২০ রোজার মধ্যে শ্রমিকের বোনাস-মজুরি দিতে হবে

Posted: 26 মে, 2019

একতা প্রতিবেদক : আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ২০ রমজানের (২৬ মে) মধ্যে শ্রমিকদের বেসিকের সমান ঈদ বোনাস ও মে মাসের সম্পূর্ণ মজুরিসহ সব বকেয়া পরিশোধের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ গামেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি)। শ্রমিকদের বেতন-বোনাসের দাবিতে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের উদ্যোগে গত ২৪ মে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে শ্রমিক সমাবেশ থেকে বক্তারা এই দাবি জানান। সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র’র সভাপতি শ্রমিকনেতা অ্যাড. মন্টু ঘোষ এর সভাপতিত্বে এবং শ্রমিকনেতা এমএ শাহীনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শ্রমিকনেতা জলি তালুকদার, কার্যকরি সভাপতি কাজী রুহুল আমীন, কেন্দ্রীয় নেতা সাদেকুর রহমান শামীম, দুলাল সাহা, দিলীপ নাথ, জালাল হাওলাদার, কে এম মিন্টু, মঞ্জুর মঈন, জয়নাল আবেদীন, কালিয়াকৈর আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম, রানা প্লাজা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ইমদাদুল ইসলাম, কারখানা শ্রমিক রীনা আক্তার, বাবুল হোসেন, মালেকা বেগম, শামীম আহমেদ প্রমুখ। সমাবেশে অ্যাড. মন্টু ঘোষ বলেন, এই দেশে সবচেয়ে বিলাসবহুল জীবন যাপন করেন গার্মেন্ট মালিকরা কিন্তু শ্রমিকদের পাওনার কথা আসলে তারাই সবচেয়ে বিত্তহীন হয়ে যান। অথচ মালিকরা ঈদ উপলক্ষে কানাডা-আমেরিকা-মালয়েশিয়ায় পারি জমান কেনা-কাটা ও ঈদ উদযাপনের জন্য। প্রতি বছর ঈদ উৎসবের সময় গার্মেন্ট শ্রমিকরা উৎসব বোনাস থেকে বঞ্চিত হয়। ২০ রোজার মধ্যে বেতন বোনাস পরিশোধ করা না হলে ঈদের আগে শ্রমিকদের অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দেয়া হবে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, বেসিকের সমান বোনাসের দাবি অন্যান্য বছরের মত এবারও যাতে সর্বত্র উপেক্ষিত না হয়। তিনি সংকট নিরসনে সরকারি সংস্থাগুলোর নির্বিকার ভূমিকার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি আগামী জাতীয় বাজেটে গার্মেন্ট শ্রমিকদের আবাসান, রেশনিং ও স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দের দাবি জানিয়ে বলেন, যে শ্রমিকদের উদয়অস্ত শ্রমে আর অবদানে দেশের অর্থনীতি সচল আছে তাদের জন্য আজ পর্যন্ত কোনদিন পৃথক বরাদ্দ দেয়া হয়নি। অথচ মালিকরা কর রেয়াত, শুল্ক অবকাশসহ সকল প্রণোদনা ভোগ করেন। সমাবেশে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক শ্রমিক নেতা জলি তালুকদার বলেন, কিছু কারখানায় বোনাস দেয়া হলেও তা নামমাত্র, কখনো কখনো দান-খয়রাতের মত বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। দেশে জনপ্রশাসন ও সেবা খাতে এবং সরকারি-বেসরকারি নির্বিশেষে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী মূল মজুরির সমান উৎসব ভাতা পেয়ে থাকেন। অথচ সিংহভাগ রপ্তানী আয়ের কারিগর, সর্ববৃহৎ উৎপাদন খাত গার্মেন্ট শিল্পের শ্রমিকরা বরাবরই বঞ্চিত। তিনি আরো বলেন, একদেশে দুই নিয়ম চলতে পারে না। তিনি আগামী ২০ রোজার মধ্যে সকল গার্মেন্ট কারখানায় এক মাসের মূল মজুরির সমপরিমাণ ঈদ বোনাস পরিশোধের দাবি জানান। একই সাথে শ্রমিকরা যাতে কোনভাবেই বঞ্চিত না হয় সেজন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠান সমূহকে তাদের দায়িত্ব অনুযায়ী সচেষ্ট হওয়ার দাবি জানান। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, গাজীপুরের ইন্ট্রামেক্স, ওয়ার্কফিল্ড, নারায়ণগঞ্জে এ আর জেড, কুমিল্লায় আসিফ গার্মেন্ট ও সিডি এক্রোলিক, রামপুরায় ড্রাগন সোয়েটার, নন্দীপাড়ায় সিসিলি, উত্তরায় অনলি ওয়ান ফ্যাশন, ম্যাডলেফ এপারেলস, পলমল গার্মেন্ট, টিআরজেড, রেভেনট্রেক, টপ জিন্স, ব্লু ঈগল, সুপারটেক্স এবং আশুলিয়ায় স্প্রিং সোয়েটার, সেঞ্চুরি গার্মেন্ট, ডং লেয়ার, পিএমএফ, মদিনা প্যাল ফ্যাশন কারখানাসহ কয়েকশ কারখানায় ইতোমধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো বাস্তবায়ন না করা এবং কয়েক মাসের বকেয়া মজুরি নিয়ে শ্রমিক অসন্তোষ চলছে। তিনি ২০ রমজানের মধ্যে বেসিকের সমান ঈদ বোনাস ও মে মাসের সম্পূর্ণ মজুরিসহ সকল বকেয়া পরিশোধের দাবিতে শিল্পাঞ্চলসমূহে কর্মসূচি ঘোষণা করেন।