গোবিন্দগঞ্জে তিন সাঁওতাল হত্যা মামলার চার্জশিট প্রত্যাখ্যান

Posted: 10 জানুয়ারী, 2021

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে বহুল আলোচিত তিন সাঁওতাল হত্যা মামলার চার্জশিট প্রত্যাখান করে নারাজি দাখিল করেছে বাদী পক্ষ। গত ৪ জানুয়ারি গোবিন্দগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পার্থ ভদ্রের আদালতে এ নারাজি দাখিল করা হয়। নারাজি শুনানীতে অংশ নেন সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবি রফিক আহম্মেদ সিরাজী, গাইবান্ধা জেলা জজ আদালতের আইনজীবি মুরাদ জামান রব্বানী এবং স্থানীয় আদালতের আইনজীবি ফয়জুল আলম রনন। আইনজীবি রফিক আহম্মেদ সিরাজী বলেন, এ মামলার উপযুক্ত তথ্য প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও মুল আসামীদের বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে ১৬টি পয়েন্ট উল্লেখ করে আদালতে নারাজি দাখিল করা হয়েছে। আদালত বলেছেন যেহেতু চার্জশিটটি অনেক বড়, তিনি চার্জশিটটি পড়ে দেখবেন। আইনজীবি আরও বলেন, পুলিশ বা অন্য প্রশাসনের ওপর আমাদের কোনো আস্থা নেই। আমরা সরাসরি জুডিসিয়াল তদন্ত চেয়েছি। বিষয়টি বিবেচনা করবেন বলে জানান তিনি। অন্যান্য বিষয়াদী পর্যালোচনা করে পরর্তীতে তিনি এ বিষয়ে আদেশ দিবেন। তিনি বলেন, অগ্নিসংযোগের চিহিৃত পুলিশ সদস্য (সাময়িক বরখাস্ত হয়েছিল) তাদের গ্রেপ্তার বা রিমান্ডে নেওয়া হয়নি। জনমতের চাপে বাধ্য হয়ে ঘটনার ১০দিন পর মামলা রেকর্ড করলেও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ঘটনাটি ধামাচাপা ও প্রকৃত আসামীদের আইনের আওতায় না আনার মত উদাসীনতা প্রমাণ করে যে, মামলার আইও জড়িত ও দায়ী পুলিশ সদস্যদের পক্ষপাতমূলক ভাবেই চার্জশিটে আসামী ভুক্ত করেননি। এসময় আদালত চত্বরে ভীড় করেন সাঁওতালরা, এরপর সাঁওতালরা আদালত চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে পৌরশহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। প্রসঙ্গত, গত ২ নভেম্বর গোবিন্দগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৪৯৬ নং অভিযোগপত্র (চার্জশীট) দাখিল করেন সিআইডি। সেখানে মামলার মুল আসামীদের বাদ দিয়ে চার্জশীট দাখিল করলে বাদী পক্ষ চার্জশীট প্রত্যাখ্যান করে এ নারাজি করেন। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর পুলিশ সঙ্গে নিয়ে রংপুর চিনিকলের বিরোধপূর্ণ জমিতে আখ কাটতে যান চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারীরা। এসময় নিজেদের বাপ-দাদার জমি দাবী করে বাধা দেন সাঁওতালরা। এতে পুলিশ, চিনিকল শ্রমিক ও সাঁওতালদের ত্রিমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে পুলিশের গুলিতে রমেশ টুডু, শ্যামল হেমব্রম ও মঙ্গল মার্ডি নামের তিন সাঁওতাল নিহত হন। বিজ্ঞপ্তি