লাগাতার অবস্থানে বকেয়া আদায়

Posted: 03 ডিসেম্বর, 2017

একতা প্রতিবেদক : পাঁচ দিন ধরে লাগাতার অবস্থানের ফসল হিসেবে বকেয়া মজুরি আদায় করে নিয়েছে লাক্সমা সোয়েটার কারখানার শ্রমিকরা। গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের তৎপরতায় ৩০ নভেম্বর গভীর রাতে শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি শোধ করে কারখানা কর্র্তৃপক্ষ। অবশ্য এখনো ২৯ শ্রমিকের সামান্য কিছু বকেয়া পাওনা আছে বলে শ্রমিক নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন। আন্দোলনের ফলে শ্রমিকদের সার্ভিস বেনিফিট, অর্জিত ছুটির টাকাসহ আইনানুগ পাওনাদি পরিশোধের তারিখ নির্ধারিত হয়েছে। পাওনা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশংকা নিয়ে একমাস ধরে শ্রমিকরা বকেয়া মজুরি পরিশোধ ও বন্ধ কারখানা খুলে দেয়ার দাবিতে আন্দোলন করছে। সর্বশেষ গত ২৬ নভেম্বর দেশের গার্মেন্ট মালিকদের সমিতি বিজিএমইএ কার্যালয়ের সামনে তারা লাগাতার অবস্থান শুরু করে। আন্দোলনের একপর্যায়ে ২৯ নভেম্বর বিজিএমইএ কার্যালয়ে মালিক ও শ্রমিক পক্ষের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় গাজীপুরের বড়বাড়িতে অবস্থিত কারখানাটি মালিক চালাবেন কিনা শ্রমিকরা তা জানতে চান। মালিক কারখানাটি একেবারে বন্ধ করার সিদ্ধান্তের কথা জানালে শ্রমিকদের সকল আইনানুগ পাওনা পরিশোধ করার দাবি জানায় শ্রমিক পক্ষ। গভীর রাত পর্যন্ত চলা সভায় কারখানার এগারশো শ্রমিককে চাকুরিচ্যুত করে কারখানাটি স্থায়ী ভাবে বন্ধ করায় সার্ভিস বেনিফিটসহ অন্যান্য আইনগত পাওনা আগামী বছরের ২৫ জানুয়ারি পরিশোধ করার চুক্তি হয়। ওই চুক্তি অনুযায়ী ৩০ নভেম্বর বকেয়া মজুরি পরিশোধ করা হয়। পরে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র’র সভাপতি অ্যাড. মন্টু ঘোষ এবং সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার এক বিবৃতিতে বলেন শ্রমিকদের আন্দোলন বিজয়ী হয়েছে। তারা বলেন, যতদিন পর্যন্ত দেশে শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা বঞ্চিত করে শূণ্য হাতে তাড়িয়ে দেয়ার পরিবেশ বলবৎ আছে ততদিন শ্রমিকরা চূড়ান্ত ভাবে বিজয়ী হবে না। তারা আরও বলেন, শ্রমিকদের সারা জীবনের উপার্জন থেকে বঞ্চিত করার চক্রান্ত চলছিলো সেটা অনেকেই বুঝতে না পারলেও শ্রমিকরা যথার্থই অনুমান করতে পেরেছিল। নেতৃবৃন্দ আগামী ২৫ জানুয়ারি ২০১৮ যথা সময়ে চুক্তি অনুযায়ী শ্রমিকদের আইনানুগ পাওনা পরিশোধ করার ক্ষেত্রে যত্নশীল হওয়ার জন্য মালিকপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। ২৮ নভেম্বর সকাল ১১ টায় আন্দোলনরত শ্রমিকরা কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় ঘেরাও করে। তার পূর্বে সকালে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচীস্থলে উপস্থিত হয়ে সংহতি বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর অন্যতম সদস্য ক্বাফী রতন, ভাস্কর রাশা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শ্যামলী শীল। পর দিন সকাল ১০টায় আন্দোলনরত শ্রমিকরা সচিবালয়ে অবস্থিত শ্রম মন্ত্রণালয় ঘেরাও করে। ঘেরাও মিছিলের পূর্বে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের কার্যকরি সভাপতি কাজী রুহুল আমীনের সভাপতিত্বে এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক জালাল হাওলাদারের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সভাপতি শ্রমিকনেতা অ্যাড. মন্টু ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক শ্রমিকনেতা জলি তালুকদার, কেন্দ্রীয় নেতা সাদেকুর রহমান শামীম, ইকবাল হোসেন, কেএম মিন্টু, এমএ শাহীন, মঞ্জুর মঈন, জয়নাল আবেদীন, মোহাম্মদ শাজাহান, আজিজুল ইসলাম।