন ও আন্দোলনের কর্মী এবং পাহারাদার, ৬২’র শিক্ষা আন্দোলনের সৈনিক, ৬৯’র ১১ দফা আন্দোলনের অকুতোভয় কর্মী ও স্বাধীনতা আন্দোলনের লড়াকু বীরযোদ্ধা। দেশের আপামর জনগণের শ্রদ্ধা, ভালবাসায় সিক্ত, মাথার মণি, ছাত্রসমাজ ছিল বাংলার জনগণের প্রাণের ধন। তাদের আশা-ভরসার স্থল। কিন্তু ছাত্রসমাজ, ছাত্র আন্দোলনের আজ এ কি দশা? মানুষ ছাত্র ও তরুণ সমাজকে দেখলে এখন ভয় পায়। স্বৈরাচার ও গণবিরোধী শক্তি ছাত্রসমাজকে তাদের ঐতিহ্যিক ধারা থেকে বিচ্যুত করেছে। আজ ছাত্রসমাজের বড় এক অংশ খুন, ছিনতাই, ক্যাম্পাস দখল, হল দখল, মুক্তিপণ আদায়, সিট ব্যবসা, ভর্তি বাণিজ্য, ড্রাগ, পর্ণ ছবি ইত্যাদিতে আকণ্ঠ নিমজ্জিত। মূলত এটার শুরু ৭৮-৭৯ সালে জিয়ার আমলে। মেজর জিয়ার সেই বিখ্যাত উক্তি– ‘আমি রাজনীতিকে রাজনীতিবিদদের জন্য কঠিন করে দেবো’ উনি সত্যিই কঠিন করে দিয়ে গেছেন। ১৯৭৮-এ অভি-নীরু, বাবলুদের নিয়ে ‘জিয়ার হিজবুল বাহারে’ সমুদ্র ভ্রমণ মানুষ দেখেছে। শোনা যায় অভি ছিল মেধাবী ছাত্র। সেই অভি হয়ে উঠে সন্ত্রাসী। সরকারি নানা এজেন্সি ছাত্র রাজনীতি আন্দোলনকে তখন নিয়ন্ত্রণ করা শুরু করে। দেশি-বিদেশি কায়েমী স্বার্থবাদী গোষ্ঠী বাংলাদেশের হিমালয়তুল্য ছাত্র আন্দোলনকে কালিমা লিপ্ত করে অন্ধগলিতে ঢুকিয়ে দেয়। যেন তারা আগের ন্যায় দেশপ্রেমিক দায়িত্ব পালন ও শাসকশ্রেণির গণবিরোধী কাজের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় তুলতে না পারে, উপরন্তু তাদের পক্ষে দাঁড়ায় এবং তাদের হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহৃত হয়। স্বাধীনতার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে ১৯৭৪ সালের ৪ এপ্রিল দিবাগত রাত ২টা ১১ মিনিটে মহসীন হলে। ওই হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামী ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম প্রধানসহ অভিযুক্তদের দুদিন পরই গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্ত কমিটিও তাদের বহিষ্কার করে। এছাড়া বিচারে শফিউল আলম প্রধান ও তার সহযোগিদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। কিন্তু জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার পর তারা মুক্তি পায়। ছাত্র আন্দোলন-রাজনীতি পাকাপোক্তভাবে ক্রিমিনালাইজড হতে শুরু করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতি ছাত্রদলের অভি-নীরু-বাবলু, ছাত্রলীগের আওরঙ্গ-লিয়াকতের বোমাবাজী, কাটা রাইফেলের বন্দুকযুদ্ধ নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে। স্বচ্ছ আন্দোলন ছাত্রসমাজ ও দেশ-জনগণের স্বার্থবাহী ছাত্র রাজনীতি ও আন্দোলন অবরুদ্ধ ও সংকুচিত হয়ে পড়ে। ছাত্র আন্দোলন থেকে দূরে সরতে থাকে সাধারণ ছাত্র সমাজ। খুনোখুনি ছড়িয়ে পড়ে সমাজ ও রাজনীতিতে। ছাত্রলীগ-ছাত্রদলের অস্ত্রবাজীর রাজনীতি দেশের কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসগুলি রক্তাক্ত করেছে, রক্তাক্ত হয়েছে