ক্রমশ পানিশূন্য বিরানভূমি হচ্ছে বরেন্দ্র অঞ্চল
Posted: 20 আগস্ট, 2023
বাংলাদেশকে ৩০টি ইকোলজিক্যাল জোনে বিভক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে উত্তর পশ্চিম এলাকা ২৫, ২৬ ও ২৭ এই ৩টি ইকোলজিক্যাল জোন নিয়ে অবস্থিত। ২৬ নম্বর জোনটি রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁর উঁচু বরেন্দ্র অঞ্চল, ২৫ নম্বর হচ্ছে মধ্যম বরেন্দ্র অঞ্চল এবং ২৭ নম্বরটি হচ্ছে সমতল বরেন্দ্র অঞ্চল। দেশের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৬টি জেলার ১২৫টি উপজেলাকে নিয়ে বরেন্দ্র অঞ্চল।
বরেন্দ্র অঞ্চলের ভূ-প্রকৃতি ৩ ভাগে ভাগ করা যায়- ১. লাল মাটি দ্বারা গঠিত প্রাচীন ভূমি। ২. পলিমাটি দ্বারা গঠিত মোটামুটি প্রাচীন ও উঁচু ভূমি। ৩. বিভিন্ন নদীবাহিত পলিমাটি দ্বারা গঠিত নিম্নভূমি।
বরেন্দ্র অঞ্চলের বিভিন্ন নদী বিশেষ করে যমুনা, পদ্মা, আত্রাই, মহানন্দা, তিস্তা, করতোয়া প্রভৃতি নদীবাহিত পলি ও বালি স্তুপকৃত হয়ে নিম্ন প্লাবন ভূমি সৃষ্টি করেছে। এই পলি দ্বারা গঠিত নিম্ন ভূমি বর্ষাকালে বন্যায় তলিয়ে যায়। উঁচু বরেন্দ্র এলাকা দূর থেকে দেখতে অনেকটা গ্যালারির মতো। অসমতল ভূ-প্রকৃতির কারণে বৃষ্টির পানি মাটির গভীরে প্রবেশের তুলনায় উঁচু থেকে নিচের দিকে গড়িয়ে যায়। ফলে শুষ্ক মৌসুমে মাটির আর্দ্রতা মারাত্মকভাবে কমে যায়।
বাংলাদেশে উত্তর-পশ্চিম অঞ্চল জুড়ে উঁচু বরেন্দ্র ভূমি রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলার আবহাওয়া দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় রুক্ষ এবং চরম ভাবাপন্ন। উঁচু বরেন্দ্র ভূমি রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলার আবহাওয়া দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় রুক্ষ এবং চরম ভাবাপন্ন। বরেন্দ্র অঞ্চলে বৃষ্টিপাত কম। বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ১২৫০ থেকে ২০০০ মি.মি। মৌসুমে কোনো কোনো বছর তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসে, আবার গ্রীষ্মকালে কোনো কোনো সময় ৪১-৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠে যায়। তবে কোনো কোনো বছরে মাত্র ৮০০-৯০০ মিলি বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে। এ বৃষ্টিপাতের শতকরা ৮০ ভাগেরও বেশি আবার মৌসুমভিত্তিক, যেখানে জুন-অক্টোবর বা আষাঢ়-কার্তিক মাসে হয়ে থাকে। মৌসুমভিত্তিক হলেও বৃষ্টির পানি ধরে রাখতে না পারায় এবং সুষম বণ্টন না হওয়ায় সময়ে আমন ধান লাগানো যায় না ফলে অধিকাংশ সময়ে আমন ধানের চাষ দেরি হওয়ায় পরবর্তী ফসল চাষের সুযোগ বিঘ্নিত হয়। এ সমস্যার কারণে বরেন্দ্র অঞ্চলে আমন ধান কাটার পরে রবি মৌসুমে প্রায় ৮০ হাজার হেক্টর জমি অনাবাদি থাকে। অসম বৃষ্টিপাতের কারণে আমন ধানের বৃদ্ধির বিভিন্ন পর্যায় খরা আক্রান্ত হয় যা ফলনে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
প্রাচীন লোককাহিনীতে ইন্দ্র দেবতার আশীর্বাদ হিসেবে বরেন্দ্র নাম কথিত হয়েছে। ‘ইন্দ্রের আশির্বাদে’ মঙ্গা কবলিত বরেন্দ্র অঞ্চলে হরেক রকমের ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে ঠিকই কিন্তু কী এক অভিশাপে বরেন্দ্র অঞ্চলের প্রাকৃতজন গরিব প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শ্রমে আর ঘামে ফসল উৎপাদন আর জীবন-জীবিকা এক চরম সংকট আর অনিশ্চয়তার পথে। একদিকে শুষ্ক রুক্ষ প্রকৃতি আরেক দিকে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ভূ- উপরিস্থ পানির প্রধান উৎস নদী, খাল, বিল, পুকুর, জলাশয় শুকিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচের দিকে নেমে যাচ্ছে। কৃষক জমিতে সেচের পানি দিতে হিমশিম খাচ্ছে।
৭০ এর দশকে পদ্মার পানি দিয়ে সেচ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পানি উন্নয়ন বোর্ড একটি প্রকল্প হাতে নেয়। ভূ-উপরিস্ত পানি দিয়ে বরেন্দ্র অঞ্চলে সেচ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে জাপানের জাইকা ১৯৮৮ প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রণয়ন করে। এই প্রকল্পে পদ্মা থেকে পাম্পের সাহায্যে ৮০ ঘনমিটার/সেকেন্ড পদ্মার পানি উত্তোলন করে ৫২.৫০ কি.মি. শাখা খালের মাধ্যমে আবাসযোগ্য ১,৩৩,৭০০ হেক্টর জমির মধ্যে ৭৪,৮০০ হেক্টর জমিতে সেচ ব্যবস্থার প্রস্তাবনা করে। রাজশাহীর জেলার পবা, গোদাগাড়ী, তানোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর, নাচোল, নিয়ামতপুর, নওগার পোরশা, মান্দা মোট ৯ টি উপজেলা এই প্রস্তাবনার অন্তর্ভুক্ত। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এলাকায় শস্য নিবিড়তা ২২৮% শতাংশে উন্নীত হয়ে ২, ১১, ০০০ টন উদ্বৃত্ত ফসল উৎপন্ন হবে।
গঙ্গার পানি চুক্তির ফলে সর্বনিম্ন ৩৫ হাজার কিউসেক প্রাপ্ত পানির মধ্যে কুষ্টিয়া-যশোরের জিকে প্রজেক্টে মাত্র ৭ হাজার কিইসেক পানি ব্যবহৃত হয়। আর কোথাও গঙ্গার পানি ব্যবহার হয় না ফলে বাকি পানি বঙ্গোপসাগরে গড়িয়ে যায়। উত্তর রাজশাহী প্রকল্পে অবশিষ্ট ২,৮২৫ কিউসেক পানি ব্যবহার করলে বরেন্দ্রের বৃহত্তর অঞ্চলে পানির অভাব হবে না।
‘উত্তর রাজশাহী প্রকল্প’ নামে পরিচিত এই প্রকল্পটির ফাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড, পরিকল্পনা কমিশন, অর্থ মন্ত্রণালয়সহ নানান জায়গায় চালাচালি হয়। বারবার প্রকল্পটি রিভিউ করা হয়, কিন্তু কী এক অন্ধকারের হাতছানিতে প্রকল্পটি আর আলোর মুখ দেখতে পায়নি।
এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য চার বছর আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড গোদাগাড়িতে জনসাধারণের মধ্যে মতবিনিময় করেছিল। ১ মে ২০০৮ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন প্রকৌশলী, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন প্রকৌশলী, রাজশাহী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের নিয়ে সেমিনার আয়োজন করে। এই সেমিনারে অংশগ্রহণকারী সকলেই ‘উত্তর রাজশাহী প্রকল্প’ বাস্তবায়নের পক্ষে মত দেন।
এই প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তা ও দীর্ঘসূত্রিতার সুযোগে বন্যামুক্ত মরু প্রক্রিয়াধীন বরেন্দ্র অঞ্চলে সেচ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ১৯৯২ সালে ‘বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ (বিএমডিএ) গঠন করা হয়।
বিএমডিএ’র আওতায় সেচ কাজের জন্য গভীর নলকূপ স্থাপন, সংস্কারের অভাবে পানির ধারণক্ষমতা না থাকা পুকুর ও খাল পুনঃখনন, বৃক্ষরোপণ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন। বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গভীর নলকূপ স্থাপন করে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করে সেচ ব্যবস্থা গড়ে তোলে। বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষের প্রকল্প এলাকায় মাত্র ২৬% জমিতে সেচ দিতে পারছে।
