‘চেষ্টা’

Posted: 03 ডিসেম্বর, 2017

একতা প্রতিবেদক : সফল হতে হলে চেষ্টার কোনো বিকল্প নেই। প্রাচীন কাল থেকেই আমাদের মণি-ঋষিরা মানবজাতিকে কামিয়াব হওয়ার জন্য বার বার চেষ্টা করার কথা বলে গেছেন। তবে চেষ্টা করলেই যে সবসময় সফলতা আসবে এমনও কোনো কথা নেই। তবু মানুষ চেষ্টা করে। আর চেষ্টা মানুষ তখনি করে, যখন সে বুঝতে পারে আসলে পরিস্থিতির উন্নতি প্রয়োজন। এই যে আমাদের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত তিনি এই বয়সেও চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তবে তাঁর আগে ধন্যবাদ দেওয়া প্রয়োজন, তিনি যে এর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছেন। সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, অসময়ে বন্যার কারণে এবার ফসলের ক্ষতি হয়েছে। ফলে চালের দাম বেড়ে গেছে। আমরা চেষ্টা করছি এটাকে কমিয়ে ৪০ টাকার মধ্যে রাখতে। তিনি আরো বলেন, শেষ ১৫ থেকে ২০ বছরের মধ্যে শুধু এই বছরেই আমরা খাদ্য সমস্যায় পড়েছি। অসময়ের বন্যার কারণে এবার ফসলের ক্ষতি হয়েছে। চালের দাম বেড়ে গেছে। আমরা এটাকে কমিয়ে ৪০ টাকার মধ্যে রাখার চেষ্টা করছি। ইতোমধ্যে চাল আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রীর এই কথা শুনে অনেকেই অবাক হতে পারেন। কারণ, এই তো সেদিনও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, শুধু পেঁয়াজের দামটা একটু বাড়তি আর সবকিছুই ঠিক আছে। আর চাল-গমের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী কামরুল ইসলাম তো বলেই দিয়েছেন, চালের বাজার ঠিক আছে। চালের কোনো ঘাটতিও নেই। তাহলে সরকারের একেক একেক মন্ত্রীর একেক ধরনের বক্তব্যে মানুষ কি বিভ্রান্ত হচ্ছে না? না, হচ্ছে না। কারণ, এটাই ‘গণতান্ত্রিক’ সরকারের নিয়ম। বহু মত, বহু পথ! কিছুদিন আগেও চালের দাম যখন বাজারে হু হু করে বেড়ে যায় তখন পত্রিকায় লেখালেখি হয়। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। সরকার দোষ দেয় ব্যবসায়ীদের আর ব্যবসায়ীরা দোষ দেন সরকারকে। সিল আর পাটার ঘষাঘষিতে পাবলিক তো মরিচ, জান বাঁচানোই ফরজ। তাঁরা এই বিতর্কে যোগ দেবে কখন! অনেক দেন-দরবার করার পর চালের দাম ২৫-৩০ টাকা দাম বেড়ে দুই টাকা কমে। যাই হোক, চালের দাম বেড়ে যাওয়ার পরও আমজনতার কিন্তু সরকারের প্রতি বিরাগ মনোভাব নেই। কারণ, অতীতে যখন এমন ঘটনা ঘটেছে, তখন অনেক মন্ত্রী চাল বাদ দিয়ে মানুষকে আলু খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এই সরকারের কৃতিত্ব হচ্ছে, চালের দাম বাড়লেও তারা সেই কথা মুখে আনেননি। হাজার হোক, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সরকার না!