ময়মনসিংহের ৯ রাজাকারের প্রতিবেদন চূড়ান্ত

Posted: 07 জানুয়ারী, 2018

একতা প্রতিবেদক : মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ময়মনসিংহের আনিছুর রহমান মানিকসহ নয়জনের বিরুদ্ধে পূণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্তকারী সংস্থা। সংস্থার ধানমন্ডিস্থ কার্যালয়ে সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান খান সম্প্রতি এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। এ সময় তদন্ত সংস্থার জেষ্ঠ্য কর্মকর্তা সানাউল হক, মামলার (আইও) তদন্ত কর্মকর্তা মতিউর রহমান উপস্থিত ছিলেন। অন্য আট আসামি হলেন- মোখলেছুর রহমান মুকুল, সাইদুর রহমান রতন, শামসুল হক বাচ্চু, শামসুল হক ফকির, নুরুল হক ফকির, সুলতান ফকির, মুফাজ্জল হোসাইন ও নকিব হোসেন আদিল। তাদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালীন হত্যা, নির্যাতন, অপহরণ, আটক ও অগ্নিসংযোগের ৪টি অভিযোগ আনা হয়েছে। আব্দুল হান্নান খান সাংবাদিকদের বলেন, মুক্তিযুদ্ধকালীন আটক, অপহরণ, নির্যাতন, হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের চারটি অভিযোগে নয় আসামির তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে দুজন আসামি আটক এবং বাকিরা পলাতক রয়েছেন। ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার পক্ষ থেকে প্রস্তুত করা এ প্রতিবেদন এখন প্রসিকিশনের কাছে জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংস্থার কর্মকর্তারা। এরপর প্রসিকিউশন আসামীদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করবে। তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক সানাউল হক বলেন, এই ৯ রাজাকারের বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের ১৭ মে থেকে তদন্ত শুরু হয়। এদিকে ফরিদপুরের মুসা বিন শমসেরের যুদ্ধাপরাধের বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে বলে জানিয়েছে তদন্ত সংস্থা। প্রমাণ পেলে তার বিরুদ্ধে মামলার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি। সম্প্রতি মুসার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। যে প্রতিবেদনে ফরিদপুরের কয়েক মুক্তিযোদ্ধা ও একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে নির্যাতিতের বক্তব্য রয়েছে। তাদের কেউ কেউ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অন্য মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন। ওইসব সাক্ষীর দাবি, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুসা ফরিদপুরে যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক বলেন, মুসার বিরুদ্ধে অভিযোগ আসেনি। তদন্ত সংস্থার সাত বছর অতিক্রম হয়েছে। অভিযোগ আসেনি। যে দু’জন সাক্ষী বক্তব্য দিয়েছেন সে দু’জন আমাদেরই সাক্ষী। তাদের সম্পর্কে কথা বলতে চাই না। তিনি বলেন, আমরা একটা কথা বলতে পারি, কোনো রাজনৈতিক পরিচয়, সামাজিক পরিচয়, অর্থনৈতিক পরিচয় কোনো সময়েই আমাদের কোনো মামলার ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে বিরত রাখতে পারেনি। ওই দুই সাক্ষী পরিচিত। তারা অন্য দুই মামলার সাক্ষী। কাজেই তারা যেহেতু বলেছেন, এ মামলা অনুসন্ধানে তো আছেই। আমরা অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তাদের তাদের (সাক্ষী) সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলব। এবং ফলাফল যদি কিছু হয় আপনারা জানবেন।