বিএমডিএসহ ব্যক্তি পর্যায়ে বিপুল সংখ্যক গভীর নলকূপের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন এবং সেইসাথে প্রয়োজনীয় পানি পুনঃভরন না করার ফলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে পানি শূন্য হয়ে যাচ্ছে ফলে বরেন্দ্র অঞ্চলে মরুকরণ প্রক্রিয়া বৃদ্ধি পাচ্ছে।
জমিতে রাসায়নিক দূষণ, ব্যাপক আয়রণ-আর্সেনিক বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাসায়নিক সারের ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে। খাল, বিল, পুকুর, জলাশয় শুকিয়ে যাচ্ছে। টিউবয়েলে পানি উঠছে না। গাছপালার বৃদ্ধি কমছে, গাছের প্রাকৃতিক রং লালচে হচ্ছে।
সেচের পানির বিতরণের জন্য বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষ ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী লোকজনকে অপারেটর নিয়োগ দিয়ে থাকে। সরকার বদল হলে অপারেটরও বদল হয়ে যায়। এই অপারেটরদের বিরুদ্ধে কৃষকের অভিযোগের শেষ নেই। বরেন্দ্র অঞ্চলের পানি অপারেটরদের কব্জায়, তাদের হাতে বরেন্দ্রের প্রায় ৪ লাখ কৃষকের জিম্মি। অপারেটররা প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে কাছ থেকে পানি বাণিজ্য করছে। বিএমডিএ কৃষি মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিষ্ঠান। বিএমডিএ গভীর নলকূপ বসিয়ে দেয়। নলকূপ পরিচালনার জন্য অপারেটর নিয়োগ দেয়। শুরুর দিকে অপারেটররা কৃষকের কাছ থেকে সেচ চার্জ আদায়ের জন্য কুপন প্রথা চালু করে। ২০০৫ সাল থেকে কৃষকদের ডিজিটাল কার্ড দেয়া হয়। বিদ্যুৎ খরচ বাবদ কৃষকের কার্ড থেকে প্রতি ঘণ্টায় পানির জন্য ১২৫ টাকা করে কেটে নেয়া হয়। বাস্তবে নেওয়া হয় কয়েক গুণ বেশি। কিছু অঞ্চলে এক বিঘা জমিতে মৌসুমে ১৭০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করার অভিযোগ আছে। রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে সেচের পানি বেশি লাগে সেখানে কার্ডের মাধ্যমে কৃষককে পানি দিতে হয় নিজের কার্ড ব্যবহারের সুযোগ পায় না কৃষকরা। অপারেটরের কার্ড থেকে পানি নিতে বাধ্য করা হয়। সেচের পানির দাম ছাড়াও মৌসুম শেষে বিঘা প্রতি ৫ থেকে ১০ কেজি করে ধান অপারেটররা কৃষকের কাছ থেকে আদায় করে। কোথাও কোথাও অপারেটররা নিজেদের গভীর নলকূপের আওতাধীন পুরো জমি বাইরের ব্যবসায়ীদের কাছে ইজারা দেন। সেই ইজারাদার যে ফসল ফলান, বাদবাকি চাষীদের সেই ফসল পলাতে বাধ্য করা হয়। অপারেটরের সিদ্ধান্ত না মানলে কৃষকের জমিতে পানি দেয়া হয় না। কৃষকেরা নিজেরা এসে কার্ড ঢুকিয়ে পানি নিতে সিরিয়াল পেতে ২/৩ দিন আসতে হয় এই সুযোগে চুক্তি করে অপারেটররা বেশি টাকা আদায় করে। আদিবাসী কৃষকদের প্রতি শোষণ করা হয় খুব বেশি। রাজশাহীর গোদাগাড়ীর নিমঘটু গ্রামে আদিবাসী দুই ভাই রবি মার্ডি ও অভিনাথ মার্ড বারবার ধর্না দিয়েও সময়মতো ও চাহিদামতো সেচের পানি না পেয়ে রাগে ক্ষোভে মনোকষ্টে কীটনাশক বিষপান করে আত্মহত্যা করেন। এর কিছু দিন পর মুকুল সরেণ একই কারনে কীটনাশক বিষপান করে মরতে মরতে বেঁচে যায়।
