বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির শান্তিতে নোবেল জয়

Posted: 11 অক্টোবর, 2020

একতা বিদেশ ডেস্ক : জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচিকে (ডব্লিউএফপি) এ বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। ক্ষুধামুক্ত বিশ্ব গড়ার লড়াইয়ে অনন্য ভূমিকার জন্য সংস্থাটিকে এ পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। নরওয়ের নোবেল কমিটি ৯ অক্টোবর এক সংবাদ সম্মেলনে ১০১তম নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য জাতিসংঘের এ সংস্থার নাম ঘোষণা করে। কার্যকর কোনও সংস্থা হিসেবে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)-ই শান্তিতে নোবেল বিজয়ী প্রথম সংস্থা নয়। এর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নও এ পুরস্কার পেয়েছিল। ডব্লিউএফপি মূলত জাতিসংঘের খাদ্য সহায়তা সংক্রান্ত শাখা। এটি ক্ষুধা ও খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা বিশ্বের বৃহত্তম সংস্থা। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির নিজস্ব তথ্যমতে, সংস্থাটি প্রতি বছর ৭৫টি দেশে আট কোটি মানুষকে খাদ্য সহায়তা দান করে। ডব্লিউএফপি-র সদর দফতর রোমে অবস্থিত। দুনিয়াজুড়ে এর ৮০টিরও বেশি শাখা আছে। এগুলোর মাধ্যমে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি এমন সব মানুষকে সাহায্য করে যারা নিজেদের জন্য এবং পরিবারের জন্য যথেষ্ট পরিমাণ খাবার উৎপাদন কিংবা সংগ্রহ করতে অক্ষম। সংস্থাটি জাতিসংঘ উন্নয়ন গ্রুপের নির্বাহী কমিটির সদস্য। চলতি বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য ২১১ জন ব্যক্তি এবং ১০৭টি প্রতিষ্ঠানের নাম জমা পড়েছিল নোবেল কমিটির কাছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং পরিবেশ আন্দোলনে নজর কাড়া সুইডিশ কিশোরী গ্রেটা থুনবার্গের নামও সেই তালিকায় ছিল। এ বছর নোবেল পুরস্কারের সম্মানী বাড়িয়ে এক কোটি সুইডিশ ক্রোনার করা হয়েছে। এমনিতে প্রতি বছর স্টকহোমে অনুষ্ঠান করে নোবেল পুরস্কার তুলে দেওয়া হয় বিজয়ীদের হাতে। সেখানে তারা বক্তৃতাও দেন। তবে এবার করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে রাজকীয় সেই আয়োজন থাকছে না। তার বদলে নোবেলজয়ীরা নিজের দেশে বসে ওয়েবিনারে অংশ নেবেন নোবেল পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে। আগামী বছরের পুরস্কার বিতরণীতে তাদের স্টকহোমে আমন্ত্রণ জানানো হবে। সুইডিশ বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেলের শেষ ইচ্ছা অনুসারে গবেষণা, উদ্ভাবন ও মানবতার কল্যাণে অবদানের জন্য প্রতি বছর চিকিৎসা, পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন, সাহিত্য, শান্তি ও অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়। ইরিত্রিয়ার সঙ্গে দুই দশকের যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে গতবছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ আলী। ইতোপূর্বে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, জিমি কার্টার, পাকিস্তানের নারী অধিকার কর্মী মালালা ইউসুফজাই, জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান, নেলসন ম্যান্ডেলা, মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র এ পুরস্কার পেয়েছিলেন।