সংবিধান পুনর্লিখন ও চার মূলনীতি পরিবর্তনের বিপক্ষে সিপিবি

Posted: 18 মে, 2025

একতা প্রতিবেদক : জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১৩ মে সকালে জাতীয় সংসদের এলডি হলে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সিপিবি নেতারা সংবিধানের চার মূলনীতি পরিবর্তনের বিপক্ষে অবস্থান তুলে ধরেন এবং একাত্তরের জায়গায় চব্বিশকে প্রতিস্থাপন করা যাবে না বলে মন্তব্য করেন। এছাড়াও, বড় ধরনের সংস্কারে হাত না দিয়ে দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করার দাবি করে দলটি। সকাল ১০টার দিকে এলডি হলে প্রবেশ করেন ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ ও অন্য সদস্যরা। সদস্যরা হলেন বদিউল আলম মজুমদার ও ইফতেখারুজ্জামান। সকাল ১০টা ৫ মিনিটের দিকে প্রবেশ করেন সিপিবির নেতারা। দলটির ১১ সদস্যের প্রতিনিধিদলে ছিলেন সিপিবির সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম, সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, সহকারী সাধারণ সম্পাদক মিহির ঘোষ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অধ্যাপক এ এন রাশেদা, কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, অনিরুদ্ধ দাশ অঞ্জন, কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক কাজী রুহুল আমিন, রাগিব আহসান মুন্না, সাজেদুল হক রুবেল, আবিদ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ফজলুর রহমান। বৈঠকে শুরুতে সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, আমরা বারবার বলে এসেছি যে অন্তর্বর্তী সরকার রুটিন কাজের বাইরে যদি অনেক বড় কাজে হাত দিয়ে দেয়, তাহলে তার জন্য কঠিন হয়ে যাবে। এই কঠিন কাজ করতে গিয়ে অনেক সময় এমন কতগুলো বিতর্কের সম্মুখীন হতে পারে তার যে ন্যূনতম, অন্যতম যে কাজ একটি সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়া, সেটি সংকটে পড়তে পারে। তিনি সুস্ঠ, গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কারকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, আন্দোলনে অনেকগুলো অনৈক্যের ধারা তৈরি হয়েছে। তিনি মনে করেন, এর ফলে ঐকমত্য কঠিন হবে। রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, আমরা দেখলাম শুরুতেই আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে কাউন্টার অ্যাপ্রোচ করে এমন কতগুলো কথা তৈরি করা হলো যেন তাকে রিপ্লেস করে ’৪৭-এর ধারাবাহিকতায় ’২৪। এ ধরনের বিতর্কগুলো বন্ধ করে ঐকমত্যে পৌঁছানোর আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি আচরণবিধি করার প্রস্তাব করেন রুহিন হোসেন প্রিন্স। তিনি বলেন, যদি ঐকমত্যের বড় সনদ না-ও করতে পারি, কিন্তু যদি ঐকমত্য হয়ে কোনো একটা আচরণবিধিও করতে পারি এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষ করে আমরা যদি নির্বাচন করতে পারি...। প্রয়োজনীয় সংস্কার বলতে বোঝাচ্ছি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য যা যা প্রয়োজন সেসব। তাহলেও আমরা মনে করি একধাপ অগ্রগতি হব। ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে বিফ্রিং করেন সিপিবি নেতারা। এসময় সিপিবির সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের ফোর প্রিন্সিপাল (সংবিধানের চার মূলনীতি) যেটা আছে, তারা (ঐকমত্য কমিশন) সেটা রাখেনি। ওই জায়গাতে আমরা দ্বিমত করেছি। এককথায় সংবিধান পুর্নর্লিখনের আমরা বিরুদ্ধে। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে মুক্তিযুদ্ধ, বাহাত্তরের সংবিধানকে বাতিল করতে হবে এমন কোনো বিষয় ছিল না। এগুলো পরে নিয়ে আসা হয়েছে; নানা বিতর্কের সৃষ্টি করা হয়েছে। তিনি বলেন, সেই বিতর্কে না যেতে বলেছি। এটা করলে ঐকমত্য কমিশন বিতর্কের মধ্যে পড়ে যাবে। সিপিবি মৌলিক সংস্কারের পক্ষে জানিয়ে সিপিবির সভাপতি বলেন, রাষ্ট্রকে সাতচল্লিশে ফেরত নিয়ে যাওয়ার জন্য সংবিধান সংস্কারের যে কথাগুলো আসছে, সেসব বিষয়ের ঘোরতর বিরোধী সিপিবি। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে চলা ওই বৈঠকে সংবিধান, নির্বাচন কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স। তিনি জানান, বেশ কিছু বিষয়ে ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন তাঁরা। তবে কেউ দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী না থাকা, নারী আসন বৃদ্ধি ও সরাসরি নির্বাচন, সংসদীয় গণতন্ত্র শক্তিশালী করার বিষয়গুলোতে ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে সিপিবি একমত পোষণ করেছে বলে জানান তিনি। সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, সংবিধানে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর জাতিসত্তার স্বীকৃতি প্রদান, জীবন ধারণের মৌলিক উপকরণের নিশ্চয়তা প্রদানকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে এর দায়িত্ব রাষ্ট্রের নেওয়া এবং নির্বাচনে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা প্রবর্তন করার প্রস্তাব করেছে সিপিবি। রুহিন হোসেন প্রিন্স আরও বলেন, আগামীতে নির্বাচনটাই যেহেতু আমাদের সামনে মূল বিষয়, এমন কোনো বিতর্কিত বিষয় সামনে আনা উচিত হবে না, যেটা নির্বাচনকে বিলম্বিত করবে। সুতরাং যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার করে আমরা নির্বাচনের জায়গায় যেতে চাই।