বিশ্বে ‘গভীর মন্দা’ সামলাতে এবার বিশ্বব্যাংকের সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প

Posted: 18 অক্টোবর, 2020

একতা বিদেশ ডেস্ক : গভীরতম মন্দা পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক বৃদ্ধি পরিকল্পনায় জোর দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সঙ্গে বার্ষিক বৈঠকের মাঝে সংবাদমাধ্যমে এই লক্ষ্য জানিয়েছেন বিশ্ব ব্যাঙ্কের প্রেসিডেন্ট ডেভিড মালপাস। তিনি বলেছেন, উন্নয়নশীল দেশগুলিতে কাজ হারানো, আয় কমে যাওয়া এবং বিদেশে বসবাসরত নাগরিকদের আয়ের অর্থ ফিরে আসা দ্রুত কমে গিয়েছে। সবচেয়ে গরিব দেশগুলিতে সমস্যা তীব্র। মালপাস বলেছেন, ১৯৩০’র পর গভীরতম মন্দা পরিস্থিতিগুলির একটির মধ্যে দিয়ে চলছে বিশ্ব। কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে উন্নয়নশীল অর্থনীতি। অত্যন্ত গরিব মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। আয়তনে যত বড় সম্ভব বৃদ্ধির পরিকল্পনা করা দরকার। বিশ্বব্যাংক একাজে দায়িত্ব নিতে চাইছে। তাঁর সংযোজন, এখনই জরুরি সামাজিক সুরক্ষার জন্য অতিরিক্ত অর্থ খরচ করা। ভর্তুকি বাড়িয়ে খাদ্যের সংস্থান করার পদক্ষেপ সমর্থন করছে বিশ্বব্যাংক। বিশ্বব্যাংক জোর দিচ্ছে স্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রচারেও। সংক্রমণের গতি কমাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাস্কের ব্যবহার, হাত ধোয়া এবং শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা জরুরি। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে না এলে অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন আরও কঠিন হবে, বিশ্বের বহু বিশেষজ্ঞদের এই অভিমতকে সমর্থন করছে ব্যাঙ্ক। মালপাস বলেছেন, মানুষের স্বাস্থ্যে সবার আগে নজর দিতে হবে। কোভিড পরিস্থিতিতে চীন ছাড়া বড় সব অর্থনীতিতেই উৎপাদন হ্রাসের শঙ্কা রয়েছে। চলতি আর্থিক বছরের প্রথম তিন মাসে যদিও ভারতে হ্রাসের হার সবচেয়ে বেশি। বিশ্ব ব্যাংক বলছে অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবনের রেখচিত্র ইংরেজি ‘কে’ অক্ষরের মতো। ওপরের অংশে রয়েছে সম্পদশালী দেশগুলি। তারা বড় অঙ্কে সরকারি সহায়তা দিয়েছে। তার লাভ যদিও বেশিরভাগটাই তুলেছে আর্থিক বাজার। তবে শ্রমজীবী বিভিন্ন অংশকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সংগঠিত ক্ষেত্রে যাঁরা বাড়ি থেকে কাজ করতে পারছেন সমস্যা তাদের কম। অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকরাই সবচেয়ে কঠিন অবস্থায়। মালপাসের মতে, এই অংশে কাজ হারিয়েছেন বেশি। তাঁদের একমাত্র ভরসা সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প। উন্নয়নশীল দেশগুলি, যার মধ্যে সবচেয়ে গরিব বিভিন্ন দেশও রয়েছে, সমস্যা তীব্র হয়েছে এই অংশে। বিশ্বব্যাংক এই দেশগুলিতে সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের বিস্তার বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে। মালপাস বলেছেন, ‘কে’ অক্ষরের নেমে যাওয়া রেখার মতো এই দেশগুলির অবস্থা। মন্দার আক্রমণ তীব্রতর এই দেশগুলিতেই। তবে ভারতের মতো দেশগুলির জন্য এমন প্রকল্পে সহায়তার আর্থিক আয়তন কী হবে, ঋণ বা অনুদানের সঙ্গে সংস্কারের শর্ত জুড়ে দেওয়া হবে কিনা, এই বিষয়ে কিছু জানাননি মালপাস। গত জানুয়ারিতে ভাইরাস চিহ্নিত হওয়া এবং মার্চের মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কোভিড-১৯ বিশ্ব মহামারী বলে ঘোষণাও করে দিয়েছিল। ‘সম্ভাব্য বৃহত্তম বৃদ্ধি সহায়তা কর্মসূচি’ বিশ্বব্যাংক কেন তার প্রায় সাত মাস পরেও ঠিক করতে পারল না, তাও অস্পষ্ট রয়েছে। সম্ভাব্য প্রকল্প প্রসঙ্গে মালপাস বলেছেন, বিদ্যুৎ এবং কম কার্বন নির্গমণে শক্তি উৎপাদনের বিভিন্ন কাজে অর্থ দেওয়া হচ্ছে। পরিস্রুত পানীয় জল, পরিবেশবান্ধব কর্মসূচি এবং বনসৃজনের মতো প্রকল্পের জন্য অর্থ দেওয়ার কথাও বলছে বিশ্বব্যাংক। পুনরুজ্জীবনের জন্য রপ্তানির দরজা খোলা রাখার পরামর্শও দিয়েছেন মালপাস। মালপাস ফের বলেছেন, পর্যটনের মতো নিযুক্তি সহায়ক ক্ষেত্রের হাল ফিরতে আরও বেশ কিছু সময় লাগবে। অনেকগুলি দেশে অর্থনৈতিক অধোগতি দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকবে। এই সময়ে এমন নমনীয়তা থাকা দরকার যেখানে মানুষ বিকল্প পেশায় দ্রুত নিযুক্ত হতে পারবেন। কোভিড-১৯ পরবর্তী বিশ্ব আগের তুলনায় আলাদা হবে মনে করিয়ে মালপাস বলেছেন, অর্থনীতির ভিত্তি এমন শিল্প এবং ব্যবসা বাঁচিয়ে রাখতে হবে দেশগুলিকে। সরাসরি মানুষের হাতে নগদ তুলে দিয়ে সামাজিক সুরক্ষা বজায় রাখতে বেশ কয়েকটি দেশে সহায়তা করা হচ্ছে। ব্রাজিলে বড় মাপের কর্মসূচি চলছে। বিশ্বব্যাংক এবং আইএমএফ’র বৈঠকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য কর্মসূচি এবং সামাজিক সুরক্ষা পরিকল্পনায় বিশেষ আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে। উন্নয়নশীল দেশে সব মিলিয়ে স্কুলের বাইরে প্রায় একশো কোটি শিশু। বড় অংশেরই পাকাপাকি স্কুলছুট হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কন্যাশিশুদের ক্ষেত্রে আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি।