উস্কানির অভিযোগে মমতার বিরুদ্ধে মামলা

Posted: 07 জানুয়ারী, 2018

একতা বিদেশ ডেস্ক : আসামে বিতর্কিত নাগরিকত্ব তালিকা তৈরি করে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার বাঙালিদের বের করে দেয়ার ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জী। গত ৩ জানুয়ারি বীরভূমে এক জনসভায় মমতা বলেন, ‘বাঙালিদের গায়ে হাত দিলে আমি ছেড়ে কথা বলব না। আসামে বাঙালিদের ওপর আঘাত আসলে পশ্চিমবঙ্গও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’ কেন্দ্রীয় সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরো বলেন, ‘আগুন নিয়ে খেলবেন না।’ এনআরসি’র মাধ্যমে বিজেপি বিভাজনের রাজনীতির ষড়যন্ত্র করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তিনি আরও দাবি করেন নিবন্ধন খাতা থেকে নাম বাদ দেয়ার মাধ্যমে আসাম থেকে বাঙালিদের বিতাড়নের ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। বাঙালিদের পক্ষে এভাবে মুখ খোলায় আসামের বিভিন্ন স্থানে মমতার বিরুদ্ধে আন্দোলন, প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশ হচ্ছে। এরপরই উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় আসাম রাজ্যে চালানো নাগরিকদের নিবন্ধন কার্যক্রম প্রশ্নে উস্কানিমূলক বক্তব্য দেয়ার অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর বিরুদ্ধে পুলিশ মামলা দায়ের করেছে। এক পুলিশ কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেন। ওই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ভারতীয় পেনাল কোডের অনুচ্ছেদ ১৫৩(এ)’র আওতায় তার বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করা হয়। তারপর ৪ ডিসেম্বর কৃষক-শ্রমিক কল্যাণ পরিষদ আসামের দিসর্পুও থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগে বলা হয়, মমতা সুপ্রিম কোর্টের অবমাননা করেছেন ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেনস (এনআরসি) নিয়ে মন্তব্য করে। আসামে জাতি বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগও উঠেছে মমতার বিরুদ্ধে। আসামে নাগরিকত্বের সন্দেহজনক তালিকায় থাকা প্রায় ২০ হাজার বাসিন্দাকে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই বিদেশি ঘোষণা করা হয়েছে। সন্দেহভাজন ওই নাগরিকদের বিদেশি হিসেবে শনাক্ত করা হয় ২০১৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত রাজ্যের ‘ফরেনার ট্রাইব্যুনাল’ ঘোষিত বিভিন্ন রায়ে। ২ ডিসেম্বর ভারতের পার্লামেন্টে এ তথ্য দেন কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরেন রিজিজু। রিজিজুকে উদ্ধৃত করে এক খবরে বলা হয়, আসামের ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল ২০১৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ১৯ হাজার ৬১২ জন সন্দেহভাজন ভোটারকে বিদেশি ঘোষণা করেছে। আসামে এখন টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে অন্যদের নাগরিকত্ব নিয়ে।