বিশ্বায়ন ও বাংলাদেশের শিক্ষক সমাজ

Posted: 11 অক্টোবর, 2020

৫ অক্টোবর ছিল বিশ্ব শিক্ষক দিবস। ঘুরেফিরে প্রতিবছরই দিবসটি আসে এবং পালিতও হয়। তবে এবার পূর্বের বছরগুলোর মতো দিবসটি পালিত হয়নি। গেল বছরের ডিসেম্বরে চীনে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত এবং চলতি বছরের শুরু থেকে বিশ্বেও দেশে দেশে ছড়িয়ে পড়ায় অনেককিছুই চলছে সীমিত পরিসরে। এ পর্যন্ত বিশ্বেও ২১৫টি দেশ ও অঞ্চলে করোনার অভিঘাতে ১০ লক্ষাধিক মানুষের জীবনহানি হয়েছে। মাসের পর মাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। তবে ইউনেস্কো প্রতিবারের মতো এবারও দিবসটি সম্পর্কে প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে। ইংরেজিতে Teachers: Leading in Crisis reimagining The future. যার বাংলা করা হয়েছে “শিক্ষক: সংকটে নেতৃত্বদাতা, ভবিষ্যতের রূপদর্শী”। ১৯৯৪ সালে ইউনেস্কোর ২৬তম সাধারণ সভায় ৫ অক্টোবরকে বিশ্ব শিক্ষক দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। দ্বিতীয় জন্মদাতা অথবা জাতি গড়ার কারিগর বলে বিবেচিত শিক্ষক সমাজের মান-সম্মান, ইজ্জত ও আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করার চিন্তাভাবনা থেকেই দিবসটি পালনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। শিক্ষার অধিকার মানবিক এবং মৌলিক অধিকার বিবেচনায় এবং জাতিসংঘের ঘোষণা বাস্তবায়নে ১৯৬৬ সালে প্যারিসে আন্তঃসরকার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ঐ সভার সুপারিশ থেকে বিশ্বের সকল শিক্ষকের মর্যাদা রক্ষা সকল রাষ্ট্রের উপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা, মানবসম্পদের পরিপূর্ণ বিকাশে সহায়ক কর্মসূচিতে স্বাক্ষর করেন জাতি সংঘের শিক্ষা বিজ্ঞান সাংস্কৃতিক সংস্থার (ইউনেস্কো) মহাপরিচালক ও সম্মেলনের সভাপতি। সম্মেলনে যোগদানকারি সরকার প্রধান বা প্রতিনিধিরা তাতে সম্মতি জানিয়ে স্বাক্ষর করেন এবং তাদের দেশে সেটা বাস্তবায়নের অঙ্গিকার করেন। সম্মেলনে গৃহিত সুপারিশের মধ্যে প্রধান বিষয়গুলি ছিল শিক্ষকদের মর্যাদা ও সম্মান নিশ্চিতকরণ, মাধ্যমিক স্তরে সরকারি-বেসরকারি সবার জন্য স্তর নির্বিশেষে শ্রেণি বৈষম্যহীন একই শিক্ষা নীতিমালা, শিক্ষার উদ্দেশ্য, শিক্ষার গুণগতমান উন্নয়ন, পদোন্নতি, পেশাগত আচরণ লংঘনের শাস্তি, নারী শিক্ষকদের জন্য কর্মপোযোগী পরিবেশ, শিক্ষকদের অধিকার ও নিরাপত্তা এবং পেশাগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিধান ঐ সম্মেলনে গৃহীত হয়েছিল। এই কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়নে যথেষ্ট টাকার প্রয়োজন, সেটা বিবেচনা করে ঐ সংস্থাটি প্রত্যেক দেশকে সে দেশের জি.ডি.পির ৭% বা পরবর্তিতে ৮% শিক্ষাখাতে ব্যয় করার তাগিত দিয়েছিল এবং সদস্য দেশগুলি তাতে একমত হয়েছিল। বিষয়গুলি বিবেচনায় রেখেই স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালের সংবিধানে ১৫ ধারায় মৌলিক অধিকার হিসেবে শিক্ষার স্বীকৃতি এবং ১৭ ধারায় একই ধারার অসাম্প্রদায়িক সর্বজনীন এবং বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা বাস্তবায়নের রাষ্ট্রীয় কমিটমেন্ট ঘোষিত হয়েছিল। বাংলাদেশের বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ড. কুদরতই খুদার নেতৃত্বে শিক্ষা কমিশন গঠিত হয়েছিল। একদিকে যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশ, ভঙ্গুর অর্থনীতি অন্যদিকে সাংবিধানিক কমিটমেন্ট এবং ইউনেস্কোকে দেয়া প্রতিশ্রুতি, সব মিলে খুদা কমিশন ঐ সময়ের জন্য শিক্ষাখাতে জি.