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের ক্ষুদ্র সেচ সমীক্ষা প্রতিবেদন ২০১৯-২০ অনুযায়ী রাজশাহী, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় মোট বাম্প আছে ১,০৪,৮৫৮ টি। এর মধ্যে বিএমডিএ’র পরিচালনায় ৮৫২৫টি। অবশিষ্ট ৯৫,৩৩৩ টি পাম্প চলছে ব্যক্তি মালিকানা। রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৬ টি জেলায় বিএমডিএ’র ১৫,৭৯৬ টি গভীর নলকূল আছে। রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে ৭১৩টি, তানোরে ৫২৯ টি, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১৫৭৫টি, নওগাঁয় ৪৪০০টি। এই তিন জেলার ৫ লাখ ৭ হাজার ১৪৫ হেক্টর জমি সেচের আওতায় এসেছে। এরমধ্যে বিএমডিএ সেচ দিচ্ছে ২ লাখ ৯৫ হাজার ৭৬১ হেক্টর জমিতে। বাকি ২ লাখ ১১ হাজার ৩৮৬ হেক্টর জমিতে সেচ দেয়া হচ্ছে ব্যক্তিগত সাবমার্সিবল পাম্প দিয়ে। নওগাঁয় ব্যক্তি মালিকানায় পাম্প আছে ৫৩,৯২৩ টি। জেলার ৫১% সেচ ব্যক্তি মালিকানার দখলে। রাজশাহীতে ২,৮৬২ টি বিএমডিএ’র ব্যক্তি মালিকানায় ২৭, ১০৫টি। চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিএমডিএ’র ১৫৮৩টি, ব্যক্তি মালিকানার ১৫,৩১৫ টি। বিএমডিএ গভীর নলকূপ থেকে বছরে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা আয় করে। ব্যক্তিগত মালিকানার আয়ের হিসাবতো অনিয়ন্ত্রিত।
বাংলাদেশের ধান উৎপাদনে ৭৫ ভাগ সেচের ভূগর্ভস্থ পানি থেকে দেওয়া হয়। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর অস্বাভাবিকভাবে নিম্নমুখী ও পানির সংকট দেখা দেয়ায় বরেন্দ্র অঞ্চলে ২০১৪ সাল থেকে গভীর নলকূপ বসানো বন্ধ রেখেছে বিএমডিএ। কিন্তু থামানো যাচ্ছে না ব্যক্তি উদ্যোগে নলকূপ বসিয়ে পানি তোলা।
বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি-কৃষি জমি-কৃষক-পরিবেশ প্রকৃতি- জীব বৈচিত্র রক্ষা করতে গভীর নলকূপের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন বন্ধ করে। বিকল্প পদ্ধতিতে পানির প্রয়োজন মেটাতে হবে। গঙ্গার প্রাপ্য পানির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। উত্তর রাজশাহী প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ভূউপরিস্থিত পানি ব্যবহারের ফলে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন হ্রাস পাবে ফলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর স্বাভাবিক হয়ে আসবে। মরুকরণ রোধ হবে। জমিতে রাসায়নিক দূষণ আয়রণ, আর্সেনিক ও পরিবেশের অবক্ষয়ের আশঙ্কা থাকবে না। সারের ব্যবহার কমে আসব, কৃষকের উৎপাদন খরচ কমে আসবে। ৭৪,৮৫০ হেক্টর জমিতে ৩ ফসলি ফসল উৎপাদন হবে। কৃষিতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে। রুক্ষ বরেন্দ্র অঞ্চলে জলীয় বাষ্পের প্রভাবে আবহাওয়া শীতল থাকবে। ব্যাপকভাবে গবাদি পশুর মাছ চাষ বৃদ্ধি পাবে।
বাংলাদেশ কৃষক সমিতির পঞ্চগড় থেকে যমুনা সেতু ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত মহাসড়কে গত ১৭ জুন বরেন্দ্র অঞ্চলের ১৬ টি জেলার ২৪ টি স্পটে একযোগে কৃষকবন্ধন কর্মসূচি পালন করে।
বরেন্দ্র অঞ্চলসহ সারা দেশে সেচের পানি বিতরণে অনিয়ম হয়রানি দুর্নীতি বন্ধ কর।
সারসহ কৃষি উৎপাদন উপকরণের দাম কমাও।
ন্যূনতম ১৫০০ টাকা মণ দরে ধান ক্রয় কর।
প্রকৃত উৎপাদক কৃষককে কৃষি কার্ড দাও এই দাবিতে কৃষকবন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।
অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আগামী অক্টোবরে রাজশাহীতে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয়ে হাজার হাজার কৃষকের অবস্থান কর্মসূচির প্রস্তুতি চলছে।
বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি, কৃষি জমি, কৃষক, পরিবেশ প্রকৃতি ও জীব বৈচিত্র রক্ষায় এখনি সোচ্চার হতে হব সকলের।
লেখক : সাংগঠনিক সম্পাদক, কেন্দ্রীয় কমিটি, বাংলাদেশ কৃষক সমিতি।