যে রাষ্ট্র নিজের সংস্কৃতির শিকড় দমন করে, সেই রাষ্ট্রের ভাঙন অনিবার্য
Posted: 30 নভেম্বর, 2025
একতা প্রতিবেদক :
যে রাষ্ট্র নিজের সংস্কৃতির দুর্গম শিকড় বাউল-কে দমন করে, সেই রাষ্ট্রের ভাঙন আসলে অনিবার্যই হয়ে ওঠে। পনেরো মাস সময়ের হিসেবে খুব বেশি নয়, তবু এ অল্পসময়ের ভেতরেই এক জনপদের অন্তর্লীন দ্বন্দ্ব যেন নতুন রূপ ধারণ করেছে। এই সময়ের পরতে পরতে আমরা দেখেছি- ইউনূসের শাসনে ইসলামোফ্যাসিস্ট শক্তির উত্থান কীভাবে অন্ধকারের মতো ঘন হতে থাকে, আর মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের দীর্ঘ ছায়া কীভাবে বাংলাদেশের আকাশে আরও প্রবল হয়ে ওঠে। আজ বাংলাদেশের মুখ্য সংকট- সাম্রাজ্যবাদ ও ধর্মান্ধ শক্তির সঙ্গে এ দেশের মানুষের টিকে থাকার সংগ্রাম।
বাউলশিল্পী আবুল সরকারকে গ্রেফতার ও মানিকগঞ্জে বাউলশিল্পী ও অনুসারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ক শিক্ষক নিয়োগ বাতিলের প্রতিবাদে গত ২৫ নভেম্বর বিকেল ৪টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের সমাবেশে বক্তারা একথা বলেন।
জোটের সভাপতি মুফিজুর রহমান লালটুর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, প্রগতি লেখক সংঘের কোষাধ্যক্ষ দীনবন্ধু দাশ, মওলানা ভাসানী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ডা. হারুনুর রশীদ, বাংলাদেশ থিয়েটারের দল প্রধান খন্দকার শাহ আলম, সমাজচিন্তা ফোরামের আহ্বায়ক কামাল হোসেন বাদল, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সুস্মিতা রায় সুপ্তি, বাউল শিল্পী দেলোয়ার বয়াতী, যাত্রাশিল্পী পরিষদের সভাপতি বেলায়েত হোসেন, স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করেন কবি হাসান ফকরি। সমাবেশ পরিচালনা করেন সমাজ অনুশীলন কেন্দ্রের সংগঠক বিমল কান্তি দাশ।
বক্তারা অবিলম্বে বাউল আবুল হোসেনের মুক্তি দাবি করে বলেন, ‘ইউনূস-যুগে শতাধিক মাজার ধ্বংস হয়েছে, রাষ্ট্র নির্বিকার থেকেছে। সংখ্যালঘু জীবনের ওপর আঘাত নেমেছে বারবার। আমরা ভুলে যাইনি শেখ হাসিনার আমলের নাসিরনগর কিংবা রামুর দগদগে ক্ষত। ভুলে যাইনি ২০১১ সালে রাজবাড়িতে বাউল-সাধকদের আখড়ায় সংঘটিত সেই অমানবিক বর্বরতার স্মৃতি। ভুলে যাইনি বাউল রীতা দেওয়ান ও শরিয়ত সরকারের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করে কারারুদ্ধ করার কথা। তখনও আমরা রাস্তায় দাঁড়িয়েছিলাম, দাঁড়িয়েছি আজও আবুল সরকারের মুক্তির দাবিতে, মৌলবাদী বিদ্বেষের বিরুদ্ধে, সাংস্কৃতিক অস্তিত্বের পক্ষে।’
আমরা বহুবার উচ্চারণ করেছি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পথ যখন সংকুচিত হয়ে পড়ে, তখন জনতার সঞ্চিত বেদনা কোনো না কোনো অনিবার্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। আজও বলছি বাংলাদেশ হয়তো আবারও এক পরবর্তী গণঅভ্যুত্থানের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে; যেসব শক্তি মানবিক ইতিহাসের বিপরীত স্রোত বহন করে, তাদের বিরুদ্ধে এ হবে মানুষের জাগ্রত প্রতিরোধ।