অক্টোবর সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব পটভূমি ও তাৎপর্য

Posted: 26 ফেব্রুয়ারী, 2017

শহীদুল্লা কায়সার : [দুনিয়া কাঁপানো রুশ সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের শতবর্ষ এ বছর। রুশ সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের শতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সাপ্তাহিক একতা ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন রচনা, দলিল প্রকাশ করবে। এই সংখ্যায় রুশ বিপ্লবের পঞ্চাশতম বার্ষিকী উপলক্ষে ১৯৬৭ সালে প্রকাশিত ‘তরঙ্গ’ পত্রিকায় শহীদুল্লা কায়সারের ‘অক্টোবর সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব ঃ পটভূমি ও তাৎপর্য’ লেখাটির প্রথম অংশ ছাপানো হলো।] মানব সভ্যতার আদিকাল থেকে এই পৃথিবী প্রত্যক্ষ করেছে একাধিক বিপ্লব। কিন্তু অন্যান্য বিপ্লবের সাথে ১৯১৭ সালে রুশ দেশে সংঘটিত অক্টোবর বিপ্লবের রয়েছে একটা মৌলিক পার্থক্য। এর আগের বিপ্লবগুলো এক শ্রেণির শোষণের স্থলে আর এক শ্রেণির শোষণ কায়েম করেছে, শ্রেণি ও শোষণভিত্তিক সমাজের কাঠামো অটুট রেখেছে। দৃষ্টান্ত হিসেবে ১৭৮৯ সালের ফরাসী বিপ্লবের কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। ‘সাম্য-মৈত্রী-স্বাধীনতার’ পতাকাতলে অনুষ্ঠিত এই বিপ্লব ছিল বুর্জোয়া বিপ্লব। রাজতন্ত্র ও সামন্ততন্ত্রের অবসান করে এই বিপ্লব এনেছিল বুর্জোয়া গণতন্ত্র, সামন্ততান্ত্রিক শোষণের বদলে প্রতিষ্ঠিত করেছিল পুঁজিবাদী শোষণ। অক্টোবর সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবই বিশ্বের ইতিহাসে প্রথম বিপ্লব যা শ্রেণিহীন সমাজ গঠনের লক্ষ্যকে সামনে রেখে সর্বপ্রকার শ্রেণি শোষণের অবসান ঘটালো। আর একটি বৈশিষ্ট্যেও অক্টোবর সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব অনন্য। সে হল এর আন্তর্জাতিকতা। ‘বিশ্বের শ্রমজীবী মানুষ এক হও’ এই পতাকার নীচেই অক্টোবর সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব অনুষ্ঠিত হয় এবং পত্তন হয় পৃথিবীর প্রথম শ্রমজীবী মানুষের রাষ্ট্র। সমাজতান্ত্রিক আদর্শের তত্ত্ব ও দর্শনের মধ্যেই যেমন এই আন্তর্জাতিক চেতনা নিহিত ছিল, তেমনি সফল বিপ্লবের অগ্নিপরীক্ষার ভেতর দিয়ে যাচাই হয়েছে সেই চেতনা। সর্বহারা শ্রেণির এই আন্তর্জাতিক চেতনা থেকেই উত্থিত হয়েছিল ব্রিটিশ শ্রমিকশ্রেণির প্রতিবাদ–যখন সোভিয়েত বিপ্লব দমনের জন্য ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক প্রেরিত অস্ত্রশস্ত্র জাহাজে তুলতে তারা অস্বীকার করেছিল, ধর্মঘট করে সেদিনের ইংল্যান্ডের সমস্ত বন্দরগুলো অচল করে দিয়েছিল। ওই চেতনারই অভিব্যক্তি ঘটেছিল যখন বিপ্লব দমনের উদ্দেশ্যে ফরাসী সরকার কর্তৃক প্রেরিত যুদ্ধ জাহাজের ফরাসী নাবিকরা বিদ্রোহের পতাকা উড়িয়ে যোগ দিয়েছিল রুশ বিপ্লবীদের সাথে। এমনি আরও ভুরি ভুরি দৃষ্টান্ত দেয়া যায় যা থেকে আমরা জানতে পারি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের শ্রমজীবী মানুষ এই বিপ্লবকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সাহায্য করেছে এবং এর সাফল্যকে সুনিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে যে রুশ শ্রমিকশ্রেণির নেতৃত্বে পরিচালিত হয়েছিল এই বিপ্লব, সর্বহারা আন্তর্জাকিতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তারা স্থাপন করল বাস্তব কাজে। অভ্যূত্থানের মুখে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে বিপ্লবী সরকার যে ঘোষণাটি সর্বপ্রথম প্রচার করেন, সে হল শান্তির ঘোষণা (উবপৎবব ড়হ চবধপব)। এই ঘোষণা বলা হল : রুশ-জার্মান যুদ্ধে রুশ জনগণের কোন স্বার্থ নেই, যেমন স্বার্থ নেই জনগণের। রুশ শ্রমিকশ্রেণি কখনও জার্মান জনগণকে শত্রু মনে করে না- অতএব সোভিয়েত সরকার যুদ্ধ বিরতি ঘোষণা করছে এবং অবিলম্বে শান্তিচুক্তি সম্পাদনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে। বিপ্লবের দুদিন পর ৯ নভেম্বর লেনিন ঘোষণা করলেন- ‘যুদ্ধ হল মানবজাতির বিরুদ্ধে জঘন্যতম অপরাধ’। এই শান্তির ঘোষণাটি সর্বহারার আন্তর্জাতিকতা এবং নবীন সোভিয়েতের শান্তিপূর্ণ সহ-অবস্থান নীতির একটি উৎকৃষ্ট দলিলরূপে ইতিহাসে স্থান পেয়েছে। বিপ্লবী সরকার প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সঙ্গে রুশ শ্রমিকশ্রেণি সর্বহারা আন্তর্জাতিকতার যে দ্বিতীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করল, তা ছিল মানুষের ইতিহাসে অচিন্তনীয়। প্রাক্তন জার সম্রাট বলপূর্বক অন্য দেশের যে সমস্ত অঞ্চল রুশ সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করেছিল, নতুন সোভিয়েত সরকার সেগুলো সেই সমস্ত দেশকে ফিরিয়ে দিল। এভাবে ইরান ও চীন ফিরে পেল তার রাজ্য। সঙ্গে সঙ্গে সোভিয়েত সরকার ঘোষণা করলেন বিচ্ছিন্ন হবার অধিকারসহ জাতিসমূহের পূর্ণ আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার। এই অধিকার বলে ফিনল্যান্ড সোভিয়েত প্রজাতন্ত্র থেকে বিচ্ছিন্ন হল এবং স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে নিজেদের পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করল। মঙ্গোলীয় পেল পূর্ণ স্বাধীনতা। পোল্যান্ডের উপর রুশ প্রাধান্যের অবসান ঘটল। আর সেই সঙ্গে প্রাক্তন জার বিভিন্ন রাষ্ট্রের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে যে সমস্ত অসম চুক্তি করেছিল এক ঘোষণাবলে সোভিয়েত সরকার সেই সমস্ত চুক্তি বাতিল করে দিলেন। মানবজাতির ইতিহাসে অচিন্তনীয় ও অকল্পনীয় এই কাজগুলো সমাধান করে প্রথম সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব বিশ্বের সম্মুখে এটাই প্রমাণ করলো যে, এরা যা বলে তা করে, এরা যে নীতিতে বিশ্বাসী সেই নীতিকে বাস্তবে কার্যকরী করে। সেই নীতি হল সর্বপ্রকার শ্রেণি, বর্ণ ও জাতিগত বৈষম্য এবং পীড়ন থেকে মানবজাতিকে মুক্ত করা। এইভাবেই অক্টোবর সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব শুধু সোভিয়েত ভূমিতে নয়, সমগ্র মানবজাতির সম্মুখেই খুলে দিয়েছিল উজ্জ্বল এক ভবিষ্যতের দুয়ার–মুক্ত করেছিল