‘সর্বজনীন স্বাস্থ্য সেবা’, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সংকট ও আমাদের করণীয়

Posted: 16 জুন, 2019

ডা. কাজী রকিব : গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১১ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য এ্যাসেম্বলিতে বাংলাদেশের জন্য ‘সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার’ উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। ২০১৪ সালে ‘সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা’ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সব ব্যবস্থা নিতে হবে বলে তিনি নির্দেশ প্রদান করেন এবং কিছু কিছু পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়। কিন্তু আন্তর্জাতিক মূল্যায়ন বলছে- বাংলাদেশে এই উদ্যোগ প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, এর জন্য নির্দিষ্ট কোনও বাজেট নেই, এ উদ্যোগে বড় বাধা স্বাস্থ্যখাতের অদক্ষ স্বাস্থ্য কর্মী (চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিসিয়ান সহ) এবং স্বাস্থ্য কর্মীদের গ্রামাঞ্চলে ধরে রাখার সমস্যা (সূত্র: দি ল্যানসেট)। বাংলাদেশের গত ২ দশকের বাজেট পর্যালোচনায় দেখা যায়, স্বাস্থ্যখাতের বাজেট জাতীয় বাজেটের ৪.২৬% থেকে ৬.৮০% এর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। বিভিন্ন দেশের ২০১৪ সালের জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে জিডিপির অংশ ছিল বাংলাদেশে ০.৮%, ভারতে ১.৪%, নোপালে ২.৩%, শ্রীলংকায় ২%, ব্রাজিলে ৩.৭% এবং চীনে ৩.১%। এখানে উল্লেখ্য যে, ভারত সরকার ২০২৫ সাল নাগাদ এ হার ২.৫% উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে (সূত্র: Budget 2018:Indias Healthcare Crisis is Holding back National Potential, Swagata Yadavar, January 30, 2018; and Health News, January 18, 2018, Aditya kalara)। ২০১৫ সালে স্বাস্থ্যখাতের খরচে জিডিপির (সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে) অংশ বাংলাদেশে ২.৩৭%, ভূটানে ৩.৪৫%, ভারতে ৩.৬৬%, নেপালে ৬.২৯%, কিউবায় ১২.১৯%, কানাডায় ১০.৫৩%, যুক্তরাজ্যে ৯.৭৬% এবং যুক্তরাষ্ট্রে ১৭.০৭;আর বৈশ্বিক গড় জিডিপির অংশ ৯.৮৮৪ (সূত্র : বিশ্ব ব্যাংক ডাটা-২০১৯)। এদেশের অনেক (বিশেষত বেসরকারি) মেডিকেল কলেজ, নার্সিং কলেজ ও টেকনোলজিক্যাল ইনিস্টিটিউটের মান নিয়ে আগে থেকেই প্রশ্ন আছে, যা দিন দিন আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। সুতরাং প্রশ্ন আছে কিছু ডাক্তার, নার্স ও টেকনোলজিস্টদের দক্ষতা নিয়ে। যদিও এটাও সত্য যে, এদের (মূলত চিকিৎসকদের) কাজের ফসলই মৃত্যুহার কমাসহ স্বাস্থ্যখাতের অন্যান্য উন্নয়ন সূচকের অর্জন। এরাই মেধা ও শ্রম দিয়ে সুনামের সাথে চিকিৎসা করছেন এদেশের অসংখ্য রোগীর। হৃদরোগের অপারেশন, কিডনি প্রতিস্থাপন এবং ক্যান্সার সহ অনেক জটিল রোগের চিকিৎসাও এখন এদেশের ডাক্তার দিয়ে দেশেই সম্ভব হচ্ছে। তবে সমগ্র চিকিৎসা ব্যবস্থা (সরকারি ও বেসরকারি), কর্মী বাহিনীর দক্ষতা, আচরণগত সমস্যা, রোগীর প্রতি মমত্ববোধ, কমিশন বাণিজ্য, ওষুধের মান ও মূল্য, রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষার মান ও খরচ, এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা (সরকারি ও বেসরকারি) নিয়ে অভিযোগও আছে বিস্তর। অভিযোগ আছে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি নিয়ে। যদিও এর প্রকৃত সংখ্যা নিরুপনে রয়েছে বড় ফাঁক। আবার এর কারণ উৎঘাটন করে বাস্তব সম্মত সমাধানে যাওয়ার প্রচেষ্টাও তেমন দৃশ্যমান নয়। অপরদিকে বিভিন্ন পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী উপজেলা, জেলা এমন কি মেডিকেল কলেজ পর্যায়ে প্রচুর চিকিৎসক ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর পদশূন্য থাকায় স্বল্প জনবল নিয়েই গলদঘর্ম বিসর্জন দিয়ে সেবা ও শিক্ষা দিতে হচ্ছে অনেক প্রতিষ্ঠানকে। অনেক সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাব রয়েছে আবার কোন কোন যায়গায় জনবল না থাকায় বিকল হচ্ছে দামি যন্ত্রপাতি, এমনকি প্রয়োজনীয় অর্থ সংকটের এবং অনেক ক্ষেত্রে অব্যবস্থাপনার কারণে ত্রুটিপূর্ণ যন্ত্রপাতি সময়মত মেরামত না হওয়ায় ব্যহত হচ্ছে রোগ নির্নয় ও চিকিৎসা। এমতাবস্থায় সাধারণ মানুষকেও রোগ নির্নয় ও চিকিৎসার জন্য দ্বারস্থ হতে হচ্ছে বেসরকারি হাসপাতালে ফলে তাদের জন্য চিকিৎসা হয়ে পড়ছে অত্যন্ত ব্যয়বহুল। আবার অনেক বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের মান ও চিকিৎসার খরচ নিয়ে প্রশ্ন এবং ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটছে প্রতিনিয়ত। এবার চিকিৎসা প্রদানে নিয়োজিত বিশাল জনবলের দিকে দৃষ্টিপাত করা যাক। এ জনবলের মধ্যে সকলের বিবেচনায় দায় গিয়ে বর্তায় চিকিৎসকের উপর যাদের নীতিনির্ধারণ ও ব্যবস্থাপনায় সম্পৃক্ততা খুবই সীমিত। তাদের রয়েছে চাকুরী জীবনের বৈষম্য, বঞ্চনা, নিরাপত্তাহীনতা এবং অপ্রয়োজনীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ। ক্যারিয়ার প্লানিং এর নেই সুষ্ঠ নীতিমালা, আবার বলবদ নীতিমালাও সঠিকভাবে অনুসৃত হয় না, এছাড়াও আছে পদোন্নতি ও পদায়নের ক্ষেত্রে অনাকাক্সিক্ষত বিড়ম্বনা। আছে আবাসন, পরিবহন ও যোগাযোগ উপকরণের সংকট। অনেক যায়গায় কর্মস্থলের পরিবেশগত সমস্যা ও সময়ে সময়ে উদ্ভূত সন্ত্রাসী হামলার কারণে অনেকে (বিশেষত: নারী চিকিৎসকগণ) বাধ্য হচ্ছেন সম্ভাব্য বা কাম্য সেবাদান থেকে বিরত থাকতে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে উচ্চবিত্ততো বটেই সুযোগ পেলে নিম্ন-মধ্যবিত্তেরও একটা অংশ চিকিৎসার জন্য যাচ্ছে বিদেশে (বিশেষত : ভারত ও থাইল্যান্ডে), এবং এর ঋণাত্মক প্রভাব পড়ছে দেশের অর্থনীতিতে। যদিও আস্থার সংকট ও অব্যবস্থাপনাই এর একমাত্র কারণ নয়, এর পিছনে রয়েছে ‘মেডিকেল টুরিজম’ নামের বিরাট বাণিজ্য এবং রয়েছে লাগামহীন মুক্ত বাজার অর্থনীতির প্রভাব। এর দায় হিসেবে শুধুমাত্র চিকিৎসকের দিকে অঙ্গুলি প্রদর্শন করা হলেও সরকার, আইন প্রণয়নকারীগণ, প্রশাসন (সাধারণ ও স্বাস্থ্য), নীতিনির্ধারকগণ, রাজনীতিবিদ এবং জনগণ কেউই এর দায় এড়িয়ে যেতে পারেন না। আমি মনে করি উদ্ভূত এ পরিস্থিতি সার্বিক বিবেচনায় আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থারই প্রতিফলন। সামগ্রিক অবস্থা বিবেচনায় এর থেকে উত্তোরণের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান ‘স্বাস্থ্য খাতে নয়টি চ্যালেঞ্জের’ উল্লেখ করেছেন এবং তা সমাধানের কিছু প্রস্তাবনা দিয়েছেন (সূত্র : প্রথম আলো, ২৪ জানুয়ারি ২০১৯)। অন্যদিকে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতির ১১ টি উৎস চিহ্নিত করেছে এবং তা প্রতিরোধের জন্য ২৫ দফা সুপারিশ করেছে (সূত্র: প্রথম আলো, ১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯)। গত ২৭ এপ্রিল ২০১৯ জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘সর্বজনীন স্বাস্থ্য’-এর উপর ডক্টরস ফর হেলথ এন্ড এনভায়রনমেন্ট আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন - ‘স্বাস্থ্যকে ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ এই পর্যায়ে উন্নীত করতে হলে একে শুধু চিকিৎসা প্রদানের দিক থেকে দেখলে হবে না। পরিবেশ, অর্থনীতি, দর্শন সবদিক থেকে স্বাস্থ্যকে দেখতে হবে। স্বাস্থ্যখাতে প্রাইভেট সেক্টরের অতিমুনাফার মনোভাব এই প্রস্তাবনার ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ বাস্তবায়নের জন্য রাজনৈতিক অঙ্গীকার অত্যন্ত জরুরী বলে তিনি মনে করেন।’ বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন- ‘বর্তমান স্বাস্থ্য ব্যবস্থাটি বাণিজ্যিক দিকে চলে যাচ্ছে এবং চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে অনেক মানুষ নিঃস্ব হচ্ছে, যা হবার কথা ছিলনা। বর্তমান প্রচলিত ব্যক্তি উদ্যোগ ও বাণিজ্যিকীকরণ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে বেশী বেশি করে গ্রাস করছে। স্বাস্থ্যখাতে বাণিজ্যের বিশাল বিস্তৃতির মধ্য দিয়ে জিডিপি-এর প্রবৃদ্ধি হচ্ছে এবং সেদিক থেকে বাংলাদেশের উন্নয়নে চিকিৎসা ও শিক্ষাখাতের অংশিদারিত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে জনগনের স্বাস্থ্য ও শিক্ষার অধিকার রক্ষিত হচ্ছে না।’ বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লা বলেন- ‘স্বাস্থ্যকে অর্জন করতে গেলে সামাজিক অবস্থার, পরিবেশের এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটাতে হবে।’ প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম বলেন - ‘সুচিকিৎসার জন্য রেফারাল পদ্ধতি চালু করতে হবে। তিনি বলেন, চিকিৎসক সহ স্বাস্থ্য কর্মীর ভুলভ্রান্তি আইনানুগ পদ্ধতিতে না দেখে তাদের ওপর হামলা করা উচিত নয়। এ বিষয়েও জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে, কারণ এতে সাধারণ জনগণের চিকিৎসা ব্যাহত হয়। দেশে অনেক মানহীন মেডিকেল কলেজ বিরাজ করছে বিধায় তিনি প্রশ্ন রাখেন চিকিৎসক তৈরির কারখানাই রোগগ্রস্ত হলে ভাল চিকিৎসক তৈরি হবে কোথা থেকে? এ বিষয়ে তিনি বি এম ডিসির সভাপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।’ অধ্যাপক ডা. নাজমুন নাহার বলেন- ‘জনগণের স্বাস্থ্যকে বিবেচনায় নিতে হলে চিকিৎসা শিক্ষা ও সেবা দুটো বিষয়েই কথা বলতে হবে। এখন মেডিকেল কলেজে ৬০ শতাংশের বেশি ছাত্রী ভর্তি হচ্ছে, তাদের কাজের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। মনে রাখতে হবে চিকিৎসা সেবা বা স্বাস্থ্য চিকিৎসকের একার বিষয় নয়।’ আয়োজক সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম আবু সাঈদ বলেন -‘পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশুদের স্বাস্থ্য সচেতন করতে হবে এবং শারীরীক, মানসিক ও সামাজিক স্বাস্থ্যের উপর গুরুত্ব আরোপ করতে হবে।’ স্বাস্থ্যের মত মৌলিক বিষয়ের এত সমস্যার সমাধান একদিনে হবে না। এর সাথে জড়িত আছে জাতীয় অর্থনীতি ও জাতীয় বাজেট, রাজনীতি, স্বাস্থ্যসেবা ও বাণিজ্যনীতি, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, পেশাজীবীদের দক্ষতার মাত্রা, অব্যবস্থাপনা (উপর থেকে নীচ পর্যন্ত), জনগণের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সচেতনতার মাত্রা, জনগণের আর্থ-সামাজিক অবস্থা, স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি, দুর্বৃত্তায়ন ও দলবাজি। আছে সেবা প্রদানকারীদের নিগ্রহ, লাঞ্ছনা ও বঞ্চনা। এছাড়াও এর সঙ্গে জড়িত আছে খাদ্য, পুষ্টি, পরিবেশ, প্রকৃতি ও প্রাণীজগতের স্বাস্থ্য । এ সকল বিষয় বিবেচনায় সমস্যার সমাধানকল্পে নি¤েœর প্রস্তাবনাগুলি বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন মনে করি। স্বাস্থ্যখাতে জাতীয় বাজেট বৃদ্ধি করে ক্রমান্বয়ে ১২% বরাদ্দ প্রদান করতে হবে এবং বাজেটে জিডিপির অংশ পর্যায়ক্রমে ৩-৫% এ উন্নীত করতে হবে। কার্যকর গণমুখী স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে। দক্ষ জনবল সৃষ্টির জন্য প্রশিক্ষন ইনিস্টিটিউট গড়ে তুলতে হবে। গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যকর্মী ধরে রাখার বাস্তবসম্মত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা (গ্রাম থেকে রাজধানী পর্যন্ত) নিশ্চিত করতে আরও পদক্ষেপ নিতে হবে। মানসম্পন্ন সেবা প্রদানের জন্য হাসপাতাল (সরকারি ও বেসরকারি) বিছানা ও বহিঃবিভাগের রোগীর সংখ্যা বিবেচনায় চিকিৎসক থেকে সকল স্তরে প্রয়োজনীয় পদ সৃষ্টি করে তা দ্রুত পূরণ করতে হবে। হাসপাতালের (সরকারি) ক্রয় প্রক্রিয়া উক্ত হাসপাতালের প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী এবং সর্বাধিক স্বচ্ছতার মাধ্যমে করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। মেডিকেল শিক্ষার সকল পর্যায়ে (সরকারি ও বেসরকারি) গ্রহণযোগ্য মান বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। ওষুধের মান ও মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে যুগোপযোগী জাতীয় ওষুধনীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে। বিষমুক্ত সুষম খাদ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করতে হবে। প্রকৃতি, পরিবেশ ও প্রাণীজগতের স্বাস্থ্যের কথা বিশেষ বিবেচনায় রাখতে হবে। আমাদের দেশের উপযোগী ও কার্যকর রোগী রেফারাল পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক প্রাক্টিসের প্রথা চালু করতে হবে। শ্রমিক, কৃষক, দিনমজুর ও প্রতিবন্ধী সহ প্রান্তিক জনগোষ্ঠির স্বাস্থ্যসেবার ‘সেফটিনেট’ তৈরি করতে হবে। আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থা পরিহার করে স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারী ও সেবা গ্রহণকারীদের প্রতিনিধিত্বমূলক নীতিনির্ধারণী ও বাস্তবায়ন ব্যবস্থা চালু করতে হবে। চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবায় দুর্নীতি, দুর্বৃত্তায়ন, অব্যবস্থাপনা ও দলবাজি বন্ধের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। জনগণের ক্ষমতায়নের মাধ্যমে জনবান্ধব প্রশাসন এবং কার্যকর, দক্ষ ও শক্তিশালী স্থানীয় সরকার কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। সুস্থ থাকার নিমিত্তে ‘সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা’ নিশ্চিত করতে উপরোল্লিখিত দাবি ও প্রস্তাবনা বাস্তবায়ন একান্তই জরুরি। স্বাস্থ্য অধিকার আদায়ের জন্য জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ, প্রশাসক, চিকিৎসক, শিক্ষক, ছাত্র, শ্রমিক ও কৃষক সহ সকল জনগণকে সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সাথে নিজ নিজ পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি একটি ‘সার্বিক স্বাস্থ্য আন্দোলন (Total Health Movement)’ গড়ে তোলার কোন বিকল্প নেই, যা মূলত একটি রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনই বটে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সদ্য সমাপ্ত জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা সপ্তাহে স্বাস্থ্যসেবাকে অধিকার এবং তাঁর অঙ্গীকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আমরা আশাকরি আগামী জাতীয় বাজেট প্রণয়নে, স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নীতিনির্ধারণে ও তা বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণে এর প্রতিফলন থাকবে। লেখক: সাধারণ সম্পাদক, ডক্টরস ফর হেলথ এন্ড এনভায়রনমেন্ট এবং সাবেক সদস্য, কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ, বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশন (বিএমএ)