‘ভাই, মাইরালান, তাও রিকশা লইয়েন না’
Posted: 18 মে, 2025
একতা প্রতিবেদক :
ব্যাটারিচালিত রিকশার বিরুদ্ধে কড়া অ্যাকশন শুরু করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি। মূল সড়কে পেলেই গুঁড়িয়ে দিয়ে ডাম্পিং করা হচ্ছে সেগুলো। কান্নাকাটি করেও ছাড় পাচ্ছেন না ব্যাটারিচালিত রিকশার চালকরা।
গত ১৩ মে বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডি-২৭ থেকে আসাদগেট পর্যন্ত এলাকায় ব্যাটারিচালিত অবৈধ রিকশা চলাচল বন্ধে পরিচালিত অভিযান চলাকালে এমন কিছু দৃশ্য চোখে পড়ে।
তেমনই একটি দৃশ্যে ব্যাটারি চালিত এক রিকশাচালককে অনুনয় বিনয় করে বলতে শোনা যায়, ‘ভাই, ও ভাই, ভাই, মাইরালান, তাও রিকশা লইয়েন না। আল্লাহ গো, আল্লাহ আমি খামু কী? ভাই আমরা রিকশাটা ছেড়ে দেন। আমি মেইন রোডে আহি না। দয়া করে আমার রিকশা নিয়েন না। রিকশা লইয়া গেলে করমু কী? বাড়িতে আমার চারজন মানুষ। ভাত না খাইয়া মইরা যামু।’
এভাবে বলতে বলতে মাটিয়ে লুটিয়ে পড়েন ওই রিকশাচালক। তিনি বলেন, ‘মাত্র ২ মাস হয়েছে নতুন রিকশা নিয়েছি। এটা নিয়ে গেলে বউ-বাচ্চাদের খাওয়াবো কী? আমাদের পেটে এভাবে লাথি মারবেন না। নতুন রিকশা বা কাজ দিয়ে এটা নিয়ে নেন। কিন্তু এভাবে আমাদের ওপর জুলুম করবেন না। রিকশা না থাকলে আমরা মরে যাবো।’
সরেজমিনে দেখা য়ায়, মঙ্গলবার বিকেলে ধানমন্ডি-২৭ মোড় থেকে আসাদগেট পর্যন্ত ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধ অভিযানের নেতৃত্ব দেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ। এসময় প্রায় শতাধিক রিকশা জব্দ করে ডাম্পিং করা হয়।
অভিযানে ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ বলেন, ‘এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ২০ শতাংশ দুর্ঘটনা এই ব্যাটারিচালিত রিকশার কারণে হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন শহরের নারী ও শিশুরা। এগুলো কোনো নীতিমালা বা যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়নি। প্রায়ই দেখা যায় পথচারীদের ওপর উঠে যাচ্ছে। অনিয়ন্ত্রিত গতির কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।’
তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ও সড়কে গণপরিবহন চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকার ব্যবস্থা নিয়েছে।
এদিকে ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকদের দাবি, তাদের জন্য একটা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে এটি নিষিদ্ধ করতে হবে। রিকশার উপার্জন দিয়ে তাদের সংসার চলে। ফলে এমন হুট করে সিদ্ধান্ত দিলে তাদের না খেয়ে থাকতে হবে। নতুন যে রিকশা রাস্তায় চলাচলের অনুমতি পাবে, সেটা দিয়ে বর্তমান রিকশা পরিবর্তন করে নিলে ভালো হয়।
নাসির মিয়া নামে এক রিকশাচালক বলেন, বললেই হবে! আমরা রিকশা না চালালে খাবো কী? দীর্ঘদিন ধরে রিকশা চালিয়ে সংসার চালাই। আমাদের নতুন কাজ দিলে এটা বাদ দিতে পারবো।
সাইদুল ইসলাম নামে আরেক রিকশাচালক বলেন, আমরা অসহায়। কষ্টের টাকা দিয়ে রিকশা কিনেছি। এভাবে আমাদের রিকশা ভেঙে দিলে আমরা মরে যাবো। আমাদের জন্য বিকল্প কোনো কাজ বা গাড়ি চালানোর ব্যবস্থা করলে ভালো হয়।
তবে ক্ষতিগ্রস্ত তিন রিকশাচালককে ডিএনসিসি অনুদান প্রদান করে চাকরির আশ্বাস দেন বলে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা যায়।