নিজেদের অন্তর্কলহে। কারণ আর কিছু নয়– টাকা। কারণ ক্যাম্পাস দখলে থাকলে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, মুক্তিপণ আদায়, সিট ব্যবসা, ভর্তি বাণিজ্য, ড্রাগ এবং বহু অপকর্ম করা যায়। ফলে মানি-মাসেল দখল করে ক্যাম্পাস। অন্যদিকে আদর্শবাদী রাজনীতির কথা বলে ইসলামী ছাত্র শিবির, ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সংগঠনটি রগ কাটা, হাত কাটা, হত্যা, সন্ত্রাসের রাজনীতি শুরু করে। কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসগুলি দখল করতে থাকে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেটের শাহজালাল ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই সংগঠন আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে। চট্টগ্রামের আলোচিত শিবির ক্যাডার নাসির ১৯৯৭ সালে রাইফেলসহ ধরা পড়ে। রাষ্ট্র-প্রশাসন-লুটেরা শাসকশ্রেণি তাদের স্বার্থে এই উভয় ধরনের ছাত্র সংগঠনকে ব্যবহার ও মদদ দিতে থাকে এবং প্রগতিশীল-গণতান্ত্রিক সমাজ পরিবর্তনের চেতনাসম্পন্ন ছাত্র সংগঠনগুলিকে কোনঠাসা করে ও প্রান্তিক অবস্থানে ঠেলে দেয়। ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন ছাত্র ইউনিয়ন রাজনীতির নামে এই অপরাজনীতিকে বারবার প্রতিরোধ ও প্রতিহত করার উদ্যোগ নেয়। ৮৬ সালে ডাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষের প্রতিবাদে ৩১ মার্চ ছাত্র ইউনিয়ন প্রতিবাদ মিছিল বের করে। ওই মিছিলে দুষ্কৃতকারীদের গুলিতে নিহত হন ছাত্র ইউনিয়ন নেতা আসলাম। ১৯৯২ সালের ১৩ মার্চ গণতান্ত্রিক ছাত্রঐক্যের মিছিলে গুলি চালিয়ে খুন করা হয় ছাত্র ইউনিয়ন নেতা মঈন হোসেন রাজুকে। নয়টি ছাত্র সংগঠনের মোর্চা গণতান্ত্রিক ছাত্রঐক্য ওইদিন ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধ ও যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমের বিচার দাবিতে মিছিল বের করেছিল। সময়ে সময়ে সাধারণ ছাত্রসমাজ এই অপরাজনীতিকে প্রতিরোধ ও ভেঙ্গে দিলেও তা স্থায়ীরূপ নিতে পারেনি। গণবিরোধী গডফাদার নিয়ন্ত্রিত ক্যাম্পাস দখলের ছাত্র রাজনীতি এখনও অব্যাহত আছে। এই অপরাজনীতি-খুনোখুনির রাজনীতি ক্যাম্পাস থেকে ছড়িয়ে পড়ে সমাজে। রাজনীতির ছাত্রছায়ায় বড় ভাই গডফাদাররা সমাজের বেকার যুবক-তরুণদের ক্যাডার হিসাবে ব্যবহার করে দল ও সামাজিক ক্ষমতা দখল করে নেয়। এই ক্যাডাররা অন্তর্দ্বন্দ্বের ফলে কখনও কখনও খরচ হয়ে যায়, আবার কেউ কেউ বুদ্ধিমত্তার সাথে উপরে উঠে। গাড়ি-বাড়ি-ব্যবসা-বাণিজ্যের মালিকও হয়ে উঠে। নিজেই বড় ভাই ও গডফাদারে পরিণত হয়। এটাই মানুষ দেখে আসছে। কয়েক যুগ ধরে কালো টাকা-ড্রাগ ব্যবসায়ী-লুটেরা পুঁজির মালিকশ্রেণি এদের ভিতর শক্তির উৎস খুঁজে পায়। এদেরকে ব্যবহার করে তাদের সকল অপকর্মে, নিজেদের ব্যবসার অন্তর্কোন্দলে, শ্রমিক আন্দোলনের বিরুদ্ধে এবং রাজনীতিতে উপরে উঠার সিড়ি হিসেবে এদের ব্যবহার করে। বড় দলগুলিতে পেশাদার রাজনীতিবিদদের