হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার প্রাচীন কৃষিযন্ত্র দোংগা

Posted: 07 জানুয়ারী, 2018

গৌরনদী সংবাদদাতা : আধুনিক যন্ত্র সভ্যতার যাঁতাকলে গ্রামঞ্চল থেকে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে প্রাচীন কৃষিযন্ত্র দোন, ডুড়ী, কিংবা সেঁউতি (স্থানীয় ভাষায় দোংগা)। আগেকার দিনে জমিতে পানি সেচের ব্যবস্থার জন্য ব্যবহার করা হতো টিন বা বাঁশের তৈরি দোংগা। এক সময় গ্রাম বাংলার কৃষিতে সেচযন্ত্র হিসেবে টিন বা বাঁশের তৈরি দোংগার ব্যাপক চাহিদা ছিলো। টিন বা বাঁশের চাটাই দিয়ে তৈরি দোংগা দিয়ে খাল বা নিচু জমি হতে উপরে পানি সেচ সিঞ্চন করা হতো। আর উঁচু নিচু জমিতে পানি সেচ দিতে সেচযন্ত্র কাঠের দোংগা ছিল অতুলনীয়। গ্রামবাংলার কৃষকরা আদিকাল থেকেই চিন্তা চেতনার ফসল হিসেবে আবিষ্কার করেছিল এ কাঠের দোংগা। আম, কাঁঠাল জাতীয় গাছের কাঠের মাঝের অংশের কাঠ কেটে নিয়ে তার মাঝখানের কাঠের ড্রেন তৈরি করে পানি সেচ দেওয়ার ব্যবস্থা করা সম্ভব। এতে করে পানি সেচ দিতে শ্রমিক ছাড়া কোনো প্রকার খরচ হয় না। তাছাড়া এটি সহজে বহনীয়। দোংগায় সেচ দেওয়া খুব মজার কাজ। একটি বাঁশের শক্ত খুঁটি মাটিতে পুঁতে তার সঙ্গে লম্বা অন্য একটি বাঁশ বেঁধে এক অংশে দোংগার মাথা অন্য অংশে মাটির ভরা (ওজন) তুলে দিয়ে পানিতে চুবিয়ে তুললে এক সঙ্গে অনেক পানি উঠে আসে। এভাবে অনবরত পানি সেচ দিলে দ্রুত সেচের কাজ হয়। তরুন প্রজন্ম কখনও দোংগা দেখেনি। তবে বই পড়ে জানতে পেরেছে এসব কৃষি কাজে ব্যবহার করা হতো। গৌরনদীর কাসেমাবাদ গ্রামের মুজাম তালুকদার (৬০) জানান, আমি বাপ-দাদাদের দোংগা ব্যবহার করে সেচকাজ করতে দেখেছি। আমরাও দোংগা তৈরি করে তা দিয়ে পানি সেচ দিয়েছি। একই গ্রামের ভাষাই তালুকার (৭৫) বলেন, আগে আমরা দোংগা দিয়েই সেচকার্য চালাতাম। এখন আধুনিক অনেক যন্ত্রপাতি আসায় এগুলোর ব্যবহার হয় না।