ঐক্যবদ্ধ গণআন্দোলনের ডাক

Posted: 07 জানুয়ারী, 2018

একতা প্রতিবেদক : সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংহতি দিবসে বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ গণআন্দোলনের ডাক দিয়েছেন বাম প্রগতিশীল দল ও সংগঠনের শীর্ষ নেতারা। ১ জানুয়ারি সকালে ৪৫ বছর আগের ভিয়েতনাম সংহতি মিছিলে পুলিশের গুলি চালানোর ঘটনা স্মরণ করে তারা বাম প্রগতিশীলদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে সাম্রাজ্যবাদের তাঁবেদার দেশীয় দালাল ও লুটেরাদের বিরুদ্ধেও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। ওই মিছিলে পুলিশের গুলিতে ছাত্র ইউনিয়নের সদস্য মতিউল ইসলাম ও মীর্জা কাদের নিহত হন; পরে যাদেরকে ভিয়েতনামের জাতীয় বীর খেতাব দেওয়া হয়। চলতি বছরের শুরুর দিন সকাল ৮টায় প্রতিবছরের মতো জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মতিউল-কাদের চত্বরে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন আয়োজিত সভায় ১৯৭৩ সালের ১ জানুয়ারি ভিয়েতনাম সংহতি মিছিলে নেতৃত্বদানকারী তৎকালীন ডাকসুর ভিপি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বাসদের কেন্দ্রীয় সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজ, গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার সমন্বয়ক সাইফুল হক, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল হাকিম লালাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক এবং গণসংগঠনের নেতৃবৃন্দ। ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দীর সঞ্চালনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি জিলানী শুভ। অনুষ্ঠানে সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ৭৩-এর পহেলা জানুয়ারি যে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংগ্রাম সারা বিশ্বে ঝড় তুলেছিল, তার প্রেরণার উৎস ছিল- মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সাম্রাজ্যবাদবিরোধী চেতনা। তিনি বলেন, এখন বাংলাদেশের শাসকগোষ্ঠী মুখে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বললেও সাম্রাজ্যবাদের কাছে নতজানুনীতি নিয়ে রাষ্ট্রর পরিচালনা করছে। সাম্রাজ্যবাদের কাছে নতজানুনীতি নিয়ে কখনও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তাই সাম্রাজ্যবাদবিরোধী লড়াইয়ে প্রগতিশীল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। প্রয়োজনে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন করতে হবে। ১ জানুয়ারি স্মৃতিচারণ করে ডাকসুর তৎকালীন ভিপি সেলিম বলেন, সমাজতন্ত্র ক্রমশই তখন সারাবিশ্বের মুক্তিকামী মানুষকে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখাচ্ছিল। যারই ধারাবাহিকতায় ভিয়েতনাম এর মুক্তিকামী মানুষ হো চি মিন এর নেতৃত্বে সশন্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামে লিপ্ত হয়। বছরের পর বছর সেখানে গেরিলা যুদ্ধ চলে। ভিয়েতনামের মানুষের ওপর বর্বর নির্যাতন চালায় সাম্রাজ্যবাদী মার্কিন সামরিক শক্তি। নাপাম বোমাসহ নানান পরীক্ষামূলক রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগে লাখো লাখো মানুষ ও ফসলের ক্ষেত ধ্বংস করা হয়। এর প্রতিবাদে সারাবিশ্বে এমনকি খোদ আমেরিকা ও ইউরোপে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশেও প্রতিবাদের আগুন জ্বলে ওঠে। যার ফলে নয় মাসের সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পরের নতুন করে প্রতিবাদ করা অবধারিত হয়ে ওঠে। যার ফলস্বরূপ ১ জানুয়ারি ভিয়েতনাম সংহতি মিছিল আহ্বান করা হয়। মতিঝিলস্থ আমেরিকান দূতাবাস এ স্মারকলিপি প্রদানের জন্য মিছিলটি প্রেসক্লাব এর বিপরীত দিকে আমেরিকান ইনফরমেশন সেন্টারের সামনে পৌঁছলে কোন রকম উস্কানী ছাড়া পুলিশ গুলি বর্ষণ করতে থাকে। মিছিলে আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার পর মতিউল ও কাদেরের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া যায়। পরেরদিন বিচার ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ চেয়ে সারাদেশে সর্বাত্মক হরতাল পালিত হয়। সরকার হটকারী প্রেস রিলিজের মাধ্যমে সরকার সব দোষ ছাত্রদের উপর চাপিয়ে দেয়। সারাদেশে সরকার ও সরকারি দলের হামলা প্রতিবাদ ও আন্দোলনকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হয়। দুবার আন্দোলনের ফলে ভিয়েতনাম এর বিপ্লবী সরকারকে বাংলাদেশ প্রথম অ-কমিউনিস্ট দেশ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অপসারণ করা হয়। আমেরিকায় ইনফরমেশন সেন্টার সরিয়ে নেওয়া হয়। সভায় ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি জিলানী শুভ বলেন, ৭৩-এর চেতনায় সকলকে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী চেতনার উদ্ধুব্ধ হতে হবে। বাংলাদেশকে সৌদি সামরিক জোট এর মত সাম্রাজ্যবাদী জোট হতে নিজেদের অবস্থান প্রত্যাহার করতে হবে। টিকফা, পিএসসি ২০১২, এবং ইউজিসির ১৪ বছর মেয়াদী কৌশলপত্রসহ সকল দেশ ও গণবিরোধী চুক্তি বাতিলে সরকারকে বাধ্য করতে হবে। সাম্রাজ্যবাদের সব অপচেষ্টা এবং আগ্রাসন এর বিরুদ্ধে লড়াই জারি রাখতে হবে। আলোচনা সভা শেষে বিকেলে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী চলচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।