পিরোজপুরে ভাঙা বেড়িবাঁধ নিয়ে আতঙ্কে ২০ হাজার মানুষ
Posted: 06 জুলাই, 2025
পিরোজপুর সংবাদদাতা :
পিরোজপুর সদর উপজেলার কলাখালি ইউনিয়নের কৈবর্তখালি গ্রামের মো. শিমুল শেখ। স্ত্রী সালমা আক্তার ও দুই সন্তান নিয়ে কঁচা নদীর ভাঙা বেড়িবাঁধের পাড়ে কাঁচা মাটির ছোট একটি ঘরে তার বসবাস। তাদের ঘরটি ভাঙা বেরিবাধের পাড়েই হওয়ায় বর্ষা মৌসুম এলেই সারাক্ষণ দুশ্চিন্তায় থাকতে হয় কখন নদী গর্ভে বিলীন হবে তাদের ঘরটি। এসব কথা চিন্তা করলেই মুখ মলিন হয়ে যায় তার। শুধু শিমুল শেখ নয় পিরোজপুরে নদী তীরের ২০ হাজার মানুষের দুশ্চিন্তা এমনই।
গত ১৮ জুন কথা হয় শিমুল শেখের সাথে তিনি বলেন, বর্ষা এলেই আমাদের বেড়িবাঁধটি ভাঙা শুরু হয়। ভাঙতে ভাঙতে এখন প্রায় শেষ হয়ে গেছে। নদীভাঙনে এখন সবসময় ভিটেমাটিসহ জমিজমা হারানোর ভয়ে থাকি। বেড়িবাঁধটি আবার পুননির্মাণ করার দাবি আমাদের।
পিরোজপুরের সাতটি উপজেলার প্রায় সবগুলোই নদীবেষ্টিত। তাই নদী তীরবর্তী বাসিন্দার সংখ্যাও এখানে অনেক বেশি। কিন্তু নদী তীরবর্তী অধিকাংশ এলাকায় বেড়ি বাঁধ না থাকা ও ভাঙা থাকার কারণে হুমকির মুখে রয়েছে ওই সব এলাকার বাসিন্দারা। পিরোজপুরের কঁচা নদীর পাড় প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে ভাঙনের কবলে পড়ায় এ নদী তীরের অন্তত চারটি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ চরম আতঙ্কে দিন কাটান। ভাঙনের মাত্রা দিন দিন বাড়তে থাকায় সংকুচিত হয়ে আসছে এখানকার ভৌগলিক পরিধিও। বর্তমানে গুয়াবাড়ি, বানেশ্বরপুর, দেওনাখালী, কৈবর্তখালী ও কুমিরমাড়া এলাকায় ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। তাছাড়া কঁচা নদীর প্রবল স্রোতের কারণে হুমকির মুখে পড়েছে কুমিরমাড়া গ্রাম থেকে শুরু করে হুলারহাট বন্দর পর্যন্ত এলাকা।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার কলাখালী ইউনিয়নের কৈবর্ত খালি ডাক্তার বাড়ি এলাকার ১১ কিলোমিটার ও পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানী টগড়া ফেরিঘাট থেকে হুলারহাট পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ গুরুত্বপূর্ণ বেড়িবাঁধ রয়েছে। পিরোজপুর সদর উপজেলায় মোট ৫৬ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে, যার মধ্যে হুলারহাট অংশেই প্রায় ৫ কিলোমিটার অংশ বর্তমানে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। বেড়িবাঁধটি আশির দশকে নির্মাণ করার পরে এখন পর্যন্ত তেমন কোনো সংস্কার করা হয়নি। ২০০৭ সালের সিডর ও পরবর্তী আইলার প্রভাবে বেড়িবাঁধটি প্রচণ্ড ক্ষতি হয়। সর্বশেষ ঘুর্ণিঝড় রেমালও বেড়িবাঁধটির ক্ষতি করেছে।