সোভিয়েত ইউনিয়ন, জাতীয় মুক্তি ও আমাদের মুক্তিযুদ্ধ

Posted: 05 নভেম্বর, 2017

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম : ১৯১৭ সালে কমরেড ভ্লাদিমির ইলিচ উলিয়ানভ লেনিনের নেতৃত্বে অক্টোবর সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের মধ্য দিয়ে রাশিয়ার মতো একটি বড় দেশে ইতিহাসের প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। রুশ দেশে সংগঠিত এ বিপ্লব পুঁজিবাদী বিশ্বব্যবস্থায় একটি বড় ধরনের ভাঙন ঘটায়। সে সময় রাশিয়া ছিল বিশ্বের পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী কাঠামোর মধ্যে তুলনামূলক দুর্বলতম গ্রন্থি। রাশিয়ার অর্থনীতি ও সমাজ ছিল অগ্রসর ইউরোপীয় দেশসমূহ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় পশ্চাদপদ। সে দেশে সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা নির্মাণ সূচিত হওয়ায় যে অভাবনীয় মাত্রায় সামাজিক অগ্রগতি, জনকল্যাণ ও অর্থনৈতিক উন্নতি সাধন শুরু হয় তা অন্য পুঁজিবাদী রাষ্ট্রগুলোতে তোলপাড় জাগানোর মতো প্রভাব সৃষ্টি করে। পুঁজিবাদী ব্যবস্থাকে, ঐতিহাসিকভাবে তার চেয়ে অগ্রসর আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থা তথা সমাজতন্ত্রের সঙ্গে প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হতে হয়। সোভিয়েত ইউনিয়নে প্রতিষ্ঠিত সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা শ্রেণি-শোষণের অবসানের বাস্তব দৃষ্টান্ত ও পথনির্দেশ রচনা করেছিল। উৎপাদিকা শক্তির অভূতপূর্ব বিকাশ সম্ভব করে তোলার পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিকের জন্য ভাত, কাপড়, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান প্রভৃতির নিশ্চয়তা বিধানের স্থায়ী ব্যবস্থাগত কাঠামো গড়ে তুলেছিল। শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, জীবনবোধ ইত্যাদি সব ক্ষেত্রে অনন্য সাফল্য অর্জিত হয়েছিল। শ্রেণি শোষণের অবসানের পাশাপাশি, সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়ন জাতিগত শোষণ থেকে মুক্তির পথকেও সহজ করে দিয়েছিল। জার-শাসিত রাশিয়ার নিপীড়িত জাতিসমূহ জাতীয় মুক্তির আস্বাদন পেয়েছিল। জাতিসমূহের মধ্যে আন্তঃসম্পর্কের ক্ষেত্রে সোভিয়েত রাষ্ট্র এক নতুন গণতান্ত্রিক অধ্যায় সূচনা করেছিল। একইসঙ্গে, সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়ন বিশ্বসাম্রাজ্যবাদী ব্যবস্থায় বড় ধরনের ভাঙন সৃষ্টি করায়, গোটা ঔপনিবেশিক ব্যবস্থার ওপর নেমে এসেছিল গুরুতর আঘাত। সোভিয়েত ইউনিয়ন হয়ে উঠেছিল দেশে দেশে সংগঠিত হতে থাকা ‘জাতীয় মুক্তি আন্দোলনের’ স্বাভাবিক মিত্র। সাম্রাজ্যবাদ-ঔপনিবেশবাদের বিলোপ ঘটানোর লক্ষ্যে কাজ করা এবং দেশে দেশে দৃঢ়ভাবে জাতীয় মুক্তি আন্দোলনের পাশে থাকার জন্য আর নীতিগত অঙ্গীকার অনুসারে দৃঢ় ও একনিষ্ঠ পদক্ষেপও সে গ্রহণ করেছিল। এসব কারণে সোভিয়েত ইউনিয়ন হয়ে উঠেছিল সাম্রাজ্যবাদের কাছে হৃদকম্পনের কারণ এবং পরাধীন জাতিগুলোর