‘বন্ধু’

Posted: 10 ফেব্রুয়ারী, 2019

একতা প্রতিবেদক : প্রবাদ আছে, ‘দারোগায় ডাকছে চাচী, আমি কী আর ভবে আছি’। চাচীরেই যদি এতো ক্ষমতা হয়, তাহলে নিশ্চয়ই দারোগার ক্ষমতা বুঝতে কারো অসুবিধা হওয়ার কথা না। আবার এটাও আছে, ‘বাঘে ছুলে ১৮ ঘাঁ আর পুলিশ ধরলে ৩৬ ঘাঁ’। কিন্তু এ সবই সেই পুরানো আমলের কথা; যখন পুলিশ ব্রিটিশের দেওয়া প্যান্ট পরে, হাতে লাঠি নিয়ে ঘুরে বেড়াতো। এখন সময় পাল্টেছে। পুলিশকে আর সেভাবে দেখার সুযোগ নেই। পুলিশ এখন জনতার বন্ধু! এ ধরনের নজির মাঝে মাঝে পাওয়া যায়। যেমন সম্প্রতি পাওয়া গেছে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায়। অভিযোগ উঠেছে, দুই পুলিশ কর্মকর্তা তিন যুবককে আটকে রেখে মাত্র ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ চেয়েছে। টাকা দিতে না পারলে ‘ক্রসফায়ার’ করা হবে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও ‘ক্রসফায়ার’ বিষয়টি একটু বিপদজ্জনক। কারণ, এতে পুলিশও আহত হয়। যাই হোক গণমাধ্যমে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৬ ফেব্রুয়ারি রায়হান সরকার, লাবিব উদ্দিন, নওশাদ ইসলাম, তরিবুল্লাহ ও রাকিবুল রহমান বাণিজ্য মেলায় যাওয়ার জন্য একটি প্রাইভেটকার নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। পরে তারা গাড়িতে গ্যাস নেওয়ার জন্য ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিয়াকৈর উপজেলার সূত্রাপুর এলাকায় শিলা-বৃষ্টি ফিলিং স্টেশনে যান। গ্যাস নেওয়ার সময় তরিবুল্লাহ ও রাকিবুল রহমান গাড়ি থেকে নেমে পাশের দোকানে যান চা খেতে। গ্যাস নিয়ে তাদের গাড়িটি ফিলিং স্টেশন থেকে একটু এগিয়ে যাওয়ার সময় সাদা পোশাকে গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানার এএসআই আব্দুল্লাহ আল মামুন ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে ও টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানার এএসআই মুসফিকুর রহমানসহ ৩-৪ জন লোক একটি মাইক্রোবাস নিয়ে ওই যুবকদের গাড়ি আটকায়। পরে গাড়ি থেকে রায়হান মিয়া, লাবিব উদ্দিন ও নওশাদ ইসলামকে ধরে নিয়ে যান। পরে ওই তিন বন্ধুকে মুক্তি দেওয়ার শর্তে ৩০ লাখ টাকা দাবি করেন পুলিশ কর্মকর্তারা। বেশ কিছু সময় তাদের সঙ্গে টাকা নিয়ে দেনদরবার হয়। একপর্যায়ে ওই দুই এএসআই জানান, ১০ লাখ টাকা দিলেই তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে। এরই মধ্যে অপহরণের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া তরিবুল্লাহ ও রাকিবুল রহমান মুঠোফোনে তাদের পরিবার ও কালিয়াকৈর থানাকে বিষয়টি জানান। পরে কালিয়াকৈর থানার ওসি আলমগীর হোসেন মজুমদার বিষয়টি মির্জাপুর থানা পুলিশকে অবহিত করেন। তারপরই তাদেরকে উদ্ধার করা হয়। আর দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে আপাতত প্রত্যাহার করা হয়েছে।