ভিনগ্রহে প্রাণের সম্ভাবনা ঘোষণা নাসার

Posted: 07 জানুয়ারী, 2018

একতা বিজ্ঞান ডেস্ক : এই প্রথম পৃথিবীর বাইরেও কোথাও প্রাণের সন্ধান মিলতে পারে বলে স্বীকার করে নিল আমেরিকার ন্যাশনাল এরোনটিক্স অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা NASA। নাসার ইঙ্গিত, শনি বা বৃহস্পতির উপগ্রহে থাকতে পারে কোনো প্রাণী। বহুদিন ধরেই বিশ্বের মানুষ ভিন গ্রহে কোথাও মানুষের মতোই প্রাণী রয়েছে কি না, জানতে উৎসুক। এমনকী, অত্যুৎসাহীরা তো মাঝেমধ্যেই দুনিয়ার নানা প্রান্তে ভিন গ্রহের প্রাণী দেখতেও পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন। এবার ওই সব দাবিকেই কি মান্যতা দিল নাসা। কারণ, নাসা সূত্রে গত ১৪ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার জানানো হয়েছে, বৃহস্পতির উপগ্রহ Enceladus-এ জলের সন্ধান মিলেছে। বরফের চাঁইয়ের নিচে চাপা পড়ে থাকতে পারে আস্ত সমুদ্র। নাসার অনুসন্ধানে সেই তথ্যই মিলেছে। জানা গিয়েছে, শনির উপগ্রহেও ৯৮% জল ও ২% হাইড্রোজেন, কার্বন ডাই অক্সাইড ও মিথেনের মতো গ্যাস মিলেছে। এই সব চিহ্ন দেখেই গবেষকরা ওই সব উপগ্রহে প্রাণ থাকতে পারে বলে মনে করছেন। নাসা জানাচ্ছে, পৃথিবীতে যত সমুদ্র আর মহাসাগর রয়েছে, তার চেয়ে বহুগুণ গুণ বেশি সমুদ্র আর মহাসাগরে ভেসে যাচ্ছে বৃহস্পতি ও শনির উপগ্রহে। আশার কথা, ওই জল তরল অবস্থায় রয়েছে। পৃথিবীর গভীরতম প্রশান্ত মহাসাগরের চেয়েও অন্তত ১০০ গুণ বেশি গভীর মহাসাগর রয়েছে বৃহস্পতির উপগ্রহে। সুবিশাল সমুদ্র আর মহাসাগরে রয়েছে বৃহস্পতির আর একটি উপগ্রহতেও। এত জল পৃথিবীতে কোথাও নেই। আর সেই তরল জলের মহাসাগরগুলি ঢাকা রয়েছে পুরু বরফের চাদরে। বিশাল বিশাল সমুদ্র আর মহাসাগরে ভেসে যাচ্ছে শনির দুই উপগ্রহও। তবে সেই মহাসাগরগুলি ভাসছে তরল হাইড্রোকার্বনে। মিথেন ও ইথেনের সাগর, মহাসাগর। নাসা জানিয়েছে, ওই উপগ্রহগুলিতে পুরু বরফের চাদরের তলায় লুকিয়ে থাকা তরল জলের মহাসাগরগুলোর একেবারে নীচে প্রচণ্ড তাপে জল বাষ্পীভূত হয়ে ধোঁয়ার মতো উপরে উঠে আসছে। কোনো সমুদ্রের তলায় প্রাণ না থাকলে বা কোনো জৈবিক ক্রিয়া না ঘটলে এটা সম্ভব হত না। শুধু তাই নয় এও দেখা গিয়েছে, ওই মহাসাগরগুলির তলায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে হাইড্রোজেন, কার্বন ডাই অক্সাইড ও মিথেন গ্যাস। এটাই ইঙ্গিত দিচ্ছে, বেঁচে থাকার জন্যে ওই গ্যাসগুলি থেকেই রসদ জোগাড় করছে জলজ প্রাণ। নাসার বৈজ্ঞানিক লিন্ডা স্পিক্লারকে উদ্ধৃত করে সংবাদ সংস্থা জানাচ্ছে, প্রাণের অস্তিত্ব থাকতে যে রাসায়নিক এনার্জির দরকার হয়, শনির ছোট উপগ্রহে সেই ইঙ্গিত মেলায় প্রাণের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এটি একটি যুগান্তকারী আবিষ্কার। Enceladus যথেষ্ট ছোট আকৃতির। পৃথিবীর চাঁদের চেয়ে মাত্র ১৫% বড়। পৃথিবীর সঙ্গে দূরত্বের নিরিখে মঙ্গল ছাড়াও বৃহস্পতি ও শনির উপগ্রহেই প্রাণের উপস্থিতির সম্ভাবনা সবচেয়ে উজ্জ্বল বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। এর আগে মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানের অধ্যাপক ও কেপলার মহাকাশযান প্রকল্পের অন্যতম বিজ্ঞানী ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ২০০৯ সালে ভিন গ্রহ খোঁজার জন্য কেপলার মহাকাশ যানকে পাঠানো হয়েছিল মহাকাশে। তার পর থেকে গত আট বছরে কেপলার এখনও পর্যন্ত ২,৩৩৭টি ভিন গ্রহের হদিস পেয়েছে, যে গুলি হয় চেহারা বা গঠনে পৃথিবীর মতো অথবা তাদের পৃথিবীর মতোই পুরু বায়ুমণ্ডল আছে। অথবা সেই সব ভিন গ্রহে জলের এখনও তরল অবস্থায় থাকা সম্ভাবনা যথেষ্টই জোরাল। যাকে ঘিরে তারা ঘুরছে, সেই নক্ষত্রগুলি থেকে যে দূরত্বে থাকলে প্রাণের সৃষ্টি বা তার টিকে থাকা সম্ভব হয়, সেই দূরত্ব বা ‘গোল্ডিলক্স জোন’-এ রয়েছে এই ভিন গ্রহগুলি। কেপলার মহাকাশযানে পাঠানো তথ্যাদি এই প্রথম পৃথিবীর গবেষণাগারে মেশিন লার্নিং পদ্ধতিতে বিশ্লেষণ করেছেন গুগলের বিজ্ঞানী, গবেষকরা। সেখান থেকেই ভিন গ্রহে প্রাণ সৃষ্টির জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় যৌন অণুর হদিস মিলেছে। এটাই গুগলের বিজ্ঞানী, গবেষকদের অবদান।