নতুন দিগন্ত। সেই দিগন্তকে সম্মুখে রেখে সোভিয়েত ভূমিতে গড়ে উঠেছে নতুন এক সভ্যতা, অর্জিত হয়েছে বিস্ময়কর সাফল্য জ্ঞানে-বিজ্ঞানে, সম্পদ সৃষ্টিতে ও বণ্টনে, উচ্চতর সংস্কৃতির বিকাশে। অক্টোবর সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব পঞ্চাশ বছরে পদার্পণ করলো। এই অর্ধ শতাব্দীতে মানব ইতিহাসে এসেছে গুণগত পরিবর্তন। অক্টোবর সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাবেই এই গুণগত পরিবর্তন সাধিত হয়েছে এবং হচ্ছে। এই পরিবর্তনগুলোকে বুঝাবার এবং বিশ্লেষণ করবার আগে জানা এবং উপলব্ধি করা প্রয়োজন, কী কী ঐতিহাসিক শক্তি অনিবার্য্য ধারায় কাজ করেছিল অক্টোবর সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের সাফল্যের পশ্চাতে, কোন ঐতিহাসিক বির্বতন ও পরিবর্তনের ধারা পরিণতি লাভ করেছিল পৃথিবীর প্রথম সাফল্যজনক সর্বহারা বিপ্লবে। সমাজতন্ত্র-কল্পনা থেকে বিজ্ঞান উনবিংশ শতাব্দীতে কার্ল মার্ক্স ও ফ্রেডারিক এঙ্গেলসের হাতে সমাজতন্ত্র একটি বৈজ্ঞানিক সমাজব্যবস্থা ও জীবন দর্শশ হিসেবে জন্ম নেয়ার বছর পূর্বেই মানুষের কল্পনার জগতে সমাজতন্ত্র জন্ম নিয়েছিল। কোনো মানুষ যেমন স্বয়ম্ভু নয়, তেমনি মানুষের কোনো চিন্তাও স্বয়ং উত্থিত নয়। এ কথাটা মানুষের কল্পনার ক্ষেত্রেও অন্ততঃ আংশিকভাবে প্রযোজ্য। যখন থেকে চিন্তাশক্তির অধিকারী হল মানুষ, তখন থেকেই সে স্বপ্ন দেখে, কল্পনা করে। এর মাঝে রয়েছে অনেক উদ্ভট কল্পনা, যে কল্পনাকে কোন কোন ক্ষেত্রে তারা অক্ষরে, কোন কোন ক্ষেত্রে মাটি বা পাথরের বিচিত্র অবয়বে রূপ দিয়ে গেছে। এই ধরনের উদ্ভট কল্পনাকে বাদ দিলে সাধারণভাবে দেখা যায় মানুষ যা দেখে, শোনে এবং যা তার অভিজ্ঞতার মধ্যে আয়ত্ব, তার দ্বারা তার চিন্তা, স্বপ্ন এমনকি কল্পনাও বহুলাংশে নিয়ন্ত্রিত। পাখিকে উড়তে দেখে যে মানুষের মনে উড়বার স্বপ্ন জন্ম নিয়েছিল সেই মানুষ অবিচার, অনাচার ও কুসংস্কার জর্জরিত সমাজের বীভৎস চেহারা দেখে তার বদলে যুক্তিনির্ভর ন্যায়ভিত্তিক সমাজের স্বপ্ন দেখবে এটা খুবই স্বাভাবিক। এই ধরনের ‘আদর্শ সমাজের’ স্বপ্ন মানুষের একটি প্রাচীন স্বপ্ন। জীবনের সর্বস্তরে সাম্য এবং সর্বপ্রকার শ্রেণিবৈষম্যের বিলোপ এই স্বপ্ন থেকেই আসে। এই ধরনের সাম্যের চিন্তার প্রাথমিক বিকাশে একটা স্পার্টান ধারণা, জীবনের সর্বক্ষেত্রে কঠোর সংযম, লোভ, লালসা ও বিলাসিতা বর্জিত জীবনের ধারণার সাথেই আমাদের পরিচয় হয়। ষোড়শ শতাব্দীতে আমরা সাক্ষাৎ পাই প্রথম কাল্পনিক সমাজতন্ত্রী টমাস মুরের। তারপর আমরা দেখি জার্মান কৃষি বিদ্রোহের সময় আনাবাপটিস্টদের, ইংল্যান্ডের বিপ্লবে লেভেলার্সদের এবং সর্বোপরি ফরাসী বিপ্লবে বাবুফকে। বুর্জোয়া অভ্যূদয়ের সুবর্ণ মুহূর্তেই এরা সামাজিক সাম্যের দাবি ঘোষণা করেছিলেন। এরপর আমরা সাক্ষাৎ পাই তিনজন নামজাদা কাল্পনিক সমাজতন্ত্রীর। এঁরা হলেন, সেইন্ট সাইমন, ফুরিয়ার এবং রবার্ট আওয়েন। এই তিনজন স্বাপ্নিকের কর্ম শুরুর সময়টা বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়। রবার্ট