গণদাবির হরতাল সারাদেশে

Posted: 03 ডিসেম্বর, 2017

একতা প্রতিবেদক : আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দমন নির্যাতন, হামলা ও গ্রেপ্তারের মধ্যে সারাদেশে সিপিবি-বাসদ ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার ডাকা হরতাল পালিত হয়েছে। বিদ্যুতের বর্ধিত দাম প্রত্যাহার, চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কমানো এবং সিটি কর্পোরেশনসমূহ কর্তৃক অযৌক্তিক হারে হোল্ডিং ট্যাক্স বৃদ্ধির পাঁয়তারার প্রতিবাদে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা ৩০ নভেম্বর সারাদেশে আধাবেলার এ হরতাল ডাকে। হরতালের দিন সকালেই কয়েকশ পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সিপিবি কার্যালয় ঘিরে ফেলে। কোনো উসকানি ছাড়াই তারা ভেতরে থাকা নেতাকর্মীদের ওপর হামলে পড়ে। তাদের দমনপীড়নের মধ্যেই সিপিবির নেতাকর্মীরা সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সিপিবি-বাসদ ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার হরতালে সমর্থনের মিছিলগুলোতে অংশ নেয়। শাহবাগে প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতাকর্মীরা হরতালের পিকেটিংয়ে অংশ নেয়। গণদাবির এই হরতালে রাজধানীজুড়ে জনগণের সমর্থন ছিল চোখে পড়ার মতো। যানবাহনের সংখ্যা ছিল অন্যান্য দিনের চেয়ে অনেক কম। সিপিবি-বাসদ ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার সময়ও অনেকেই হরতালের পক্ষে তাদের সক্রিয় সমর্থনের কথা ব্যক্ত করেছেন। বাম দলগুলো ছাড়াও অনেক গণতান্ত্রিক দল ও গোষ্ঠী, গণ ও পেশাজীবী সংগঠন হরতালের পক্ষে তাদের সমর্থনের কথা জানিয়েছিল। রাজধানীর পাশাপাশি দেশের সর্বত্র হরতাল পালনের খবর পাওয়া গেছে। হরতালের কারণে বেশিরভাগ জেলাতেই আন্তঃজেলা পরিবহনের বাস বন্ধ ছিল। চট্টগ্রামে কিছু সময় ট্রেন যোগাযোগও বন্ধ করে দেওয়া হয়। অধিকাংশ স্থানেই হরতালের সমর্থনে করা মিছিলে পুলিশ বাধা দেয়। রাজধানীসহ দেশের অনেক স্থানেই সিপিবিসহ বাসদ ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার নেতারা আটক ও গ্রেপ্তার হন। গণদাবির এই হরতালে জনসমর্থনের কথা উঠে আসে হরতাল শেষে জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সমাবেশেও। শত প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে হরতাল সফল করায় জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সমাবেশে বিদ্যুতের বর্ধিত দাম প্রত্যাহার ও চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কমানোর দাবি পুনর্ব্যক্ত করা হয়। গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার সমন্বয়ক সাইফুল হকের সভাপতিত্বে এ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম, বাসদ- এর সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের মোশাররফ হোসেন নান্নু, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাসদ (মার্কসবাদী)’র কেন্দ্রীয় নেতা মানস নন্দী, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহ্বায়ক হামিদুল হক, সিপিবি প্রেসিডিয়াম সদস্য লক্ষ্মী চক্রবর্তী, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য বহ্নিশিখা জামালী, গণসংহতি আন্দোলনের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য তাসলিমা আক্তার, বাসদ নেত্রী প্রকৌশলী শম্পা বসু, বাসদ (মার্কসবাদী)’র ইভা মজুমদার ও গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির আমেনা আক্তার, প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নাসির উদ্দিন প্রিন্স। নেতৃবৃন্দ বলেন, ক্ষমতাসীন সরকার তাদের দল ও জোটের নেতাকর্মীদের লুটপাটের জন্য বারবার বিদ্যুৎ-গ্যাস ও জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি করছে। স্বাধীনতার পর গত ছেচল্লিশ বছর ধরে আওয়ামী লীগ-বিএনপি, জামাত-জাতীয় পার্টি এবং কখনো কখনো সামরিক পোশাকে শাসকশ্রেণি ক্ষমতায় ছিল। তারা দেশকে লুটপাট করে বিদেশে সম্পদের পাহাড় গড়েছে। পুনরায় বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে জাতিকে লুটের সুযোগ তাদেরকে দেয়া হবে না। নেতৃবৃন্দ সরকারকে অবিলম্বে বর্ধিত বিদ্যুতের মূল্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানান, নতুবা