ডি.পি’র ৫ শতাংশ, পর্যায়ক্রমে বাড়িয়ে ৭ শতাংশ করার সুপারিশ করা হয়েছিল। সর্বশেষ ২০০৬ সালে সেনেগালের রাজধানী ডাকার-এ ইউনেস্কোভুক্ত তৃতীয় বিশ্বেও দেশগুলোর শিক্ষামন্ত্রীদের বৈঠকে তাদের আর্থিক সীমাবদ্ধতা বিবেচনা করে আপাতত জি.ডি.পি’র ৬ শতাংশ ব্যয় করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছিল। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, বাংলাদেশের জন্য তার অর্ধেকও শিক্ষাখাতে বরাদ্দ করা হয়নি। টাকার অবমূল্যায়ন এবং মুদ্রাস্ফীতির কারণে শিক্ষাখাতে বরাদ্দকৃত টাকার অংক বাড়লেও শতাংশ হারে কমেছে। ১৯৯৫ সালে শিক্ষাখাতে জিডিপি’র ২.৪ শতাংশ, ২০০/০১ সালে ২.৩ শতাংশ, ২০০১/০২ সালে ২.২১ শতাংশ, ২০০৯/১০ সালে ২.২ শতাংশ,চলতি অর্থ বছরে সেটা হয়েছে ১.৯ ভাগ, তাও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১৭ হাজার কোটি টাকা যুক্ত করে। শিক্ষাখাতে জিডিপির ৮ শতাংশ ৬ শতাংশ ও ৫ শতাংশ বরাদ্দে বিভিন্ন সরকারের রাষ্ট্রীয় প্রতিশ্রুতি থাকলেও সেখানে বরাদ্দ ২.৪ শতাংশের উপরে ৪৯ বছরে কখনও উঠেনি, ফলে উপেক্ষিত হয়েছে আমাদের শিক্ষা এবং বঞ্চিত হচ্ছে গোটা শিক্ষক সমাজ, এর মধ্যে বেশি বঞ্চনার শিকার বেসরকারি স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীরা। শিক্ষাখাতে যেটুকুই বরাদ্দ হয়েছে সেটাও পুরোপুরি ব্যয় করা হয়নি। দুর্নীতি ও লুটপাটের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় ঘটলেও শিক্ষারমত মৌলিক এবং সাংবিধানিক অধিকার বাস্তবায়নে ৪৯ বছরের শাসক মহল রাষ্ট্রীয় কমিটমেন্ট রক্ষা করেনি। এমপি-মন্ত্রী আর আমলার আর্থিক সুযোগ সুবিধা বাড়লেও সুবিধা বাড়েনি ১০ লক্ষাধিক বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীর। আর্থ-সামাজিক বাস্তবতা ও সক্ষমতায় বাংলাদেশের কাছাকাছি এমনকি দুর্বল অবস্থার অনেক দেশও শিক্ষাখাতে বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বেশি ব্যয় করছে। নিম্নলিখিত দেশগুলো তাদের জিডিপি’র নিম্নলিখিত তালিকা অনুযায়ী শিক্ষাখাতে ব্যয় করছে। ভুটান ৪.৮, মালদ্বীপ ১১.২০, ভারত ৩.১ শতাংশ হারে ব্যয় করছে, সেখানে বাংলাদেশের অবস্থান ২.০৯ (২০১৮)। বাংলাদেশের শিক্ষা ও শিক্ষকদের অবস্থান বিশ্বায়নের বিবেচনায় খুবই দুঃখজনক। দেশের ৮০ ভাগ শিক্ষা কার্যক্রম এখনও পরিচালিত হচ্ছে বেসরকারি স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার মাধ্যমে। বাকি ২০ ভাগ সরকারি এবং প্রাইভেট শিক্ষার মাধ্যমে। সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষক-কর্মচারী বেসরকারিদের তুলনায় ভাল থাকলেও আর্ন্তজাতিক মানে অনেক নিচে রয়েছে। আর বেসরকারী শিক্ষার ক্ষেত্রে অনন্ত সমস্যা। এ সেক্টরে ৫ লক্ষাধিক শিক্ষক-কর্মচারী এমপিওভুক্ত হলেও বিরাট একটা অংশ এমপিওভুক্ত নয়। সাড়ে ৭ হাজার বেসরকারি শিক্ষক প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন সময় সরকার থেকে একাডেমিক স্বীকৃতি দিলেও তাদের বেতন ভাতা দেয়া হচ্ছে না ১০-১২ বছর যাবত। এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা মূল বেতনের শতভাগ পেলেও ১০০০ টাকার বাড়ি ভাড়া ৫০০ টাকার চিকিৎসা ভাতা, উৎসব বোনাস পান শিক্ষকরা মূল বেতনের ২৫ শতাংশ এবং কর্মচারীরা ৫০ শতাংশ। সারা চাকুরি জীবনে একবার পদোন্নতি, প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক। সেটাও ১৯৯৫ সালের সুখ্যাত জনবল কাঠামোর মাধ্যমে ৭ জন প্রভাষকের মধ্যে ২ জন হবেন সহকারী অধ্যাপক, বাকিরা থাকবেন প্রভাষক, তবে ৮ বছর পরে তারা একটি সিলেকশন গ্রেড পাবেন। ৭:২ তে যারা সহকারী অধ্যাপক হবেন তারা ৭ নম্বও গ্রেডের স্কেল পাবেন, অন্যরা ৮ নম্বও গ্রেডের বেতন পাবেন, ব্যক্তিগত যোগ্যতা/পারফরম্যান্স প্রদর্শনের কোনও সুযোগ নেই। অথচ পদোন্নতির ক্ষেত্রে কোন বিভাগীয় পরীক্ষা নেই, শুধুই সময়ের ভিত্তিতে এটা করার পেশাগত মানবৃদ্ধির জায়গাটা দূর্বল হয়ে পরেছে। এই কুখ্যাত জনবল কাঠামো এখনও বহাল এবং এর কারণে ২৫ বছরের একজন চাকুরীজীবী প্রভাষক থাকছেন অন্যদিকে তারই ছাত্র নতুন কোন প্রতিষ্ঠানে ৮ বছরে সহকারী অধ্যাপক হচ্ছেন। এখানে আর্থিক বিয়ষটাই শুধু নয়, মর্যাদার ক্ষেত্রে বিরাট বৈষম্য, যা বিশ্ব শিক্ষক দিবসের প্রতিপাদ্যের সাথে বেমানান। দুঃখজনক হলেও সত্য, বাংলাদেশে শিক্ষক আন্দোলন বহুভাগে বিভক্ত এবং রাজনৈতিক দলের প্রভাবে প্রভাবিত। ক্ষমতার পরিবর্তনের সাথে সাথে দলীয় নেতৃত্ব দাঁড়িয়ে যায়, ক্ষমতাসীনদের মধ্যে দলীয় কোন্দলের কারণে একাধিক সংগঠন। সরকারও তাদের অনুগত ছাড়া অন্য কোন সংগঠনকে কোনো গুরুত্ব দেয় না। ফলে দল নিরপেক্ষ পেশাজীবী ট্রেড ইউনিয়ন ভিত্তিক শিক্ষক সংগঠন এবং শিক্ষক নেতৃত্ব গড়ে উঠেনি। পেশাজীবী আন্দোলনে বামপন্থিদের একটা শক্ত অবস্থান এক সময় থাকলেও বিপথগামী রাজনীতির কারণে সেই ধারাটিও আগেরমত শক্তিশালী নেই। বিশ্বায়নের যুগে আমরা কেউই এটা থেকে দূরে নয়, সরকার তো নয়ই। এর ভাল-মন্দ দুটিই আছে, কিন্তু বাংলাদেশের শিক্ষক সমাজ অসম বিশ্বায়নের দ্বারা নিষ্পেষিত। আন্তর্জাতিক বাজারে বিভিন্ন পণ্য ও সেবার দাম বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের বাজারেও সেটা বাড়ছে এবং সরকারও সেটা বাড়িয়ে থাকে, পুঁজিবাদী/খোলা বাজার অর্থনীতির এটাই নাকি বৈশিষ্ট্য। ক্ষেত্রবিশেষে সরকার জনগণের স্বার্থ বিবেচনা করে সেইসাথে ভর্তূকি দিয়ে থাকেন। কিন্তু বেসরকারী শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে সেটা হচ্ছে না। দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমাদের দেশে, এম,পি, মন্ত্রী, বিচারপতিদের বেতন ভাতা বাড়ানো হয়েছে অনেকবার, সেই তুলনায় অন্যদেরটা বাড়েনি। কিন্তু স্বাধীনতার ৪৯ বছরেও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদেও বাড়িভাড়া সকলের অনুপাতে না এনে বাড়ি ভাড়া অধ্যক্ষ থেকে পিয়ন সবাইকে থোক বরাদ্দ ১০০০ টাকা আর চিকিৎসা ভাতা ৫০০ টাকায় আটকে রেখেছে। বিশ্বায়নের কথা বলে বাংলাদেশের পণ্য ও সেবা কর্মে দাম বৃদ্ধি করা হয়, সেখানে বিশ্বায়নের কারণে শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন বাড়বেনা কেন? তৃতীয় বিশ্বের দেশ ভেনিজুয়েলায় একজন প্রাইমারি স্কুলশিক্ষকের মাসিক ৮০০ ডলার, হাইস্কুলের শিক্ষককে মাসিক ১৪০০ ডলার, ভারতে একজন প্রভাষককে ২৮০০০ রুপি একজন সহকারী অধ্যাপককে ৪২০০০ রুপি বেতন দিচ্ছেন, তারা কিভাবে পারেন? বিষয়টি শাসক মহলকে বিবেচনা করতে হবে। করোনাকালীন সময়ে ছাত্র বেতনের অভাবে বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে, শিক্ষরা এই পেশা ত্যাগ করেছে, মালিকরা তাদের ভাড়া স্কুল ঘর ছেড়ে দিয়ে আসবাবপত্র বিক্রির সাইন বোর্ড টানিয়েছে। নন-এমপিও শিক্ষকদের ৫০০০ টাকা আর কর্মচারীদের ২৫০০ টাকা করে এককালীন সরকার প্রণোদনা দিয়েছে। শিক্ষক সংগঠনের অবস্থান : বিশ্ব শিক্ষক দিবসের ঐতিহাসিক ঘোষণা এবং ১৯৭২ সালের সংবিধানের আলোকে শিক্ষাব্যবস্থার জাতীয়করণের দাবিতে বাংলাদেশের শিক্ষকরা বর্তমানেও সজাগ তবে করোনার কারণে আন্দোলনে নেই। তবে আন্দোলন ছাড়া বাংলাদেশে শিক্ষকদের কোন দাবি বাস্তবায়িত হয়নি। আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমেই ১৯৮২ সালের জানুয়রি মাসে থেকে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ নিয়ে এমপিওভুক্ত হয়ে বর্তমানে মূল বেতনের ১০০ ভাগের অধিকারী হয়েছেন। বাড়িভাড়া ১০০? টাকা, চিকিৎসা ভাতা ৫০গ টাকা, উৎসব বোনাস মূল বেতনের ২৫ ভাগ ও ১টি পদোন্নতির শিকলে আটকে আছেন। বর্তমান সরকার বাংলা নববর্ষে বৈশাখী ভাতা দিলেও বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের সেটা পেতে দুই বছর সময় লেগেছিল। কিন্তু বাদ পড়া ঐ দুই বছরেরটা আর পাওয়া যায়নি। যে কোনও ভাবে বকেয়া হওয়া টাকা আদালতের শরণাপন্ন হওয়া ছাড়া পাওয়া যায় না। আদালতে যেয়ে বকেয়া আদায় করা যে কত কঠিন তা ভুক্তভোগী ছাড়া কারো বলা সম্ভব নয়। গভর্নিংবডি দলীয়করণ হওয়ায় সামাজিক মর্যাদায়ও শিক্ষকরা পিছিয়ে, তবে হাই কোর্টের রায়ের কারণে এমপি মহোদয়রা ডিগ্রি কলেজের সভাপতি নেই, উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে তারা সভাপতি না থাকতে পারলেও তাদের মনোনীত প্রতিনিধিরা সভাপতি রয়েছেন। তবে মফস্বলে তারা সভাপতি থাক আর না থাক তাদের নির্দেশনা ছাড়া নিয়োগের ফাইল নড়েনা। এ অবস্থা থেকে শিক্ষক সমাজ মুক্তি পাওয়ার জন্য শিক্ষা ব্যবস্থার জাতীয়করণ পৃথক নিয়োগ কমিশন, বিভাগীয় পরীক্ষার মাধ্যমে প্রভাষক থেকে অধ্যাপক পর্যন্ত পদোন্নতি চান। শিক্ষকরা শুধু ট্রেড ইউনিয়নের জায়গা থেকে তাদের ভূমিকা পালন নয়, জাতি গড়ার কারিগর হিসেবে, দক্ষ, যোগ্য মানব সম্পদ তৈরিতে অবদান রাখতে চান। তাদের দিয়ে এই কাজগুলো করে নিতে সরকারকে উদ্দোগী হতে হবে, শিক্ষার অর্থায়ন বাড়াতে হবে। ইউনেস্কো এবং সংবিধানের শিক্ষা প্রসঙ্গে তারা যে অঙ্গিকারবদ্ধ হয়েছেন তা যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের শিক্ষার মান বৃদ্ধিসহ বিশ্ব শিক্ষক দিবসের তাৎপর্য রক্ষা করা সম্ভব। লেখক : কলেজ অধ্যক্ষ ও সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (বাকবিশিস) কেন্দ্রীয় কমিটি