বাজেট বড় হলেও মেহনতি মানুষের জন্য কিছু নেই

Posted: 07 জুলাই, 2019

একতা প্রতিবেদক : সর্বস্তরের শ্রমিক কর্মচারীদের জন্য রেশন, বাসস্থান ও চিকিৎসা সেবাসহ সামাজিক নিরাপত্তা বেস্টনি নিশ্চিতকরণে বাজেটে অর্থ বরাদ্দ না রাখা ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে গত ৫ জুলাই শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের (টিইউসির) উদ্যোগে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। টিইউসির সভাপতি সহিদুল্লাহ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন টিইউসির সাধারণ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান, সহ-সভাপতি মাহবুব আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক আ. মালেক, প্রচার সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, কেন্দ্রীয় নেতা কাজী রুহুল আমীন, আলী হোসেন, সিরাজুল ইসলাম ও গার্মেন্ট শ্রমিক নেতা জয়নাল আবেদীন প্রমুখ। সমাবেশে ঘোষণাপত্র পাঠ করেন দপ্তর সম্পাদক সাহিদা পারভীন শিখা। সমাবেশে বক্তারা সদ্য পাসকৃত বাজেটে শ্রমিক কর্মচারীদের জন্য রেশন, বাসস্থান ও চিকিৎসা সেবাসহ সামাজিক নিরাপত্তা বেস্টনী খাতে অর্থ বরাদ্দ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। নেতৃবৃন্দ গ্যাসের দাম বৃদ্ধির নিন্দা জানান এবং তা প্রত্যাহারের দাবি জানান। নেতৃবৃন্দ ১ জুলাই থেকে পাটকল শ্রমিকদের মজুরী কমিশন বাস্তবায়নের দাবি জানান। নেতৃবৃন্দ সর্বস্তরের শ্রমিকদের জন্য বাঁচার মত জাতীয় ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ, আইএলও কনভেনশন অনুযায়ী অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার, গণতান্ত্রিক শ্রম আইন ও শ্রম বিধিমালা প্রণয়ন, নিরাপদ কর্মস্থল, শোভন কাজ এবং সামাজিক মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। ২০১৯-২০ অর্থ বছরের বাজেটে শ্রমিক কর্মচারীদের জন্য রেশন, বাসস্থান ও চিকিৎসা সেবাসহ সামাজিক নিরাপত্তা বেস্টনি নিশ্চিতকরণে অর্থ বরাদ্দ না রাখা ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে এবং রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকলে মজুরী কমিশন বাস্তবায়নের দাবিতে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের (টিইউসি) উদ্যোগে ৫ জুলাই ২০১৯ জাতীয় প্রেসক্লাব সম্মুখে আয়োজিত সমাবেশের ঘোষণা ঃ সম্প্রতি জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থ বছরের বাজেট পাস হয়েছে। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আকারের বাজেট হলেও এতে দেশের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি শ্রমজীবী মেহনতি মানুষের আশা আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি। গতানুগতিক এই বাজেটে শিল্প ও স্বাস্থ্য খাতে যথাযথ বরাদ্দ দেয়া হয়নি এবং শিল্প কারখানাভিত্তিক শ্রমজীবী মেহনতি মানুষের বিনা মূল্য চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য কোন বরাদ্দ রাখা হয়নি। পোশাক শিল্পসহ সর্বস্তরের শ্রমিক কর্মচারীদের জন্য রেশনিং প্রদানের কোন ব্যবস্থা রাখা হয়নি। অথচ আমাদের দেশের শ্রমিক কর্মচারীরা দীর্ঘদিন যাবত ব্যক্তিমালিকানা নির্বিশেষে বাঁচার মতো জাতীয় ন্যূনতম মজুরী ঘোষণা, ন্যায্য মূল্যে শ্রমিক কর্মচারীদের জন্য সস্তা ও নির্ধারিত মূল্যে রেশন প্রদান, কারখানা ও অঞ্চলভিত্তিক হাসপাতাল ও শ্রমিক কলোনী স্থাপন বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও আবাসনসহ সামাজিক নিরাপত্তা বেস্টনি নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে আসছে। পাশকৃত বাজেট শ্রমজীবী মানুষকে মারাত্মকভাবে আশাহত করেছে। ইতিমধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রীর দাম বৃদ্ধি পেয়ে শ্রমিকদের জীবন মান আরো কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে জানাচ্ছি যে সরকার ঘোষিত মজুরী কমিশনের সুপারিশ রাষ্ট্রায়াত্ব খাতের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে কার্যকর হলেও পাটকল কর্পোরেশনের শ্রমিকদের জন্য এখনো কার্যকর হয়নি। সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল পাটকল কর্পোরেশনের মজুরী কমিশন ১ জুলাই থেকে বাস্তাবয়ন করবে। কিন্তু বাজেটে এই খাতে কোন বরাদ্দ দেয়া হয়নি। মাত্র কয়েকশ কোটি টাকা বরাদ্দ দিলে পাটকল শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটতো। বাজেটে বরাদ্দ না দেয়ায় পাটকল শ্রমিকরা তাদের ন্যয়সঙ্গত পাওনা পাওয়ার ক্ষেত্রে আবার অনিশ্চয়তার মুখে পড়লো। যার কারণে পাটকল শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। আজকের এই সমাবেশে থেকে অবিলম্বে আমরা রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকলে মজুরী কমিশন বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছি। সাধারণ মানুষসহ বিশেষজ্ঞদের মতামতকে উপেক্ষা করে সম্পূর্ণ অযৌক্তিকভাবে মরার উপর খড়ার ঘা হিসাবে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিদ্যুৎ এবং অন্যান্য জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ষড়যন্ত্র চলছে। আজকের এই সমাবেশ থেকে আমরা গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে তা পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনার দাবি জানাচ্ছি।