কনস্যুলেটে অনুপ্রবেশ যুক্তরাষ্ট্রের

Posted: 08 অক্টোবর, 2017

একতা বিদেশ ডেস্ক : সানফ্রান্সিসকোতে রাশিয়ার কূটনীতিকদের ছেড়ে যাওয়া কন্স্যুলেটের বিভিন্ন বাসায় যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা ‘অনুপ্রবেশ’ করেছেন অভিযোগ তুলে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছে মস্কো। দুই দেশের কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে গত মাসে ওই কন্স্যুলেটসহ রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা বেশ কয়েকটি স্থাপনা খালি করে ফেলার নির্দেশ দেয় ওয়াশিংটন। এরপর থেকেই কন্স্যুলেট কম্পাউন্ডের প্রশাসনিক অংশটি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তাকর্মীদের দখলে ছিল। কন্স্যুলেটের যে আবাসিক অংশ ছেড়ে যাওয়া কর্মকর্তারা বন্ধ করে রেখেছিলেন ২ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা সেখানে ‘অনুপ্রবেশ’ করেন বলে অভিযোগ রাশিয়ার। “আমাদের সতর্কতা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা কথা শুনেননি এবং তাদের বেআইনী ইচ্ছা চরিতার্থের সুযোগ ছাড়েন নি। প্রতিক্রিয়া দেখানোর অধিকার আমরা রাখি। পারস্পরিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার নীতি সবসময়ই সম্পর্কগুলোর ভিত্তি,’ এক বিবৃতিতে বলেছে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ধারাবাহিকভাবে প্রচারিত বিভিন্ন ফুটেজের সঙ্গে সংবাদপাঠকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা কম্পাউন্ডের বন্ধ করা অংশের তালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করেছেন। ‘অনুপ্রবেশকারীরা’ কনসাল জেনারেলের বাসভবনসহ পুরো আবাসিক এলাকার দখল নিয়েছে বলেও অভিযোগ রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের। “কূটনৈতিক ভবনে অনুপ্রবেশের মাধ্যমে আমেরিকানরা আমাদেরকেও তাদের সঙ্গে একই ধরনের আচরণের অনুমতি দিয়েছে,” বলা হয় বিবৃতিতে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, রাশিয়ার কর্মকর্তারা পহেলা অক্টোবর সময়সীমার মধ্যে কন্স্যুলেট ছেড়েছেন কি না তা নিশ্চিত হতে আবাসিক অংশের চারপাশ ঘুরে দেখেছে মার্কিন কর্মকর্তারা। রাশিয়ার কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা অফিসের মতো দেখতে জায়গাগুলোতে বসবাস করতেন এটা জানার পর যুক্তরাষ্ট্র ‘দয়া পরবশ হয়ে’ কন্স্যুলেট ছাড়তে বেশি সময় দেয় বলেও মন্তব্য করেন মুখপাত্র হিদার নয়ের্ত।“আমরা যখন জানতে পারি, তখন তাদের গোছগাছ করতে ও ছেড়ে যেতে অতিরিক্ত সময় দিই; এ কারণেই অ্যাপার্টমেন্টগুলো ছাড়ার সময়সীমা আমরা ১ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়াই, সেই সময়ও শেষ হয়েছে,” বলেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা কোনো তালা ভাঙেনি বলেও মন্তব্য করেন হিদার; এই ঘটনায় এফবিআইয়ের সংশ্লিষ্টতা নেই বলেও দাবি তার। “কূটনীতিকদের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত বিদেশি মিশন দপ্তরের কর্মকর্তারা ছিলেন। তারা ওই এলাকার আশপাশটা ঘুরে দেখেছেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল, ওইখানে যে কেউ নেই তা নিশ্চিত হওয়া,” বলেন নয়ের্ত। প্রতিবেদক সানফ্রান্সিসকোর রাশিয়ান কন্স্যুলেট ভবনে গিয়ে কূটনীতিকদের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক রক্ষীকে দেখেছেন। ওই নিরাপত্তা রক্ষীকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। প্যাসিফিক হাইটস এলাকার ছয়তলা ওই ভবনের চারপাশে সাধারণ মানের নিরাপত্তা বেড়া দেখা গেছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। কন্স্যুলেটের প্রধান ফটকে টাঙানো একটি নোটিশে এটি যে বন্ধ তার উল্লেখ করে যোগাযোগের জন্য নতুন ঠিকানা দেওয়া হয়েছে।