সিপিবি কার্যালয়ে পুলিশের হামলা, টিয়ারশেল

Posted: 03 ডিসেম্বর, 2017

একতা প্রতিবেদক : বিদ্যুতের বর্ধিত দাম প্রত্যাহার ও চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কমানোর দাবিতে সিপিবি-বাসদ ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার হরতাল শুরু হওয়ার আগে সকাল সাড়ে ৫টায় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)-র কার্যালয় মুক্তিভবনে প্রবেশ করে হামলা চালায় পুলিশ। বিনা উসকানিতে তারা টিয়ার শেল ছোড়ে। এরপর কার্যালয়ে ঢুকে ভাংচুর ও রুমে রুমে তল্লাশি চালিয়ে ১১জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে। পরে এক বিবৃতিতে এ ধরণের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানান সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম। নেতৃবৃন্দ বলেন, আমাদের বারবার হুশিয়ারি সত্ত্বেও সরকার আমাদের শান্তিপূর্ণ হরতালে পুলিশ লেলিয়ে দিয়ে উস্কানি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। হরতাল শুরুর আগেই পুলিশ বিনা উস্কানিতে সিপিবি কার্যালয়ে চার রাউন্ড টিয়ার গ্যাস ছুড়েছে। সিপিবি কার্যালয়ের ৬ষ্ঠ তলায় নেতা-কর্মীদের অবরুদ্ধ করে পাঁচতলা পর্যন্ত দখল করে নেয় পুলিশ। রুমে রুমে তল্লাশি করে পার্টির ১১জন ছাত্র-যুব-শ্রমিক নেতৃবৃন্দকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের আগে ও পরে তাদের উপর অমানষিক নির্যাতন চালানো হয়। নেতৃবৃন্দ বলেন, কমিউনিস্ট পার্টির কার্যালয় বঙ্গবন্ধু, জিয়া, এরশাদ, খালেদা, হাসিনা সব আমলেই আক্রান্ত হয়েছে। বিভিন্ন আমলে একাধিকবার আমাদের কার্যালয় অগ্নিসংযোগ করে ভস্মীভূত করা হয়েছে। কিন্তু আমাদেরকে দমিয়ে রাখা যায়নি। ছাই থেকে কমিউনিস্টরা ফিনিক্স পাখির মত বেরিয়ে এসেছে। দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সিপিবি সামনের কাতারে থেকে লড়াই করেছে। শ্রেণি পেশার দাবির লড়াইয়ে সিপিবি পথ প্রদর্শক। সুতরাং ভয় দেখিয়ে, হামলা, নিপীড়ন, গ্রেপ্তার করে সিপিবি এবং তার নেতাকর্মীদের কাবু করা যাবে না। নেতৃবৃন্দ যে সকল পুলিশ সদস্য অবৈধভাবে সিপিবি কার্যালয়ে প্রবেশ করে ভাংচুর করেছে, নেতাকর্মীকে নির্যাতন ও গ্রেপ্তার করেছে অবিলম্বে তাদের চিহ্নিত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।