আওয়েন তাঁর নিজের কাপড়ের কলে আদর্শ মিল এবং আদর্শ শ্রমিক কলোনি গঠনের পরীক্ষা শুরু করলেন ১৮০০ সালের পয়লা জানুয়ারি। সেইন্ট সাইমনের রচনা শুরু হয় ১৮০২ সালে আর ফুরিয়ারের রচনা প্রকাশিত ১৮০৮ সালে। যদিও এই রচনার শুরু ১৭৯৯ সাল। সাম্য-মৈত্রী-স্বাধীনতার গর্বিত পতাকা উড়ছে ফরাসী রাজতন্ত্রের ভগ্নস্তূপের উপর। কিন্তু এই পতাকার নীচে বুর্জোয়ার সম্পত্তিলোলুপ এবং কপট চেহারাটাও প্রকাশ হয়ে পড়েছে। মহৎ হৃদয়ের অধিকারী সেইন্ট সাইমন এই অবস্থায় বেদনা অনুভব না করে পারেননি। তিনি নিজেও ফরাসী বিপ্লবেরই সন্তান। তিনি চোখের সামনেই দেখলেন বিপ্লবের মহান বাণীগুলো একে একে পদদলিত হচ্ছে। তাই সর্বমানবের জন্য সত্য, প্রেম, যুক্তি, ন্যায় ও ভ্রাতৃত্বের সমাজের কথা তিনি চিন্তা করলেন, লিখলেন এবং বললেন। এটাই তাঁর সমাজতন্ত্র। এর পাশাপাশি বুর্জোয়া সমাজের তীব্র সমালোচক হিসেবে বেরিয়ে এলেন ফুরিয়ার। সফল বিপ্লবের মাধ্যমে ফিউডাল সামাজিক সম্পর্ক ছিন্নভিন্ন করে নতুন বুর্জোয়া সম্পর্কে সত্যিকার নারীমুক্তি যে এলো না, এলো নতুন ধরনের দাসত্ব এবং নৈরাজ্য সেটা লক্ষ্য করে ফুরিয়ারই প্রথম এ কথাটা বললেন, ‘একটা সমাজ কতটা মুক্ত তা বিচারের সহজ মাপকাঠি হল সেই সমাজে নারীকুল কী পরিমাণ মুক্ত।’ অবাস্তব সমাজতন্ত্রের ক্ষেত্রে এদের তুলনায় আওয়েন আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি লানার্কে সত্যি সত্যি আদর্শ শ্রমিক কলোনি গড়ে তুললেন, কিন্তু তা পারিপার্শ্বিকের চাপে স্থায়ী হতে পারল না। অতঃপর তিনি তাঁর ‘স্বর্গীয় ভূমি’ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে চলে গেলেন সুদূর আমেরিকায় এবং তার সমস্ত অর্থ ও সম্পত্তি তাতে ব্যয় করলেন। সেই পরীক্ষাও স্থায়ী হতে পারেনি। এই তিন মহৎপ্রাণ কাল্পনিক সমাজতন্ত্রী ব্যর্থ হয়েছিলেন এই কারণে নয় যে তাঁদের নিষ্ঠা বা প্রচেষ্টার অভাব ছিল। তারা ব্যর্থ হয়েছিলেন এই কারণে যে তাঁরা জানতেন না অথবা জানতে চাননি যে, সমাজের রয়েছে কার্যকারকীয় বিকাশের নিয়ম, সমাজ কোনো কল্পনাপ্রসূত চিন্তা (সেই চিন্তা যতই মহৎ ও সুন্দর হউক না কেন) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতে পারে না। সমাজের অনিবার্য বিকাশ নিয়ে পুঁজিবাদ এসেছে, সৃষ্টি হয়েছে শ্রমিকশ্রেণির এবং এই শ্রমজীবী মানুষই গড়বে সমাজতন্ত্র- এ সত্যটা তাঁদের চেতনায় তাই ধরা পড়েনি। কাল্পনিক এবং অবাস্তব স্তর থেকে সমাজতন্ত্রকে বৈজ্ঞানিক ভিত্তির উপর দাঁড় করালেন কার্ল মার্ক্স এবং ফ্রেডারিক এঙ্গেলস। এই বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কী? কীভাবে এই বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কায়েম হবে? কোন কোন সূত্র ধরে মার্ক্স এই বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের তত্ত্ব উপস্থিত করেন? এই প্রশ্নগুলো সংগতভাবেই আসে। কিন্তু এর জবাব পাবার আগে কার্ল মার্ক্স যে বিশ্ব দৃষ্টিকোণ থেকে ইতিহাসকে বিচার করেছেন সে সম্পর্কে কিছু ধারণা থাকা প্রয়োজন। (চলমান)