ব্রেক্সিটের পর ‘শক্তিশালী’ হলো ব্রিটিশ পাসপোর্ট

Posted: 10 জানুয়ারী, 2021

একতা বিদেশ ডেস্ক : ব্রেক্সিটের পরে শক্তিশালী হয়েছে ব্রিটেনের পাসপোর্ট। এমনটাই দেখা গেছে ২০২১ সালের হেনলি পাসপোর্ট ইন্ডেক্সে। প্রতিবছরই তারা বিশ্বের কোন দেশের পাসপোর্ট দিয়ে কতটি দেশে ভিসামুক্ত ভ্রমণ করা যায় তার ওপর ভিত্তি করে এই তালিকা প্রকাশ করে। এবার এ তালিকায় গত বছরের তুলনায় একধাপ এগিয়ে ৭ম স্থানে উঠে এসেছে বৃটেন। এরমধ্য দিয়ে পাসপোর্টের শক্তির বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রকে ধরে ফেললো দেশটি। এতে বলা হয়েছে, ব্রেক্সিট কার্যকর হলেও ব্রিটিশ নাগরিকরা ইইউভুক্ত রাষ্ট্রগুলোতে ভিসামুক্ত ভ্রমণের সুবিধা পাচ্ছে। ফলে এ চুক্তির কারণে এ ক্ষেত্রে অবস্থার পরিবর্তন হয়নি দেশটির। নিউজিল্যান্ড, বেলজিয়াম, নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো ব্রিটেনের নাগরিকরাও ভিসা ছাড়া ১৮৫টি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন। তবে ব্রিটেনের ওপরে রয়েছে ইইউভুক্ত বেশ কয়েকটি দেশ। এরমধ্যে জার্মান নাগরিকরা ভিসামুক্ত ভ্রমণের সুবিধা পান ১৮৯ টি দেশে, স্পেনের নাগরিকরা পান ১৮৮ দেশে এবং ফরাসিরা পান ১৮৬ দেশে। এ বছরের সবথেকে শক্তিশালী পাসপোর্ট বলা হয়েছে জাপানি পাসপোর্টকে। গত ৪ বছর ধরেই বিশ্বের সবথেকে শক্তিশালী পাসপোর্ট নির্বাচিত হয়েছে জাপানি পাসপোর্ট। দেশটির নাগরিকরা ভিসা ছাড়াই ভ্রমণ করতে পারেন বিশ্বের ১৯১ রাষ্ট্র। ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সবার থেকে পেছনে রয়েছে ক্রোয়েশিয়া ও বুলগেরিয়া। দেশ দুটির নাগরিকরা ১৭১টি দেশে ভিসামুক্ত ভ্রমণের সুযোগ পেয়ে থাকেন। এ বছর তালিকায় সবার শেষে ছিল তালেবানের হামলায় বিধ্বস্ত আফগানিস্তান। মাত্র ২৬ দেশে ভিসামুক্ত প্রবেশের সুবিধা পান দেশটির নাগরিকরা। তালিকায় ১০১তম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। ৪১টি দেশে ভিসামুক্ত ভ্রমণের সুবিধা পান বাংলাদেশিরা। এদিকে মিউট্যান্ট কোভিডের স্ট্রেইন ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে পড়ার কারণে ব্রিটেনে জাতীয় লকডাউন ঘোষণা করে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, নতুন রূপের ভাইরাস ৫০ থেকে ৭০ শতাংশে সংক্রমণযোগ্য। অতএব ‘ঘরে অবস্থান করুন, এনএইচএস রক্ষা করুন, জীবন বাঁচান’। সারাদেশে অপ্রয়োজনীয় দোকানপাট, হোটেল রেস্তুরাঁ সহ সমস্ত আতিথেয়তা, জিম, সুইমিংপুল ইত্যাদি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। স্কুল, কলেজ আগামী হাফটার্ম (ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের বাড়িতে থাকতে এবং দূর থেকে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে বলা হয়েছে। প্রয়োজন ছাড়া কাউকে ঘর থেকে বের হতে নিষেধ করা হয়েছে। বয়স্কদের ঘরে বা শেল্টার হাউজে থাকতে বলা হয়েছে। উদ্বাস্তু লোকদের পুনর্বাসন ক্ষেন্দ্রে বা যেখানে সম্ভব সেলটারে স্থান দিতে হবে। ধর্মীয় উপাসনার স্থানে সামাজিক দূরত্ব অব্যাহত রাখতে হবে। প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে মধ্য ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আগামী ৬ সপ্তাহের জন্য এই লকডাউন ঘোষণা করেন। তৃতীয় বারের মত জাতীয় লকডাউন ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। বাবা-মাকে তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর আহ্বানের ঠিক একদিন পরে প্রধানমন্ত্রী নতুন এই ঘেষেনা দিলেন। এর আগে গতকাল সকালে স্কটল্যান্ডের ফাস্ট মিনিস্টার নিকোলা স্টারজেন সেখানে লকডাউন ঘোষণা করেছেন।