আরো কঠোর আন্দোলন-কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সরকার পতনের আন্দোলন সূচিত হবে। গাইবান্ধা : গাইবান্ধায় সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য জেলা সভাপতি মিহির ঘোষসহ ১০জন নেতাকর্মী আটক করা হয়। আটককৃত হলেন সিপিবি গাইবান্ধা জেলা সভাপতি মিহির ঘোষ, যুব ইউনিয়ন নেতা মিঠুন রায়, ছাত্র ইউনিয়ন জেলা সভাপতি তপন দেবনাথ, ছাত্র ইউনিয়ন নেতা পঙ্কজ সরকার, তাহমিদুর চৌধুরী, বাসদ (মার্কসবাদী) নেতা মাহবুব আলম মিলন ও সবুজ সমাজতান্ত্রিজ ছাত্র ফ্রন্টের জেলা সভাপতি শামীম আরা মিনা, মাসুদা আকতারকে পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এছাড়া পুলিশের লাঠিচার্জে গুরুতর আহত হয় সিপিবি কর্মী রফিকুল ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট জেলা সাধারণ সম্পাদক পরমানন্দসহ ১২জন নেতাকর্মী। পিরোজপুর: পিরোজপুর শহরের বিলাস চত্বরে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিবি পিরোজপুর জেলা কমিটির সভাপতি অ্যাড. দিলীপ কুমার পাইক, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ পিরোজপুর জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য নিমাই মণ্ডল, কমিউনিস্ট লীগ নেতা বিরেন মণ্ডল, সিপিবি নেতা মোঃ লুৎফর রহমান, অধ্যাপক ইকতিয়ার হোসেন পান্না, ছাত্র ইউনিয়ন নেতা খ.ম. মিরাজ, শাহানা মুন্নি। গাজীপুর: জয়দেব চৌরাস্তায় হরতাল সফল করার আহবানে মিছিল ও সমাবেশ করেছে। সিপিবি জেলা শাখা’র সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল কবির খোকন, বাসদ গাজীপুর জেলার সমন্বয়ক রাহাত আহমেদ, সিপিবি নেতা ওয়াহিদুজ্জামান প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। খুলনা: ভোর ৬টা থেকে হরতালকারীরা রাস্তায় অবস্থান নেয় ও শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল করতে থাকে। কিন্তু পুলিশ প্রথম থেকে মারমুখী ভূমিকা নেয় এবং এক পর্যায়ে বিনা উসকানিতে মিছিলে হামলা করে। হামলায় নিতাই পাল, জনার্দন দত্ত নাণ্টু, মনিরুল হক বাচ্চু, মৃত্যুঞ্জয় দাশ, সনজিৎ মণ্ডলসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়। মিছিল থেকে সিপিবি কেন্দ্রীয় সদস্য এস এ রশিদ, ছাত্র ইউনিয়ন নগর সভাপতি উত্তম দাস এবং ছাত্র ফ্রন্ট জেলা সদস্য মিঠুন মণ্ডলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ব্রাহ্মণবাড়িয়া: সকাল ৬ টা থেকে সিপিবি কর্মীরা শহরের প্রধান প্রধান সড়কে পিকেটিং করে। সকাল ৭:৩০ টায় পুলিশ শান্তিপূর্ণ পিকেটিং এ বাধার সৃষ্টি করে। এ সময় পুলিশের সাথে কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃবৃন্দের বাকবিতণ্ডা হয়। পথসভায় বক্তব্য রাখেন, সাজিদুল ইসলাম, এড. সৈয়দ মোঃ জামাল প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন আছমা খানম, অ্যাড. মোঃ নাছির মিয়া, আবুল কালাম নঈম, আল মামুন ও অসিত পাল প্রমূখ। নবীনগরে উপজেলা সিপিবির নেতৃত্বে জনগণ সর্বাত্মক হরতাল পালন করে। এ সময় নবীনগরে সিপিবি সভাপতি ইসহাক, সাধারণ সম্পাদক শাহীন খান, ও আবু জাহের প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন। মৌলভীবাজার: হরতাল সমর্থনকারীরা শহরের বিভিন্ন জায়গায় মিছিল করেছে। সকাল এগারোটায় শহরের চৌমোহনা চত্বরে রাস্তায় বসে শ্লোগান দেয় এবং যানবাহন চলাচন বন্ধ করে দেয়। পুলিশ বাধা দিলে হরতালকারীরা সরে যায়। নারায়ণগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জ শহরে ৬ টা থেকে প্রধান প্রধান সড়কে মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৭টায় ২নং রেলগেইটে মিছিলে পুলিশ বাধা প্রদান করে। এই সময় মিছিলকারী নেতাকর্মীদের সাথে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়। জোটের নেতাকর্মীরা পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে মিছিল চালিয়ে যায়। বেলা ১১ টায় ২নং রেলগেইটে সিপিবি-বাসদ-বাম র্মোচার সমাবেশে রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন হাফিজুল ইসলাম, নিখিল দাস, তরিকুল সুজন, ধীমান সাহা জুয়েল, শিবনাথ চক্রবর্তী, আবু নাঈম খান বিপ্লব, বিমল কান্তি দাস, সেলিম মাহমুদ, অঞ্জন দাস, সজীব শরীফ, বেলাল হোসাইন, মশিউর রহমান রিচার্ড।