কাছে প্রেরণা ও ভরসার উৎস। শ্রমিক শ্রেণির আন্তর্জাতিকতা ও সব ধরনের শোষণের চির অবসানের আদর্শিক অবস্থানের কারণেই সোভিয়েত ইউনিয়ন পৃথিবীর দেশে দেশে মুক্তিকামী মানুষের পাশে অবস্থান নিয়েছিল এবং উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী পরিচালিত মুক্তিসংগ্রামের সর্বতোভাবে সহায়তা করার নীতি নিষ্ঠার সাথে অনুসরণ করেছিল। সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠার পর রুশ বিপ্লবের প্রেরণায় দেশে দেশে সাম্রাজ্যবাদের লুণ্ঠন-নিপীড়নের বিরুদ্ধে মুক্তিসংগ্রাম তীব্র হয়ে উঠেছিল। সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন। সাম্রাজ্যবাদের সঙ্গে সোভিয়েত ইউনিয়নসহ সমাজতান্ত্রিক বিশ্বের এই বিরোধ সংকীর্ণ স্বার্থগত কোনো বিষয় থেকে উৎসারিত ছিল না। এটি ছিল এক আদর্শিক লড়াই। ‘দুনিয়ার মজদুর ও নিপীড়িত জাতিসমূহ এক হও’–এই বজ্রনিনাদ নিয়ে উপনিবেশগুলোতে গড়ে ওঠা আন্দোলন বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিতে শুরু করেছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ফ্যাসিবাদের পরাজয় নিশ্চিত করতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন। এর অভিঘাতে একের পর এক দেশ পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীন হতে শুরু করেছিল। বিশ্বব্যাপী জাতীয় মুক্তি আন্দোলন অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছিল। কবির ভাষায়–‘যেখানেই মুক্তির সংগ্রাম, সেখানেই কমরেড লেনিন’। সোভিয়েত ইউনিয়ন হয়ে উঠেছিল তৃতীয় বিশ্বের সংগ্রামরত মানুষের অকৃত্রিম ও স্বাভাবিক বন্ধু। জাতীয় মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাস খুব প্রাচীন নয়। পুঁজিবাদী ব্যবস্থা প্রবর্তিত হওয়ার পটভূমিতে জাতি-রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ধারা সূচিত হয়। পুঁজিবাদী ব্যবস্থার অন্তর্নিহিত ‘অসম বিকাশের সূত্রে’র কারণে উন্নত পুঁজিবাদী দেশগুলো অধিক সম্পদশালী। যে যে দেশ আগেভাগেই পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় প্রবেশ করতে স্বক্ষম হয়েছিল, তারা তাদের ধন-সম্পদের পরিমাণ আরও বেশি পরিমাণে বৃদ্ধি করে নিতে সক্ষম হয়েছিল। এজন্য তারা দুর্বল জাতিগুলোর ওপর জাতিগত শোষণ চাপিয়ে দিয়ে আরও সম্পদশালী হয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছিল। জাতিগত শোষণের এই প্রক্রিয়ার ধারায় পুঁজিবাদী ব্যবস্থা সাম্রাজ্যবাদের চরিত্র অর্জন করেছিল। বিশ্বপুঁজিবাদী ব্যবস্থায় একদিকে জন্ম নিয়েছিল কেন্দ্রস্থিত উন্নত সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্র, এবং অন্যদিকে এই অবস্থার প্রান্তস্থিত অবস্থানে নিক্ষিপ্ত হয়েছিল অসংখ্য রাষ্ট্র। তাদের ওপর জাতিগত শোষণ ঔপনিবেশিক আকার ধারণ করেছিল। সাম্রাজ্যবাদী-ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রগুলো বিশ্বকে নিজেদের সুবিধামতো ভাগ-বাটোয়ারা করে নিয়েছিল। পৃথিবীর আরও অনেক দেশের মতো ভারতবর্ষ এই সাম্রাজ্যবাদী-ঔপনিবেশিক ব্যবস্থায় পরাধীনতার শৃঙ্খলে আটকা পড়ে যায়। পরাধীনতার এই শৃঙ্খল ভাঙার প্রয়াসে ভারতব্যাপী যে সংগ্রাম গড়ে ওঠে, বাঙালি জাতি সেই সংগ্রামের অগ্রভাগে থেকে লড়াই করেছে। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে পরিচালিত সেই সংগ্রাম যথার্থভাবেই ছিল বাঙালির সুদীর্ঘ মুক্তিসংগ্রামেরও একটি বলিষ্ঠ ও গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। সেই পর্বের মুক্তিসংগ্রামে, অর্থাৎ ব্রিটিশ ঔপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে সোভিয়েত ইউনিয়নের সহায়ক ভূমিকা ও অবাদন ছিল গভীর তাৎপর্যবাহী। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ বেনিয়ার কবল থেকে ভারতবর্ষ স্বাধীনতা অর্জন করলেও, সেই ‘স্বাধীনতা’র ভেতর দিয়ে পূর্ব বাংলার মানুষ নতুন করে পরাধীনতার শৃঙ্খলে আটকা পড়ে যায়। ভৌগলিক সংযোগবিহীন পাকিস্তানের সঙ্গে পূর্ব বাংলাকে জুড়ে দিয়ে সাম্প্রদায়িক দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে অবৈজ্ঞানিকভাবে এক কৃত্রিম রাষ্ট্র সৃষ্টি করা হয়। শ্রেণি-শোষণ, জাতিগত শোষণ, বৈষম্য, জুলুম-অত্যাচার-নির্যাতন-নিপীড়ন চাপিয়ে দেওয়া হয় পূর্ব বাংলার মানুষের ওপর। তার বিরুদ্ধে বাঙালি জাতিকে নতুন করে গড়ে তুলতে হয় মুক্তিসংগ্রামের নব অধ্যায়। তাকে সংগঠিত করতে হয় একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধ ছিল বাংলাদেশের মানুষের সুদীর্ঘকালের ও বহুমাত্রিক ধারাবাহিক লড়াইয়ের একটি শীর্ষ অধ্যায়। সাম্প্রদায়িক পাকিস্তান রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্যবাদের প্রতি তীব্র চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এবং পাকিস্তানের সামন্তবাদী-একচেটিয়া পুঁজিবাদী, গণবিরোধী ও প্রতিক্রিয়াশীল ব্যবস্থার বিপরীতে এক ভিন্নতর আদর্শের ভিত্তিতে নতুন রাষ্ট্র বিনির্মাণই ছিল মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য। সে ভিন্নতর আদর্শ ছিল গণতান্ত্রিক ও প্রগতি অভিমুখীন। সব ধরনের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, সামাজিক শোষণ-বৈষম্য-আধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠার ভেতর দিয়ে প্রগতিশীল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করাই ছিল মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণা। সেই ভিত্তিতেই ’৭২-এর সংবিধানে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতাকে রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছিল। বাংলাদেশের মানুষের কাছে সাম্রাজ্যবাদবিরোধিতা আর সমাজতন্ত্রমুখীনতা ছিল দীর্ঘদিনের সংগ্রামের ধারায় গড়ে ওঠা একটি স্বাভাবিক বিষয়। জাতীয় মুক্তির লক্ষ্যে সংগ্রামে বিশ্বের অন্যান্য জাতির ক্ষেত্রেও সমাজতন্ত্র ছিল পরাধীনতা ও শ্রেণি-শোষণ থেকে ‘মুক্তি’ লাভের পথ হিসেবে বিবেচিত। সোভিয়েত ইউনিয়ন ছিল সমাজতন্ত্রের আলোকবর্তিকা। তাছাড়া, একইসাথে সোভিয়েত ইউনিয়ন ছিল সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংগ্রামের সবচেয়ে শক্তিধর ভিত্তি। এ কারণে জাতীয় মুক্তি সংগ্রাম ও শোষণমুক্তির সংগ্রাম হয়ে উঠেছিল সমঅভিমুখীন ও পরস্পর সম্পৃক্ত। তাই, আমাদের একদিকে মুক্তিযুদ্ধের মর্মবাণী ও অপরদিকে সোভিয়েত ইউনিয়নের আদর্শিক অবস্থান–এই উভয়বিধি দিক থেকে বন্ধন সৃষ্টি হওয়ার ঘটনাটি ছিল স্বাভাবিক ও অপরিহার্য। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাবলি তারই সত্যতা প্রমাণ করে। সোভিয়েত ইউনিয়ন যে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মিত্র হয়ে উঠবে–তা ছিল খুবই স্বাভাবিক। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধকালে সেরকমটিই ঘটেছিল। জাতীয় মুক্তি আন্দোলনের অগ্রগতি ও সাফল্যের ক্ষেত্রে সোভিয়েতের অবদান আরও অগণিত প্রত্যক্ষ প্রমাণের সঙ্গে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তার অনন্য সহায়ক ভূমিকা ও অবদান একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। মুক্তির জন্য যে সংগ্রাম, সেই সংগ্রামই হলো ‘মুক্তিসংগ্রাম’। মুক্তিসংগ্রামের ধারায় যে যুদ্ধ তা-ই হলো ‘মুক্তিযুদ্ধ’। মুক্তির সে প্রত্যাশা হতে পারে জাতীয় মুক্তির জন্য এবং হতে পারে তা অর্থনৈতিক-সামাজিক মুক্তির জন্যও। অর্থনৈতিক-সামাজিক মুক্তির সঙ্গে মূলত সমাজতন্ত্র-সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠার প্রশ্নটি সম্পর্কিত। অপরদিকে, জাতীয় মুক্তির বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রসঙ্গটি হলো উপনিবেশবাদী-সাম্রাজ্যবাদী শৃঙ্খল থেকে মুক্তির প্রশ্ন। এ যুগের সব মুক্তিসংগ্রামেই জাতীয় মুক্তির বিষয় ও অর্থনৈতিক-সামাজিক মুক্তির বিষয়–এই দুই বিষয়ের মধ্যে স্বাভাবিক যোগসূত্র গড়ে ওঠে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ মূলত জাতীয় মুক্তির জন্য বাঙালি জাতির ঐতিহাসিক সংগ্রাম হলেও, তাতে প্রবিষ্ট ছিল অর্থনৈতিক-সামাজিক মুক্তির উপাদানও। উভয় বিবেচনা থেকেই বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের সঙ্গে সোভিয়েত ইউনিয়নের সম্পর্ক ছিল নিবিড় ও নির্ভরযোগ্য সহযোগীর। সোভিয়েত ইউনিয়নের অনুপস্থিতির ফলে আজ জাতীয় মুক্তি সংগ্রামের অনেক সাফল্য পুনরায় কেড়ে নেয়া হয়েছে। এক কেন্দ্রীক বিশ্ব, সীমিত সার্বভৌমত্ব, একতরফা আঘাত হানার অধিকার, রেজিম চেইঞ্জের অধিকার ইত্যাদি নীতি প্রয়োগ করে সাম্রাজ্যবাদ, বিশেষত মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ গোটা দুনিয়াতে এক ধরনের ‘পুনঃউপনিবেশিকীকরণের’ প্রক্রিয়া কার্যকর করে চলেছে। জাতীয় মুক্তি আন্দোলনের সাফল্যের ক্ষেত্রে সোভিয়েত ইউনিয়নের মতো নির্ভরযোগ্য বন্ধু শক্তির অনুপস্থিতির সুযোগেই সাম্রাজ্যবাদের পক্ষে এসব করা সম্ভব হচ্ছে। সোভিয়েতের অনুপস্থিতিতে সৃষ্ট পরিস্থিতিই জাতীয় মুক্তি আন্দোলনে সোভিয়েতের ভূমিকা ও অবদানের মূল্যকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। জাতীয় মুক্তি আন্দোলনের সেনানীরা তাই ইউনিয়নের অবদানের কথা ভুলবে না, ভুলতে পারবে না।