বিজয়ের মাস ডিসেম্বর

Posted: 03 ডিসেম্বর, 2017

মোর্শেদ আলী : দুনিয়ার প্রতিটি দেশ কোনো না কোনো উপনিবেশিক শাসকদের দ্বারা শাসিত ও শোষিত হয়েছে। যেমন আমাদের বাংলাদেশ দুইশত বছর ব্রিটিশ শাসিত থাকার ফলে দিনের পর দিন মানুষ শোষিত হয়েছে–নির্যাতিত হয়েছে। আর এই নির্যাতনের বিরুদ্ধে মানুষ যুগে যুগে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। আমাদের বাংলায় যেমন নীলচাষের বিরুদ্ধে কৃষকরা বিদ্রোহ করেছিল তেমনি ফকির বিদ্রোহ, সন্ন্যাস বিদ্রোহ ও সিপাহী বিদ্রোহের মত লড়াইও হয়েছিল এই ভূমিতেই। গড়ে উঠেছিল মাস্টার দা সূর্যসেনের চট্টগ্রাম বিদ্রোহের মত আরো অনেক বীরোচিত প্রতিরোধ। এইসব লড়াই দেখে ব্রিটিশরা বুঝতে পেরেছিল যে তাদের শোষণ-শাসন বেশিদিন চলবে না। তাই তারা নতুন কৌশল নিয়ে ‘ভাগ কর শোষণ কর’ নীতি গ্রহণ করে এবং সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছড়াতে থাকে। সৃষ্টি হয় হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে বিভেদ। সৃষ্টি করে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি, গড়ে উঠে মুসলমানদের নিয়ে মুসলিম লীগ, নেতা হয় মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। অন্যদিকে হিন্দুদের জন্য হিন্দুস্থান গড়ার নেতা মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহেরু প্রমুখ। এরা সকলে স্বদেশি আন্দোলনের নেতা। ইংরেজরা কৌশলে দু’দিকে তাল দিয়ে ভারতবর্ষকে ভাগ করার ফন্দি আঁটল এবং জাতীয় নেতাদের সংকীর্ণ দৃষ্টির ফলে ইংরেজরা সফলও হলো। গঠিত হলো মুসলিম লীগের নেতৃত্বে পাকিস্তান নামক এক কৃত্রিম রাষ্ট্র। পাকিস্তান স্বাধীনতা লাভ করে ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট। আর ’৪৭ এর ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা লাভ করে ভারত। নেতৃত্ব গ্রহণ করে কংগ্রেস পার্টি। পাকিস্তানকে কৃত্রিম রাষ্ট্র বলা হয় এই জন্য যে পশ্চিম পাকিস্তান ও পূর্ব পাকিস্তানের মধ্যে দূরত্ব ছিল ১৪০০ মাইল– আর ভাষা ও কৃষ্টির কোনো মিল ছিল না- শুধু ধর্মভিত্তিক কোনো রাষ্ট্র হয় না। আমাদের বাংলাদেশই তখনকার পূর্ব পাকিস্তান। পাকিস্তানের শাসনভার পেয়েছিল মুসলিম লীগ। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা লাভের পর মি. জিন্নাহ পূর্ব পাকিস্তানের রাজধানী ঢাকায় এসে বক্তৃতা দিয়ে বললেন- ‘উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’। ঠিক এখান থেকেই শুরু হল ভাষাভিত্তিক আন্দোলন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা সঙ্গে সঙ্গে মানি না, মানি না বলে আওয়াজ তুললেন এবং এই আওয়াজ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়লো। শুরু হল ভাষা আন্দোলন। একইসাথে মুসলিম লীগের শাসকরা শুরু করল প্রকট নির্যাতন। এখানে উল্লেখ্য যে, ভারতবর্ষ ভাগ করে ব্রিটিশরা যে স্বাধীনতা ঘোষণা করে তার প্রতিবাদে ভারতবর্ষের অবিভক্ত কমিউনিস্ট পার্টি আওয়াজ তোলে- এই স্বাধীনতা মানি না, কেননা লক্ষ লক্ষ মানুষ না খেয়ে আছে (ইয়ে আজাদী ঝুটা হায় লাখো ইনসান ভূখা হায়)। কমিউনিস্ট পার্টির আহ্বানে সারা দেশে বিশেষ করে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষকদের তেভাগার আন্দোলন সশস্ত্র রূপ ধারণ করে। পাকিস্তানি শাসকদের পুলিশি ও গুন্ডা বাহিনীর আক্রমণে বহু কৃষক মৃত্যুবরণ করেন আর এই প্রথম কমিউনিস্টদের রক্তে বাংলার মাটি লাল হয়। বহু নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে ছাত্র-জনতার আন্দোলন ’৪৮ থেকে দুর্বার হয়ে উঠে এবং ১৯৫২ সালে ছাত্রদের গুলি করে হত্যা করা হয়। শহীদ হয় রফিক, জব্বার, শফিকসহ আরো অনেকে। রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে সারা বাংলা ফেটে পড়ে। ’৫২ ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে রাষ্ট্রভাষা বাংলার স্বীকৃতি দিতে মুসলিম লীগ সরকার বাধ্য হয়। এরপর যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনের মাধ্যমে মুসলিম লীগ সরকার ভীষণভাবে পরাজিত হয়। ইতোমধ্যে রাজনৈতিক দল গড়ে উঠে আওয়ামী মুসলিম লীগ, পরে মুসলিম শব্দ বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ গঠিত হয়। প্রথম সভাপতি হন মওলানা ভাসানী এর সাথে যুব আন্দোলনের নেতা শেখ মুজিবুর রহমান, ওয়ালী আহাদ, শহীদুল্লাহ কায়সারসহ আরো অনেকে। তখন গঠন পর্যায়ে বামপন্থিদের অনেকেই আওয়ামী লীগে ছিলেন। কমিউনিস্ট পার্টি তখন আত্মগোপনে কাজ করতে আরম্ভ করে। পরে ’৫৪ সালে পাকিস্তান সরকার ৯৪ এর ‘ক’ ধারা বলে যুক্তফ্রন্ট সরকারকে ভেঙে দেয়। এর মধ্যে দিয়ে কমিউনিস্ট পার্টিকে বেআইনি ঘোষণা করে। পরে পুনরায় আওয়ামী লীগ সরকার গঠিত হয় এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী নেতা হন। শেখ মুজিবুর রহমানও ঐ মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন। এক পর্যায়ে সোহরাওয়ার্দী সিয়াটো-সেন্টোতে যোগ দেয়ার পক্ষে মত দিলে আওয়ামী লীগ ভেঙে মাওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে টাঙ্গাইলের কাগমারী সম্মেলনে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি গঠিত হয় (ন্যাপ)। এরপর ’৫৮ সালে আইয়ুব খানের সামরিক শাসন জারি হয়। চলে জেল-জলুমু, অত্যাচার ও প্রায় সকল রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেপ্তার অভিযান। এই জুলুমবাজির বিরুদ্ধে ’৬১ সাল থেকে শিক্ষা আন্দোলন শুরু হয়। ’৬৯ সালে কমরেড মণি সিংহের সাথে শেখ মুজিবুর রহমান ও তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত এবং এরপর থেকে দুবার আন্দোলন গড়ে উঠে। ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্রলীগের সাথে ঐক্য গড়ে উঠে এবং এক পর্যায়ে সংযুক্ত বিরোধী দল গঠিত হয়। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ, ন্যাপ, গণ আজাদী লীগ প্রভৃতি রাজনৈতিক দল ছিল। এরপূর্বে ফাতেমা জিন্নাহর নির্বাচনের সময় বিরোধীদলগুলোকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ ‘ডাক’ গঠিত হয়। ক্রমে ’৬৬ সালের দিকে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন জোরদার হয়ে উঠে এবং তখন শেখ মুজিবুর রহমান ৬ দফা ঘোষণা করেন। যার মূল হল স্বায়ত্বশাসনের দাবি। এরপর শেখ সাহেবকে গ্রেফতার করা হল। তবে তিনি দমন পীড়নকে উপেক্ষা করে প্রতিটি জেলায় সভা সমাবেশ করে মানুষকে ৬ দফার পক্ষে উদ্বেলিত করেন। ঐ সময় আমিসহ অনেকেই কারাবরণ করি। অন্যদিকে ছাত্র, শ্রমিক ও কৃষক আন্দোলন জোরদার হয়ে উঠে। এর মধ্যে শেখ সাহেবকে দমানোর জন্য আইয়ুব সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করেন। এই সমস্ত মিলে দমনপীড়নের বিরুদ্ধে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে উঠে এবং ’৬৯ এর জানুয়ারিতে গণঅভ্যূথান ঘটে যায়। মূল দাবি- আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা বাতিল ও রাজবন্দিদের মুক্তি। তখন কমরেড মণি সিংহসহ অনেক কমিউনিস্ট নেতা জেলখানায় বন্দি ছিলেন। আন্দোলনের তোড়ে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা বাতিল এবং শেখ সাহেবসহ কমরেড মণি সিংহ ও অন্যান্য কমিউনিস্ট নেতারা মুক্তি লাভ করেন। এরপর রেসকোর্স ময়দানে শেখ সাহেবকে সংবর্ধনা দেয়া হয়। ঐ সভায় শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। এরপর থেকে তিনি ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ নামেই পরিচিত হয়ে উঠেন। পরদিন বা দু’দিন পর পল্টন ময়দানে জমায়েত করে কমরেড মণি সিংহসহ কমিউনিস্ট নেতাদের সংবর্ধনা দেয়া হয়। এভাবে আন্দোলন এগিয়ে যায় এবং আইয়ুবের পতনের পর ইয়াহিয়া খান ক্ষমতা দখল করে নির্বাচন ঘোষণা করে। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে এবং ন্যাপ একটি আসন পায়। ’৭১ এর মার্চ মাসে পার্লামেন্টে বৈঠক ডাকা হলেও ভুট্টো ও ইয়াহিয়া ষড়যন্ত্র করে পার্লামেন্টের বৈঠক বাতিল করে। এরপর আন্দোলন ১ দফার দাবি রূপে পরিণত হয়। সেটা স্বাধীনতা। জনগণ শ্লোগান তুলে ‘ভুট্টোর মুখে লাথি মারো বাংলাদেশ স্বাধীন করো’। এরপর এলো ৭ মার্চের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের (রেসকোর্সের ময়দান) জনসভায় লক্ষ লক্ষ ছাত্র-জনতার বিশাল জনসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ। ওই ভাষণেই বঙ্গবন্ধু স্পষ্টভাবে ঘোষণা দেন, “এবারের সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, জয় বাংলা” বলে তিনি ভাষণ শেষ করেন। ঐ লক্ষ লক্ষ লোকের সমাবেশে আমি ডেমরা শ্রমিক এলাকা থেকে প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক নিয়ে যোগদান করি সেদিন। ঐ ভাষণ এখন ইউনেস্কার স্বীকৃতি পেয়েছে। এভাবেই আমাদের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। ২৬ মার্চ দেশের স্বাধীনতা ঘোষণার পর থেকে যুদ্ধ শুরু হয়। শ্রমিক, কৃষক, ছাত্র, বুদ্ধিজীবীসহ সকলে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এইভাবে ৩০ লক্ষ মানুষের আত্মদান ও লক্ষ লক্ষ মানুষের অবর্ণনীয় কষ্ট ও বাড়িঘর হারানোর মধ্যে দিয়ে দেশ স্বাধীন হয়। দেশ একটা সংবিধান পায় এবং দেশের শ্রমিক, কৃষক ও মেহনতি মানুষের জন্য এক প্রগতির ধারা চালু হয়। সংবিধানে ৪ মূলনীতি ঘোষণা হয়। গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, সমাজতন্ত্র ও বাঙালি জাতীয়তাবাদী। যদিও বর্তমানে দেশের যে অবস্থা তাতে এসব নিয়ে ভাবলে মনে কষ্ট হয়। দেশে এখন লুটেরা ধনিকদের রাজত্ব কায়েম হয়েছে। দেশের মানুষ একদিন দুর্দশা দূর করার জন্য মুক্তিযুদ্ধ করেছে, মুক্তিযুদ্ধ করেছে মানবিক মূল্যবোধ ও মুুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ধারা অব্যাহত রাখার জন্য। এই চেতনা ধরে রাখতে পারলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও তার তাৎপর্য স্বার্থক হবে। তবেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুরের আশা-আকাক্সক্ষা পূর্ণ হবে এবং তাঁর হত্যাকারীরা নিপাত যাবে। সকল প্রকার দুর্নীতি ও বৈষম্য দূর করেই দেশবাসীর মঙ্গল সাধন করা যেতে পারে। শুধু শেখ সাহেবের নাম ও জয় বাংলা বললেই হবে না, নিঃস্বার্থভাবে দেশের কল্যাণে কাজ করতে হবে। উপরোক্ত বর্ণনা থেকে এটা পরিষ্কার যে, আমাদের মুক্তিযুদ্ধ জাতীয় আন্দোলনের ধারায় এসেছে। এই সুযোগ সৃষ্টি হয় রাশিয়ার বলশেভিক বিপ্লবের পর। নীতিগতভাবে বলশেভিক পার্টি দুনিয়ার যেখানে জাতীয় মুক্তি আন্দোলন, সেখানেই সর্বোতভাবে সহযোগিতা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল রাশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টির। আমাদের দেশ যখন ব্রিটিশদের খপ্পর থেকে মুক্ত হয়ে পাকিস্তানের খপ্পরে পড়ে তখন পাকিস্তানীরা আমেরিকাসহ বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদের সহায়তা পায় এবং আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে পদে পদে বাধা দেয় এবং মুক্তিযুদ্ধকে দমানোর জন্য আমেরিকার সপ্তম নৌ বহর পাঠায়। আর তখন সোভিয়েতের নৌবহর মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে এগিয়ে আসে এবং হুমকি দিয়ে সপ্তম নৌবহরের গতি পরিবর্তন করতে বাধ্য করে। তবে দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, গণচীন তখন পাকিস্তানকে সমর্থন দেয়। পরে জাতিসংঘে পাকিস্তান বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রস্তাব আনলে সেখানেও সোভিয়েত ইউনিয়ন দুই দুইবার ভেটো দেয়। একইসঙ্গে ডিসেম্বরে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের পথেও সহায়ক ভূমিকা ছিল রাশিয়ার। ভারতের সাথে সোভিয়েত ইউনিয়নের সাথে চুক্তি হওয়ার পর ভারত সর্বোতভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়। ভারতের মহান জনগণ আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে সহযোগিতা করে এবং বাংলাদেশের কোটি কোটি নির্যাতিত মানুষকে খাদ্য ও থাকার আশ্রয় দেয়। এইভাবে বাংলার মুক্তিবাহিনী ও ভারতের মিত্রবাহিনী একযোগে লড়াই করে বাংলার মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় নিশ্চিত করে। অন্যদিকে একই সময়ে বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দেয়ার জন্য সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন পাকিস্তানীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। বর্তমানে অনেক ইতিহাস লেখা হচ্ছে। তবে এই সমস্ত ঘটনা উল্লেখ না করলে সত্যিকারের ইতিহাস নতুন প্রজন্ম জানবে না। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ শুধু নয়মাসের লড়াই নয়। এক দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা পেয়েছি আমরা। এইসব ইতিহাস নতুন প্রজন্মকে জানাতে হবে। তবেই কেউ বাঙালিদের ষড়যন্ত্র করে দমাতে পারবে না।