কোণঠাসা করে ক্যাডার নির্ভর রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা। এই অস্ত্র নির্ভর ক্যাডার রাজনীতিকে ব্যবহার করে প্রশাসন, বিশেষ করে পুলিশ প্রশাসনের দুর্নীতিবাজ কর্মচারী, কর্মকর্তারা তাদের রুজি রোজগারের আড়কাঠি হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। তাই Social Criminal-দের সাথে দেশের প্রত্যেকটি উপজেলায় পুলিশ প্রশাসনের একটি অংশের সাথে গড়ে উঠেছে নিবিড় সম্পর্ক। আবার এটার ব্যবস্থাপনা করে এলাকার সাংসদ অথবা রাজনীতির বড় ভাই। এই প্রক্রিয়া দেশে ও সমাজে শত শত নয়ন বন্ডদের জন্ম দিচ্ছে। এটাই এখন রাজনীতি ও সমাজের স্থায়ী রূপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই মানুষ নিজের নিরাপত্তার কারণে ক্রিমিনালদের প্রতিরোধ করতে ভয় পায়। মানুষের কাছে প্রশ্ন ও তার মনস্তত্ত্বে বাসা বেঁধেছে এই সিন্ডিকেশন, এই জগদ্দল পাথর, এই কালা পাহাড় ভাঙ্গা ও সরানো যাবে কি না? আগেই উল্লেখ করেছি ৭৫ পরবর্তী মুক্তবাজারপন্থী শাসকশ্রেণি তাদের শ্রেণিস্বার্থে প্রগতিশীল রাজনীতি অর্থনীতিকে Counter Balance করার জন্য রাজনীতিতে সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতাকে বাহন ও মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেছে এবং করছে। জিয়া রাজনীতিতে স্বাধীনতার পর নিষিদ্ধ ঘোষিত সাম্প্রদায়িক ধর্মীয় রাজনীতিকে উন্মুক্ত করে দিয়ে, জামায়াতে ইসলাম ও গোলাম আযম, নিজামী-সাঈদীদের পুনর্বাসিত করে। ভাবাদর্শিকভাবে সমাজকে সাম্প্রদায়িকীকরণ করে রাজনীতিতে সুবিধাবাদ-সন্ত্রাস-সাম্প্রদায়িকতাকে ব্যবহার করে জিয়া-এরশাদ লুটপাটের অর্থনীতি ও রাজনীতিকে পাকাপোক্ত করে। ঐতিহ্যবাহী গণতান্ত্রিক দল আওয়ামী লীগও এখন একই ট্র্যাকের অনুসারী। রাজনীতি সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়ীকরণে তাকে আরও এককাঠি উপরে বলে মনে হয়। রাজনীতির বাণিজ্যিকায়ন ও দুর্বৃত্তায়ন নয়ন বন্ডদের জন্ম দিয়েছে, দিচ্ছে। “নয়নের মা শাহিদা আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর ছেলের সাথে পুলিশের যোগাযোগ ছিল।.... শাহিদা আক্তার বলেন, নয়ন তো একদিনে ‘নয়ন বন্ড’ হয়নি। প্রভাবশালী মহল তাঁকে ব্যবহার করার জন্য ‘নয়ন বন্ড’ হিসেবে তৈরি করেছে।” (২৮ জুলাই ২০১৯, প্রথম আলো)। এভাবেই সমাজ ও রাজনীতিতে state and street মাফিয়াদের এক দৃঢ় গাটছড়া গড়ে উঠেছে। এরাই মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা, গণতান্ত্রিক অধিকার ও গণতন্ত্র নির্বাসনে পাঠাচ্ছে। এটা প্রতিরোধ করতে চাই সাহস, দৃঢ়তা, নীতি নিষ্ঠা। কিশোর তরুণদের ঐ স্লোগানই আমাদের পথ দেখাতে পারে– ‘যদি তুমি ভয় পাও তবে তুমি শেষ, যদি তুমি রুখে দাঁড়াও তবে তুমি বাংলাদেশ’। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও যুদ্ধের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের জন্ম। এই বাংলাদেশ ভয় ও সন্ত্রাসীদের হাতে আত্মসমর্পণ করতে পারে না।